সারা দেশে পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট চলছে

0
25
ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ সারা দেশে নয় দফা দাবিতে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করছেন শ্রমিকরা।

সোমবার (১৫ই এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে খুলনা অঞ্চলের নয়টিসহ সারা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২২টি পাটকল একযোগে এই কর্মসূচি পালন করছে।

আর এই ধর্মঘটের কারণে খুলনা সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ। এছাড়া চট্টগ্রাম-রাঙামাটি এবং খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্ট শ্রমিক নেতারা জানান, এর আগে দুই দফা একই দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি পালন করলেও বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি পূরণে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। যে কারণে নতুন করে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক নেতারা আরও জানান, মজুরি বাড়ানোর দাবি পূরণ তো দূরের কথা, বকেয়া বেতন কবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস আমরা পাইনি। যে কারণে গত ১২ এপ্রিল বিকেলে খুলনা মহানগরের খালিশপুর বিআইডিসি সড়কে পিপলস জুট মিল গেটে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশ থেকে নয় দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি হচ্ছে ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল টানা ৯৬ ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন ও প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ। এরপর বিরতি দিয়ে ২৫ এপ্রিল প্রত্যেক মিলে শ্রমিক সভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল টানা ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ।

আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা জানান, খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম, ইস্টার্ন এবং যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলে বর্তমানে ১৩ হাজার ২৭১ শ্রমিক কাজ করছেন। মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, বিজেএমসির চেয়ারম্যান মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের আন্দোলন চলবেই।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরি ও বেতন প্রদান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি এবং উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ-গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাট কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা।

LEAVE A REPLY