ঈশ্বরদীতে খেজুরের রস সংগ্রহের পর তৈয়ারি হচ্ছে খেজুর গুড় ॥ গাছিদের ব্যস্ত সময় কাটছে

0
49

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে ॥ খেজুর রস সংগ্রহের জন্য ঈশ্বরদীর প্রত্যন্ত এলাকায় গাছিরা এখন মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার সর্বত্রই খেজুরের গাছ তৈরি শেষ হলেও শুরু হয়েছে এখন রস সংগ্রহের পালা। ফলে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিক মধু বৃক্ষকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে উৎসব মুখর পরিবেশ।

উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট-বড় বিভিন্ন রকমের খেজুরের গাছ ঝুঁকি নিয়ে গাছিরা গাছের তোলা কাটা শেষ করেছে। কোমরে মোটা রশি বেঁধে গাছে ঝুঁলে ঝুঁলে রস সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে গাছিরা। পেশাদার গাছিদের তেমন কোন সমস্যা না হলেও রস সংগ্রহের এক শ্রেণির উৎসুক মানুষও পিছিয়ে নেই। তারা দূঃসাহসিক শক্তি নিয়ে গাছে ওঠা নামা করেছে রস সংগ্রহের জন্য। আশ্বিনের শুরুতেই গাছের তোলা ও পরিচর্যা করে আসছেন গাছিরা। খেজুরের রসের গুড় ও পাটালি উৎপাদনের জন্য উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের সুখ্যাতি রয়েছে। এই এলাকার খেজুর গুড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয় হচ্ছে প্রতিনিয়িত।

উপজেলার গ্রাম্য মেঠো পথের ধারে রয়েছে খেজুরের গাছের সাড়ি। এছাড়া মাঠের বিভিন্ন আইলে এবং ক্ষেতের মাঝেও খেজুর গাছ দেখা যায়। বাণিজ্যিক ভাবে ঈশ্বরদীর অনেক কৃষক খেজুর গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন। খেজুর রস সংগ্রহ করে আমন ধানের নতুন পিঠা, পুলি ও পায়েশ তৈরির ধুম পড়ে গেছে গ্রামে গ্রামে। তাছাড়া খেজুরের গুড় দিয়ে মুড়ির মোয়া, চিরার মোয়া ও মুড়ি খাওয়ার জন্য কৃষক পরিবার থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে শীতের মৌসুম অতি প্রিয় হয়ে উঠেছে।

গাছিরা খেজুরের গুড় তৈরি করে ঈশ্বরদীর পাইকারি বাজারে ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। এই উপজেলার গাছিরা চার মাস ব্যাপি খেজুরের গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈয়ারি করে বিক্রি করার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে জোরে সোরে। রস জালিয়ে গুড় তৈরি করার পর বাজারে খেজুর গুড় বিক্রি করছে গাছিরা। তারা প্রয়োজনীয় খাবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে যে অর্থ যোগায় তা দিয়ে সারা বছর চলে তাদের সংসার। এখন ভরা মৌসুমে শীত জেঁকে না আসলেও গাছিরা তোলা তৈরি ঠুঙ্গি দরি মাটির হাঁড়ি বাঁকি কিনার কাজ সেরে নিয়েছে। বাড়ির উঠানে, বাগানে ও রাস্তার ধারে চুলা তৈয়ারি করে সেখানে গুড় বানানোর কাজ করে চলেছে উপজেলার গাছিরা।

ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গাছি হারুনুর রশিদ, আমজাদ হোসেন, ইসলাম প্রামানিক, শাজাহান আলী, রফিকুল ইসলাম, হাসানুর রহমান জানান, গাছ কাটার কাজ কষ্টের হলেও রস সংগ্রহে মজা রয়েছে। তৈরি খেজুর গুড় গাছের মালিককে দেয়ার পর এবং নিজের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের চাহিদা মিটিয়ে গুড় বিক্রি করে যে অর্থ আসে তা দিয়ে সংসার বেশ ভালোই চলে। তবে শীতের তীব্রতা বাড়লে খেজুর রস বেশি পাওয়া যায় এবং রস আরও বেশি মিষ্টি হবে সেই সঙ্গে গুড়ও ভাল হবে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল লতিফ বলেন, খেজুরের গুড় তৈরিতে কোন প্রকার কেমিক্যাল ব্যবহার না করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। শিশুদের মেধা বিকাশে খেজুরের রস এবং গুড় অতুলনীয়। পিঠা, পুলি, পায়েশ, মুড়ি ও চিরার মোয়া তৈরিতে গ্রাম বাংলায় খেজুরের গুড় ব্যবহার হয়ে আসছে। আমাদের দেশের গাছিরা চার মাস ব্যাপি খেজুরের গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈয়ারি করে তা বিক্রি করে থাকেন।

LEAVE A REPLY