ওপার বাংলার কবি ও লেখক রুনু ভট্টাচার্য এর ভিন্নধারার অসাধারন ভ্রমণ কাহিনী “সৌন্দর্যের রানী ভূটান”

0
48
ওপার বাংলার কবি ও লেখক রুনু ভট্টাচার্য

“সৌন্দর্যের রানী ভূটান”

                                            ✍ রুনু ভট্টাচার্য

ভূটান বেড়ানোর জন্য পারমিট লাগবে।বিনা মূল্যে এই পারমিট পাবেন ফুন্টসেলিংয়ের ভূটান গেইট ও পারো বিমানবন্দরে। সঙ্গে রাখবেন ছ’কপি ছবি আর ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ চরিত্র সরকারি আইডেন্টিটি কার্ড। এই পারমিট সব সময় সঙ্গে রাখবেন। ভূটানে যে ক’দিন থাকবেন,পারমিট হারালে জেল -জরিমানা হতে পারে। আমরা অবশ্য আমাদের গাড়ি নিয়েই শিলিগুড়ি থেকে হাসিমারা হয়ে ভুটানের প্রবেশদ্বার ফুলছিলিং গিয়ে,অন্য ওদের গাড়ি নিয়ে থিম্পু ভুটানের রাজধানী। অপূর্ব সুন্দর,শান্ত,স্নিগ্ধ পরিবেশর সাক্ষী হতে পারেন এই স্থানে এসে। ফুন্টসেলিং থেকে থিম্পুর দুরত্ব প্রায়   ২৭২ কিলোমিটার, ছ’ঘন্টার যাত্রাপথ। পাহাড়ের কোলে সাজানো এই সুন্দর শহর থিম্পুতে দেখে নিন নরজিন ল্যপ,টি,ভি টাওয়ার কিছু ভিউ পয়েন্ট,চিরিয়াখানা,থিম্পু গুম্ফা, হস্তশিল্পকেন্দ এবং সিনতোখা জং। এই জং এ সূর্যাস্তের আগে পৌছাতে পারলে শোনা যাবে লামা ও দ্রাপাদের মণ্ত্রোউচ্চারন ও গ্রন্থপাঠ এবং বিভিন্ন ভিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের গম্ভীরশব্দ।নির্জন এই পর্বতের উপর এই ঘটনা স্মৃতির মনিকোঠ
অক্ষয় হয়ে থাক
থিম্পু থেকে চলুন পুনাখা। প্রায় ৮৬ কিলোমিটার এই পথ যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘন্টা। এই যাত্রা পথে রয়েছে শতাধিক চর্তেন ও বৌদ্ধ মন্দির। এই পাশের সর্বোচ্চ স্থানটি থেকে বিভিন্ন
হিমশৃঙ্গ দৃশ্যমান।দৃশ্যমান ঝল,মলে রোদ থাকলে পরিস্কার দেখা যায় শৃঙ্গগুলি।এই পাসের বৌদ্ধমন্দির টির বাইরে দ্বাঁরিয়ে পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা ভাগ্যের ব্যাপার।পুনাক্ষা পৌছাতে সময় লাগে আরাই ঘন্টা।পুনাক্ষার মুখ্য দ্রষ্টব্য পুনাক্ষা জং। ভুটানের অন্যতম পবিত্র এই জং।জংএর দু’পাশ দিয়ে বইছে ফচু এবং মচু নদী।
এবার পারো- পারো থেকে চললাম চেলেলা পাস।
পাহাড়ের পাকদণ্ডি পথ পেরিয়ে ঘন্টা দু’য়েকের এই যাত্রাপথে উপভোগ করি নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।পাখ-পাখালির কলকাকলি মুখরিত করেছে সমস্ত পথটি। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ভূটান ভ্রমন আদর্শ। জয়গাঁ থেকে ভূটানে প্রবেশের পর চমকিত হতে হয় দেশের পরিচ্ছন্নতা দেখে।বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ,দোকান, গাড়ি চালকের ব্যবহার মুগ্ধ করে সবাইকে।যান চলাচল ব্যবস্থা যেন প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করেই চলে।
আসার পথে সত্যিই খুব কষ্ট হয়ে ছিল,
এই সৌন্দর্যের রানী কে ছেড়ে আসতে।

LEAVE A REPLY