শিক্ষার্থী নির্যাতন এবং ডিম ছুঁড়ে মারার ঘটনায় ঢাবিতে উত্তেজনা!

0
56

ঢাকা প্রতিনিধি:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের (এস এম হল) শিক্ষার্থী ফরিদ হাসানকে বেদম প্রহার করে হল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ৫০/৬০ জনের একটি দল নিয়ে ফরিদ হাসানকে নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে মিছিল করতে করতে এস এম হলে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে।

তার সাথে এসময় শামসুন্নাহার হলের ভিপি তাসমিন আফরোজ ইমিসহ বিভিন্ন হলে যারা স্বতন্ত্র জয়ী হয়েছিলো তারাসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন। তাদের মিছিলটি হলে পৌঁছালে ছাত্রলীগ পাল্টা মিছিল বের করে।

এক পর্যায়ে নুরুল হক নুরের সাথে আসা মেয়েদের লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা জানান।

এরপর ফেসবুক লাইভে এসে শামসুন্নাহার হলের ভিপি তাসমিন আফরোজ ইমি বলেন, সবাই জানেন ফরিদের সাথে কি হয়েছে। আমি একটি হলের নির্বাচিত ভিপি। আমি তাদের মতো কারচুপি করে ভিপি হইনি। তারা আমার গায়েও ডিম মেরেছে। আমি এখন প্রক্টর অফিসে যাবো, আমি এর বিচার চাই। আমি দেখেছি, রায়হান ছিল, নাজমুল ছিল। ওখানে আরও যারা ছিল আমি সবাইকে চিনি। এই হলের (এমএম হল) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাপস ছিল। সে নিজে একটা অছাত্র। সে আমার সঙ্গে বেয়াদবি করেছে। সিমন ছিল, সে আমার গায়ে হাত দিয়েছে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে ইমি বলেন, এই হয়রানির বিচার চাই। এর যদি বিচার না হয়, আমি এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।

প্রত্যক্ষদর্শী এন এইচ সাজ্জাদ জানান, বাইরে যখন এমন পরিস্থিতি তখন প্রাধ্যক্ষের রুমে ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে একাই ছিলেন ডাকসু ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক। সেখান থেকে ব্যাপক চিত্‍কার, হৈ চৈ, চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে। তবে সাংবাদিকদের সেদিকে যেতে দেয়া হয়নি।

পরে হল প্রাধ্যক্ষ আসার বেশ কিছুক্ষন পর ডাকসু ভিপি সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।

প্রসঙ্গত, ফরিদ হাসান সাম্প্রতিক ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে এসএম হল থেকে ছাত্রলীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে পরাজিত হন।

সোমবার রাতে তাকে বেদম প্রহার করে হল থেকে বের করে দেয়ার পর হলে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এরই প্রতিবাদে ডাকসু ভিপিসহ বিভিন্ন হল সংসদে স্বতন্ত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য এসএম হলে যান।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুল আলম জোয়ারদার বলেন, ছাত্রদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। এখন সব শান্ত হয়েছে। ভিপিকে অবরুদ্ধে করা হয়নি। আর কোনো হামলার ঘটনাও ঘটেনি।

এদিকে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান তাপস বলেন ডাকসু ভিপিকে তারা অবরুদ্ধ করেননি।

তার দাবী, হলে বহিরাগতরা এসেছিলো তদের ভুয়া বলে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভিপিকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। তিনি এসে প্রাধ্যক্ষের সাথে কথা বলে চলে গেছেন। তবে মেয়েদের নিয়ে হলের ভেতরে আসায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে।

LEAVE A REPLY