কবি ও লেখক আইরিন আক্তার এর গভীরতম অনুভুতির লিখা “না পাঠানো চিঠি”

0
115
আইরিন আক্তার

” না পাঠানো চিঠি”

                     আইরিন আক্তার

প্রিয় মেঘ,
বরাবরের মতোই ভালো আছো নিশ্চই।
আমিও বেশ আছি। কতকাল চিঠি লেখা হয়না তোমাকে। প্রায়শই ভাবি তোমাকে একটা চিঠি লিখি, আর পাঠিয়ে দিই।
মনের অব্যক্ত কথা গুলো খুব ঘটা করে বলবো, শোনাবো। হয়তো সেই সময়টুকুও হয়ে ওঠেনা তোমার, নয়তো দুজনের। কিছু কথা মুখে না বলে চিঠিতে দিলেই ভালো হয়।

মেঘ, তোমার কি মনে আছে, একদিন তোমাকে রান্না করে খাওয়াবো বলে কতোই না আয়োজন করেছিলাম। তুমি আসবে বলেও আসোনি। একদিন বলেছিলে, “শাড়ি পড়ে তৈরি থেকো আজ তোমাকে জোছনার আলোতে দেখবো”। শাড়ি, চুড়ি, লালটিপ কতো কিছুই না পড়েছিলাম সেদিন, তুমি সেদিনও আসোনি। কিঞ্চিৎ পরিমাণ অভিমানও করেছিলাম। তুমি কতোই না অবুঝ ছিলে, অভিমানে ভরা রক্তচক্ষুর ভাষাটুকুও বুঝতে পারতে না তখন। তবে এখন বেশ ভালো বুঝো।

সেদিন দেখলাম বৈশাখি মেলায় দিব্বি বান্ধবীর হাতটি ধরে হাটছো। খুব নিকটেই ছিলাম তোমার হয়তো চোখে পড়েনি। অথচ একটি সময় ছিলো আমাকে না দেখলে তোমার নাকি ভালো ঘুমই হতোনা। আমি শুভ রাত্রি না বললে ঘুমের ঘরে যেতে না, শুভ সকাল না বললে তোমার সকাল হতো না। আজকাল তুমি ওই দূর আকাশের গল্প হয়ে গেছো, আর আমি?

শত আভিমানের স্তুপের মেঘেঢাকা চাঁদ
আমি কখনোই চাইনি ভুলে যাও। ভালোবাসা নাইবা থাকুক আমাদের মাঝে, তবুও তুমি পাশে থাকো এটুকুই তো চাওয়া ছিলো আমার। বলতে,”ভালোবাসি অনেক বেশি”, তোমার সেই কথার প্রতিধ্বনি গুলো এখনো কানে বাজে। আমি মুগ্ধ হয়ে শুনতাম, তুমি বলতে, “যদি সম্ভব হতো তোমাকে নিয়ে চাঁদে পাড়ি জমাতাম”। আরও বলতে আমি নাকি তোমার অভাবী সংসারের আলুভর্তা। আমি হেসে বলতাম কি বাজে বকছো তুমি। সেদিন হয়তো তোমার অভাবী সংসারের আলুভর্তা বলার মূল্যটা বুঝতে পারিনি,তবে এখন বুঝি।

জানো মেঘ, আমি এখন আর আকাশের চাঁদ দেখতে পারিনা, কারণ ওই চাঁদ আমাকে তোমার ছায়ায় পৌছে দেয়।তুমিতো অন্য কারো আলোকিত গল্প হয়ে গেছো, আমি এখনো আধারেই পড়ে রয়েছি। তুমি ঠিকই বলেছিলে,আমি মোহদাসীও বটে। তোমার স্মৃতি গুলো জেকিয়ে ধরে আজ অব্ধি বেঁচে আছি।

আর তো কিছুদিন………….
সে ক’টা দিনও না হয় তোমার স্মৃতিতেই বাঁচিয়ে রেখো। ঔষুধের সাথে ভয়ানক শত্রুতা ছিলো, তবে আজকাল বেশ সখ্যতা হয়ে উঠেছে আমার। সূঁচের নোখ গুলো এখন আর শিরায় আঘাত করতে পারেনা,
হৃদয়ের আঘাতের কাছে এই ব্যথা গুলোকে পিঁপড়ের কামড়ের মতো মনে হয়। একদিন তোমার ডায়েরীতে লেখা “না বলা ভালোবাসা” নামক কবিতাটি চুপিচুপি পড়ছিলাম বলে খুব রাগ করেছিলে,
আজ আমার ডায়েরীর প্রতিটি পাতায় পাতায় তুমি মিশে আছো।

না পাঠানো চিঠি হয়ে আছো ডায়েরীর ভাঁজে, তবে আমার বিশ্বাস একদিন ঠিকই তুমি এই চিঠি গুলো পড়বে। মনে রেখো, আমার সবটুকু জীবন তুমিময় ছিলো, তুমিময়ই থাকবে। ভালো থেকো প্রিয়, অনেক অনেক ভালো থেকো।

ইতি
তোমার, মেঘে ঢাকা চাঁদ….

LEAVE A REPLY