কবি আহমেদ ফারুক মীর এর কবিতা ” পাথরের মূর্তি ও আদিম রসায়ন” ফাল্গুন দুহিতা রুমকি আনোয়ারের অনুমতিক্রমে গত তিন মাস থেকে ফাল্গুনের কৃষ্ণ চূড়ার সেরা থেকে প্রকাশিত হল ।

1
80
কবি আহমেদ ফারুক মীর

পাথরের মূর্তি ও আদিম রসায়ন

                                       আহমেদ ফারুক মীর 

!
ছেলেটা পাথরের কাজ করে,
মেয়েটা বেতস কারিগর,
সমান্তরালে তাকালে মেয়েটা চোখ সরিয়ে নেয়,
বাতাবি লেবুর গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা যায় ছেলেটার শক্ত বুক,
ঘর্মাক্ত কালো হাত, জীবিত পেশি;
মেয়েটা তাকিয়ে থাকে,
লজ্জায় নিজের দিকে তাকাতে গিয়েও পারেনা,
আড় চোখে তবুও আঁটো স্তনের দিকে তাকায়,
ধুকপুক করে ওঠে বুকের মাঝামাঝি কোথায় যেন…
মেয়েটা বেতের কাজে মন দেয়,
কিন্তু শান্ত একটা সাপ তাঁর কোমর বেয়ে আরও উপরে
উঠতে থাকে,
মোচড় দিয়ে কেঁপে কেঁপে ওঠে বুক।
ছেলেটা পাথরের কাজ করে,
শক্ত হাতে পাথর কেটে মূর্তি বানায়,
মূর্তির যোনিতে শিল্প করতে গিয়ে ওর শরীরেও ঝলক
লেগে যায়,
স্তনের কারুকাজে আরও বেশি সময় নেয়
ছেলেটা,
বাতাবি লেবুর পাতার ফাঁক দিয়ে আনমনে বেত বোনা
মেয়েটাকে দেখে নেয়,
মুক্ত বাতাস লেগে বুকের পশম তিরতির করে নড়ে,
তিরতির করে বুকের ভেতরটাও,
ইন্দ্রীয়রা আরো সজাগ হয়ে ওঠে,
বিশেষ করে খরগোশে কানগুলো…
ছেলেটা ভুলে নিজের হাতের আঙুলে হাতুরী চালায়,
ভুল আঘাতে মূর্তির স্তনের শক্ত বোঁটা ভেঙে পড়ে
মাটিতে,
মেয়েটা মুখ টিপে হেসে নিজের বোঁটায় আনমনে হাত
রাখে,
মনে হয় পাথুরে বোঁটাটুকু তারই স্তনাগ্র,
মেয়েটার চোখ বন্ধ হয়ে যায়,
নিঃশ্বাস ঘন হয়,
ছেলেটা খুঁজতে থাকে শক্ত পাথুরে বোঁটা,
পাথুরে দেয়ালে তৈরী হয় জীবন্ত নারী,
শিল্প বলে যাকে; তা গড়তে গিয়েও কামনা জেগে ওঠে
জীবনের,
হয়ত পাথুরে মানুষের মাঝেও কেউ কেউ খুঁজে ফেরে
নিজের নারীকে…
হয়ত জীবন, প্রেম, কাম সব এভাবেই বেঁচে থাকে…
জীবন্ত ভালোবাসাও দিনশেষে খুঁজে ফেরে স্নিগ্ধ
শরীর,
হোক পাথর অথবা মাটি অথবা ভেনাসের ছবি…

1 COMMENT

  1. পাথরের মূর্তি ও আদিম রসায়ন ( আহমেদ ফারুক মীর ) It’s really a mind blowing poem . It take u to the end of poem ! And that’s the successful for a poet ! I hope near future Mir will become a great and popular poet .My wish always with him .

LEAVE A REPLY