ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ অটো রাইচ মিল ওনার্স পাবনা জেলা কমিটির অভিষেক ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

0
56

সেলিম আহমেদ ঈশ্বরদী থেকে ॥ বাংলাদেশ অটো রাইচ মিল ওনার্স পাবনা জেলা কমিটির অভিষেক ও পরিচিতি সভা আজ শনিবার দিন ব্যাপি ঈশ্বরদী-পাবনা সড়কের মল্লিক অটো রাইস মিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবনা জেলা অটো রাইচ মিল কমিটির অভিষেক ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অটো রাইচ মিল ওনার্স কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি একে এম খোরশেদ আলম খান। দুপুরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যাহ্ন ভোজ এবং বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ অটো রাইচ মিল ওনার্স পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব সাহাব উদ্দিন নান্নু মল্লিকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ অটো রাইচ মিল ওনার্স কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারন সম্পাদক ও রোজ এগ্রো গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ আজিজ, বাংলাদেশ অটো রাইচ মিল ওনার্স কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক, সাধারন সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, শফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও পাবনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম খাঁন, পাবনা জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক আসলাম উদ্দিন, ঈশ্বরদী উপজেলা চাউল গম ও ফিড ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি ও খায়রুল গ্রুপ অব ইন্ডাস্টিজ এর স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম, ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহা উদ্দিন ফারুকী, সাব রেজিষ্টার পাবনা সদর ইব্রাহিম আলী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবাসিক প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান, ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব এরশাদ আলী, বটতলী ইউপি চেয়ারম্যান এম এ মমিন মন্ডল ও ব্যবসায়ি আলহাজ্ব সাইদুল ইসলাম মান্না সরদার। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অটো রাইচ মিল ওনার্স পাবনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আরজ ফকির ও এম এ খালেক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঈশ্বরদী উপজেলা চাউল গম ও ফিড ব্যবসায়ি সমিতির সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল।

বক্তারা বলেন, পাবনা জেলা অটো রাইচ মিল মালিকদের উপর নানা চাপ প্রয়াগ করা হয়েছে। ব্যবসায়িরা সঠিক ভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেনি। দির্র্ঘ দিন ধরে আমাদের কোন কমিটি ছিলনা। এই সুযোগে এবছর খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহের সময় নানা দূর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে। আমরা যারা অটো মিলের ব্যবসা পরিচালনা করছি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ করতে অনেককে জমি বিক্রি করতে হয়েছে, মিল বন্ধ রাখতে হয়েছে। অটো মিলের ব্যবসা করতে নানা রকম লাইসেন্স নিতে সমস্যা পোহাতে হয়। দেশে আগে বিঘায় ১০ মন ধান হতো বর্তমানে এক বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ মন ধান উৎপাদন হচ্ছে। আমাদের ব্যবসায়িরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চাউল উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানী করে থাকেন।

বক্তারা আরও বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রধান হচ্ছে খাদ্য। এক সময় মানুষ না খেয়ে মারা যেতো, এখন আর দেশের কেউ না খেয়ে মারা যায়না। এখন সময় পাল্টে গেছে দেশ এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। আমরা চাউল উৎপাদন করে থাকি বিধায় দেশ খাদ্যে স্ময়ং সম্পূর্ণ। দেশে প্রচলন আছে মোটা চাউল কেটে সরু চাউল তৈরি করা হয় এটা ঠিক নয়। আমরা কখনোই মোটা চাউল কেটে সরু চাউল তৈরি করিনা। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের অটো রাইচ মিল ব্যবসায়িদের উপর সঠিক নজর নেই। ব্যবসায়িরাই দেশ পরিচালনা করে থাকেন। আমরা চাউল উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশ অচল হয়ে যাবে। বহিঃ বিশ্বে কৃষকেরাই ভিআইপি, সিআইপি ভূষিত হয় কিন্তু আমাদের দেশে এর উল্টোটা। কয়েকটা মেশিন নিয়ে একটি গার্মেন্টস করে তারা ভিআইপি হয়ে যায়। বর্তমান বিশ্ব মুক্তবাজার অর্থনীতির উপর নির্ভর করছে। অটো রাইচ মিল একটি পরিবেশ বান্ধব শিল্প অথচ এই শিল্পের উপর সরকারের নজর নেই। আমরা যারা ব্যবসা করি আমাদের ট্যাক্্েরর টাকায় দেশ পরিচালিত হয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY