আমেরিকা থেকে কবি ও লেখক সাহানুকা হাসান শিখা এর নূতন প্রজন্মদের নিয়ে লেখা “অভিভাককের সতর্কতা”

0
90
কবি ও লেখক সাহানুকা হাসান শিখা

“অভিভাককের সতর্কতা”

                                           সাহানুকা হাসান শিখা

বাবা মা সন্তান জন্ম দেন, কিন্তু সবাই সন্তানকে ঠিকমত টেককেয়ার করতে পারেন না। শুধু লেখাপড়ায় ভালো করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানালেই হয় না, তাকে মানুষের মতো মানুষ করা, তার মাঝে মানবতা বোধ জাগিয়ে তোলা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেদিকে বাবা মা মোটেই খেয়াল করেন না,বাচ্চাদের চাহিদা মনমানসিকতা এসব নিয়ে তারা মোটেই ভাবেন না,যখন তখন কড়া শাসন করেন। তাদের কে হেয় করে কথা বলা,দুই অথবা তিন জন বাচ্চা পরিবারে থাকলে তাদের মধ্যে সব বিষয়ে তুলনা করে কথা বলা, যেমন ও লেখাপড়ায় খুব ভালো,তুমি মোটেই ভালো নও? ওর মতো হওয়ার চেষ্টা করো, অনেক সময় মা বান্ধবীদের সাথে গল্প করছেন, আমার মেয়ের রং টা শ্যমলা, ঐ কালারটা তাকে মানায় না, আমার বড় মেয়েট একেবারে দুধে আলতা,
ওকে সব রং ই মানায়, আমি বেঁচে গেলাম কাপড় নিয়ে কোন ঝামেলা নেই। আড়াল থেকে ছোট মেয়েটি যখন সব শুনলো তার ভিতর কি কষ্ট শুরু হলো সেটা শুধু সেই জানে, মা জ্ঞানের অভাবে তা বুঝতে পারে না। প্রিয় অভিভাবকগণ কখনও সন্তানদের মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে দিবেন না, সব সময় তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করবেন সকল বিষয়ে,তাদের ভয়ের মধ্যে রাখবেন না।

ভয়ের মাঝে থাকলে সে আপনাকে সব বিষয় লুকিয়ে যাবে, ভালোমন্দ কিছুই বুঝবে না তাতে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে, সেই ভয় আর লুকোচুরির মাঝে সে খারাপ পথে না বুঝেই পা বাড়াবে। আপনারা সবাই আপনাদের সন্তানকে প্রাণের চেয়েও বেশী ভালোবাসেন তাতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু অভিভাবকের ছোটখাটো ভুলের জন্য বাচ্চার জীবনে অনেক বিপদ ডেকে আনে। বাচ্চারা কমল মনের, ফুলের পাপড়ির মত ওদের মন,কিছু কিছু বাচ্চারা খুবই আবেগপ্রবণ কিছু কিছু কথা তাদের মনে প্রচণ্ড দাগ কাটে। আর তারা সে সব মনের মধ্যে পোষণ করে বিষন্নতায় ভোগে। যেমন আজকাল কিছু বাচ্চারা বয়সের তুলনা অনেক বড় এবং স্থূলকায় হয়ে যায়।

বাইরের ফাস্ট ফুড পছন্দ করে, বাবা মা আদর করে রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়ান, আবার যখন চোখে পড়ে বাচ্চা মোটা হয়ে যাচ্ছে,তখন খাওয়াতে বসলে প্লেট কেড়ে নেন আর বলেন কম করে খাও, দেখছো না কেমন মোটা হয়ে যাচ্ছো , জামা কাপড় গায়ে হচ্ছে না। এই সব উক্তি বাচ্চাদের প্রচণ্ড আঘাত দেয় প্লীজ এসব করবেন না,বরং কোন খাবার তাদের শরীর ভালো রাখবে সেদিকে নজর দেন। এমন ভাবে ডায়েট করবেন যাতে সে বুঝতে না পারে। বাচ্চাদের দুর্বলতার কথা কখনই তাদের সামনে প্রকাশ করবেন না। সব সময় শুধু উৎসাহ দিবেন, তাঁরাই আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে মায়েদের এই ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হওয়া প্রয়োজন,না হলে আবেগপ্রবণ হয়ে অনেক মারাত্মক ঘটনা ঘটাতে পারে, তখন আফসোস করে লাভ হবে না।

মা বাচ্চাদের একমাত্র ভালো বন্ধু, যার কাছ থেকে সে প্রাথমিক ভালো শিক্ষা পেতে পারে। আপনারা যদি আপনাদের স্বামীদের কাছ থেকে কোন খারাপ ব্যবহার পেয়ে থাকেন অনেক ভুল ত্রুটি থাকে তাদের মাঝে যা আপনার শাশুড়ী মা তার ছেলেকে হয়তো শিক্ষা দিতে পারেন নাই, যার ফলে আপনি কষ্ট পান মাঝে মধ্যে। আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করবেন আপনার ছেলেকে সে সব ব্যাপারে পূর্ণ শিক্ষা দান করতে। তাহলেই আপনার বউ মা আপনারই মত একজন মেয়ে সে সুখি জীবন যাপন করবে,আপনার ছেলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।

LEAVE A REPLY