বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রেস ক্লাবে হাতি-ঘোড়া মারলে হবে না

0
25

 ঢাকা প্রত‌িনি‌ধি‌ঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারই বন্দী করে রেখেছে বলে দাবি করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তাকে মুক্ত করতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ও প্রেস ক্লাবের ভিতরে গরম গরম হাতি-ঘোড়া আর মাইরেন না। আপনাদেরকে রাস্তায় থাকতে হবে। আপনারা আগামী ১৭ দিন রাস্তায় থাকেন, প্রত্যেক দিন মিছিল করেন, প্রত্যেক দিন ট্রাক মিছিল করেন। ঢাকা শহরে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে যেন আপনাদের চেহারা দেখা যায়। আমি খুশি হতাম, আজকে যদি বিএনপির এক হাজার মহিলা এখানে দুই ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকতেন, এক হাজার মহিলা ৫০টি ট্রাক নিয়ে ঢাকা শহরে প্রদক্ষিণ করে একটা স্লোগান দিতেন- গণতন্ত্র চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।’

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘খালেদা জিয়ার এখনই মুক্তি চাই’ শীর্ষক ব্যানার নিয়ে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সংগঠনের মহাসচিব আ ফ ম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম শিশির, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহজাহান সম্রাট, মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিএনপিকে সক্রিয় করতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পরামর্শ দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই প্রতিষ্ঠাতা। ‘তাড়াহুড়ো’ না করে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে সভা করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বলেন তিনি। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আপনি দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বসেন। তবে সেখানে আপনার সিনিয়র নেতাদের উপস্থিত থাকতে বলেন, তাদের মাধ্যমেই এসব মিটিং করেন। এই রকম রিজভীর (রুহুল কবির রিজভী) মাধ্যমে মিটিং ডাইকেন না। সরাসরি মিটিং ডাকেন। ড. মোশাররফ-মওদুদ-হাফিজকে সামনে রেখে। তাহলেই দেখবেন আন্দোলনটা গড়ে উঠবে।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ‘আপনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে ধৈর্য ধরতে হয়, তাকে তাড়াহুড়া করলে হয় না। আপনার ওপরে অনেকেই চেয়ে আছেন। অনুগ্রহ করে তাড়াহুড়া কইরেন না।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আপনি পরিষ্কার করে বলুন, খালেদা জিয়ার জামিনে আপনি কোনো রকম বাধার সৃষ্টি করবেন না, এদিকে নাক গলানো বন্ধ করবেন। তাহলেই দেখবেন বিচারকরা নড়তে পারবেন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন ভারতে সফরে গিয়ে ‘অসম চুক্তিতে’ সই করেছেন বলে দাবি করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পহেলা চুক্তি কী? মাথা ধোলাই করা। আমাদের ১৮০০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ভারতে ট্রেনিং দেওয়া হবে। যেখানে গরু রাখার জন্য মানুষ হত্যা করে, মানুষের অধিকার নাই, সে দেশে কী শেখার আছে?’ তিস্তা চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়ার সমালোচনাও করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।’

LEAVE A REPLY