প্রতিভা সন্ধান কাব্য পরিষদ এর ২৮/০৯/২০১৮ তারিখের সেরা লেখা কবি অনিক উদ্দিন এর কবিতা ” বীরত্বের ইতিহাস”

207

বীরত্বের ইতিহাস (পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে রচিত)

অনিক উদ্দিন

অভিমুন্য সেই অভিমুন্য
যার কবজায় কড়া পড়ে গেছে তলোয়ার মুঠো ঢলে,
যার পদভারে রণভূমি ত্রস্ত ওঠে দোলে।
জীবনের মহাপরীক্ষা মহারণে আজ উদ্দাম ঝড়ে,
মহাকাব্যের পান্ডুলিপি পান্ডুর শিবিরে শোনিতের অক্ষরে,
লেখা হল চিরদিনের বীরগাঁথা।
অভিমুন্য নিয়ে এলো সেই বারতা।
সেই দূর্বার প্রানস্রোতে টগবগে তরুণ,
একহাতে নাঙ্গা তরবারী আর হাতে অস্ত অরুণ,
মহাউল্লাসে রুধির নদীতে সমর্পণ
করে বীর ,বীরের মত যুদ্ধের প্রতিটি ক্ষন
দেখালো পৃথিবীকে নব নব বিস্ময়ের চোখে।
স্বর্গ মর্ত্য উভয়ই নির্বাক চেয়ে দেখে।
অভিমুন্য সেই অভিমুন্য
যার চলার দাপটে কর্তিত শিরগুলো চূর্ণ চূর্ণ
হয়ে মরমর করে শত্রুর জিগরে দেয় বাড়ি।
শত্রু উদ্ভ্রান্ত ,অস্থির ভীতির চূড়ান্তে তুবড়ি
সুরে মত্ত হয়ে বিষের ক্লেশে মোচড়ে মোচড়ে,
নীল হয়ে কেঁপে ওঠে বারেবারে।
হায় হায় হায় এক বালক বধের নিমিত্তে
ছয় মহারথী তাকে বেষ্টন করে কৃপাণ হাতে!
সেকি বালক উন্মত্ত অসীম মহাপরাক্রমে
শত্রু ব্যূহ মাঝে জাগল মারীভয় মরমে মরমে!
একি এতো নয় বালক এতো শত্রুর মহাঅভিশাপ,
কাল দুষ্ট গ্রহের অনিষ্টের দুর্মদ উত্তাপ!
সেকি তীব্র তীক্ষ্ণ চাহনি রক্তচক্ষু জ্বলজ্বল করে,
সাতশ নরকের কালাগ্নি দুচোখ বেয়ে উন্মত্ত ঝরে!
প্রচন্ড ক্রোধের লাভায় কোশলরাজ কোথায় ভেসে যায়,
দূর্যোধন সূত লক্ষন শির তার বর্শা আগায় শোভা পায়!
কত রথী মহারথী ষোলো বছরের কাছে ধূলার মত,
শূন্যে মিলিয়ে যায় চোখের পলকে অবিরত!
ষোলো বছরের তান্ডব স্বর্গলোকেও হানা দেয় বিস্ময়ে,
দেবতার চোখ স্থির, জল পড়ে গেছে শুকিয়ে।
বসুধা বুকও আজ দ্বিধা হয়ে যায় রণক্ষেত্র হতে,
তার উন্মত্ত উদ্দাম প্রান জোয়ারের স্রোতে।
দ্রোন কৃপ কর্ন অশ্বত্থামা বৃহদ্বল কৃতবর্মা,
বালকের বিক্রমে সম্ভ্রম বিসর্জন দিল ছয় অকর্মা,
অন্যায় রণে নিপীড়িত করে বীরের মুখোশে
কৌরব শিবিরে চোরের মতন ফিরে আসে।
ধিক্ ধিক্ ধিক্ শত ধিক্ কাপুরুষের দল,
এক বালকের সাথে ছয় পুরুষের বীরত্বের ছল,
স্বর্গ দেখেছে মর্ত্য দেখেছে অসুর হেসেছে দেবতা কেঁদেছে,
রক্তের কালিতে বীরত্বের ইতিহাস কুরুক্ষেত্র রচেছে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY