তারুণ্যের কবি লাকী ফ্লোরেন্স কোড়াইয়া এর মনের মাঝে আঁকা প্রকৃতির এক অপূর্ব কবিতা “ প্রকৃতির নীরব প্রতিবাদ ”

364
তারুণ্যের কবি লাকী ফ্লোরেন্স কোড়াইয়া

প্রকৃতির নীরব প্রতিবাদ

                                 লাকী ফ্লোরেন্স কোড়াইয়া

শহরের খানিক দুরে সবুজে ঘেরা
ছায়াময় ছোট্ট গ্রাম,
নগ্ন পায় সবুজ তৃণ মাড়িয়ে
চঞ্চলতায় পার করেছি
আমার শৈশব আর কৈশর
শ্রান্ত-ক্লান্ত হয়ে কাটিয়েছি
কত ঝাঁঝালো তপ্ত দুপুর-
ঘন শ্যামল বৃক্ষরাজির ছায়ে!
পাখির কলরবে মেতে থাকত
ছবির মত গ্রাম আমার,
মনে পরে পাশ দিয়ে বয়ে
যাওয়া ছোট্ট স্রোতস্বিনীকে
কতই না সাঁতার কেটেছি
সকাল -দুপুর আর সাঁঝে।
আহা!বুকের সুধা ঢেলে
খড়ার অভিশাপ মুক্ত
করেছে বন্ধ্যা কৃষি ভূমিকে
করেছে পলি সমৃদ্ধ -উর্বর
দিয়েছে ফসল জন্মদানের –
অফুরন্ত সম্ভাবনা।
আজ দাঁড়িয়ে আছি
চিরচেনা সেই গাঁয়ে,
কোথায় সবুজ-শ্যামল ছায়া?
কোথায় লুকালো বিহঙ্গসব?
দানবের মত মাথা উঁচু করে
দাঁড়িয়ে আছে শপিং মল
দোকান আর ফাস্টফুডের সারি
মেঠোপথের চিহ্ন মুছে দিয়ে
পিচঢালা পথ চলে গেছে
গ্রামের বুক চিঁরে!
এখন সকাল-সাঁঝে
পাখিরা সুর তুলে না,
স্রোতস্বিনীর বুকের উপর
পরেছে হাজার ট্রাক মাটি
অবহেলার গ্লানি নিয়ে সে
চিরতরে মিশে গেছে
ধরিত্রীর বুকে-এখানে
গড়ে ওঠেছে বসতি।
কালের নীরব স্বাক্ষী হয়ে
আমি দেখেছি ধ্বংসযজ্ঞ,
একদিকে ধ্বংস করেছি,
অন্যদিকে মানবতার জয়ের
উল্লাসে মাতাল হয়েছি।
নিজ স্বার্থে নির্বিচারে
উজার করেছি বনভূমি,
ধ্বংস করেছি আপন পরিবেশ
ধ্বংস করেছি তোমার
নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠাকে।
আজ বিদ্রোহী প্রকৃতি
আমাকে নির্বাসিত করেছে
আপন গৃহ হতে।
ধিক্কার দিয়ে নীরব
প্রতিবাদে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়
তুমি নিজেকে মানুষ বলো?
চোখে আঙুল দিয়ে
আমাকে দেখায় আমারই পাপের ফসল-দেখায়
ঝলসে ওঠা শ্রীহীন প্রকৃতি
মরুময় পৃথিবীর নিরন্ন
বস্রহীন আর গৃহহীন
অসহায় মানুষ!!!

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY