”দহন” মূলত শুদ্ধ ভালবাসার অনুগল্প লিখেছেন কবি,লেখক শামসুন নাহার।

349
কবি,লেখক শামসুন নাহার।

দহন (অনুগল্প)
শামসুন নাহার

মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
অনেকক্ষণ ধরে ভাবছে মালতি বৃষ্টিতে ভিজবে নাকি ভিজবে না।মনের ভিতর অসহ্য যন্ত্রনা।
মানুষ কেন এমন হয়।
অভি ওকে বললেই পারতো—–
কিন্তু কি অভিনব কায়দায় এতগুলো দিনের সম্পর্ক অনায়াসে মুছে দিল।
তাহলে ওর পুরোটাই ছিলো অভিনয়।
কিভাবে পারলো ও??
সেই কবে দুজনে হেঁটেছিল সাইন্স সিটি,এ্যাপলো হাসপাতাল,সল্টলেকের সাজানো রাস্তার পাশ ধরে,
এ যেন জীবন্ত।
তবুও দুজন আজ দুদিকে।
কিছুতেই মানতে পারছে না মালতি।
ও বৃষ্টিতে নেমে যায়।ভিজবে আজ প্রচন্ড ভাবে ভিজবে।নিজেকে শুদ্ধ,পরিশুদ্ধ করে নেবে।
চোখের জল আর বৃষ্টির জল একাকার হয়ে যায়।
মনে পড়ে এমন ঝুম বৃষ্টিতে পড়েছিলো একদিন।পার্কের বেন্চ্ঞে বসেছিল দুজন। কখন যে মেঘ হয়েছিল খেয়াল করেনি।মনে হল মেঘ ছাড়া বৃষ্টি শুরু হয়েছে।তাড়াতাড়ী দৌড়ে একটা ছাউনিতে যেতে কাক ভেজা হয়েছিল দুজন।
কেমন যেন কাছে এসে গিয়েছিলো দুজন।আলতো একটা চুমু।যেন জগৎএর অষ্টম আশ্চর্য্য সৃষ্টি করেছিল।
আজ সে অনুভুতি যেন খুব বেশী দহন করছে।
আজ সেই মেঘ,বৃষ্টি সবই আছে।কপালে চুমুর অনুভুতিটা চোখের জলের সাথে মিশে গেছে বৃষ্টির জলে।

গতকাল এসেছিল অভি,আমি পারলাম না মালতি তোমার হতে,বাড়ী থেকে ভীষন চাপ অন্যত্র বিয়ে করার।বাবা অসুস্থ, মা কান্না করছে,ওদের শান্তির জন্য আমি আমার ভালবাসাকে বিসর্জন দিচ্ছি।
মালতি অপলক চেয়েছিল।
তারপর বলল যাও
সুখী হও।
যুগে যুগে এই এক শ্রেণীর মালতীরা থাকে,যারা অধিকার খাটায় না, বরং ত্যাগ করে অভিদের যাত্রাপথকে করে দেয় সুগম।আর নিজেরা দহনে দগ্ধ হলেও মুখ ফুটে বলেনা কিছুই।

আজ অভির বিয়ে।
মালতি ভিজছে বৃষ্টির জলে।
আহ্ এ জল শুধু বাইরে ঠান্ডা করে ভিতরে নয়।তবুও ভিজবে।সেই কপালের স্পর্শ বৃষ্টির পানিতে সারা শরীর ক্ষত বিক্ষত করছে।

তবুও শুভ কামনা অভির প্রতি
অভি সুখি হোক।
কারন মালতি একদিন ভালবেসে ছিল অভিকে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY