”পল্লী মায়ের সেবা” লিখেছেন কবি —–ইয়াসিন আরাফাত। যেটি প্রতিভা সন্ধান কাব্য পরিষদ ১/১১/২০১৮ তারিখের সেরা লেখা ।

259
কবি —–ইয়াসিন আরাফাত

পল্লী মায়ের সেবা
                   ইয়াসিন আরাফাত

মধ‍্য নিশিতে ঝাপসা নয়নে জমিছে অশ্রু ফোঁটা
জ্বরের বিবাদী নিতর অঙ্গ,তাপে যে পুড়িছে গা’টা।
কে যে দিবে আনি,এক গ্লাস পানি,নাহি কেহ মোর পাশে
পড়িছে গো মনে জননী তোমায়, সুদীর্ঘ অবকাশে।

দিতে যে দণ্ড করিতে দ্বন্দ্ব বেরোলে ঝড়ের দিনে,
“আসিবে রে জ্বর,যাসনে বাঁদর”বলিতে বাদল ক্ষণে।
সত‍্যিই যদি আসিতো গো জ্বর,বকা দিতে আরো বেশি,
“করেছিলুম-না;তবুও তো গেলি! হইয়াছি খুশি।”

নুয়াইয়া মাথা,জড়াইয়া কাঁথা,পড়িলে পালং ‘পরে,
ক্ষাণিক পরেই,আসিতে গো তুমি,বসিতে শিয়র ধারে।
রাখিয়া হাত উষ্ণ ললাটে,বলিতে ব্যাকুল মনে-
“এরে,কত জ্বর,আসিল যে তর!”বুঝাইতে অনুমানে।

“কেন শঁপিলাম,ক্ষুব্ধ হইলাম!”নিজেকেই দিতে দোষ,
অস্তির মনে গমন করিতে হারাইয়া স্বীয় হুঁশ।
দীর্ঘ নিশিতে জাগিয়া থাকিতে বসিয়া পালং পাশে
দুহাত তুলিয়া, নিদ্রা ভুলিয়া রোদন করিতে ঈশে।

“ওগো,ও বিধাতা,জগৎ কর্তা,রক্ষা কর তাহারে
দুলাল আমার চক্ষের মণি”বুক ভাসাইতে নীরে।
নড়িলে হটাৎ!কাতর কণ্ঠে,বলিতে মলিন মুখে-
“ভয় কেন পাস?বাছা আমি আছি,শেয়াল-কুকুর হাঁকে।”

তেষ্টা পাইলে শুষ্ক অধরে সলিল ঢালিতে বরে,
“মাথায় একটু পানি দিব বাপ?”শুধাইতে কত ধীরে!
মানা করিলেও পট্টি পড়ায়,শীতল করিতে ভাগ,
দিবস কাটিত নিদ্রার ছলে দাওনি কখনো ডাক।

তোমার সেবায় বিশ্ব কাঁপায়,অসুখ হয় যে দূর,
তুমি মা আমার স্বর্গ দ্বারের ক্লান্ত নিশির ভোর।।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY