ষড়ঋতুর চতুর্থ ঋতু হেমন্ত , তাই ওপার বাংলার কবি চিরশ্রী দেবনাথ হেমন্ত কে নিয়ে লিখেছেন কবিতা ” হেমন্তগুচ্ছ ”

566
ওপার বাংলার কবি চিরশ্রী দেবনাথ

হেমন্তগুচ্ছ

                         চিরশ্রী দেবনাথ

এক

………..
টুপটাপ  শিশির  ঝরছে,
গভীর উপত্যকায় নেমে আসছে
বিসর্জনের সন্ধ্যা,
নদীর বুকে কাল ভেসে থাকবে
ডাকের সাজ, শরৎপ্রেম,
কোথাও জমছে নিবিড় অভিমান
পা থেকে না পরা নূপুর খুলে যায় যদি যাক
জমে থাকুক নীরবতা, শিশির, ফুলদল
ঝলমলে রাত নেমে আসে অশান্ত অসুখে
অভিমান ছায়া হয়ে আরো দীর্ঘ হোক,
ঢেকে দিক আমায়,
কোন নিবিড় দুপুরে ছায়া আরো ঘন হবে
ছোট হোক আরো আরো, কালো গহীন,
মিশে যেও দেবীর মুখের ছোট্ট তিলে
তোমায় দেখবো আমি শরতে শরতে
মাটির কলসে পালতোলা মেঘের মত
ভেসে থেকো হালকা হয়ে, পলকা হয়ে, ঘন হয়ে….

দুই

ঘন কার্তিকে
ভরা ফসলের মাঠ

গহন এ নদী

ফসলের গান শুধু শীত দিয়ে যায়

আমি চেয়েছিলাম শরীর জুড়ে
নিশ্চুপ কুয়াশাপাত

তিন
………………

তোমাতেই আত্মস্নান
মেঘ নও জানি
তবুও লোভ

লোভই অমানিশা

দীপাণ্বিতা ফেলেছে পা
খুলে দিলাম তার আভরণ

আমি মিশে মিশে আছি শিশিরে
হেঁটে এসো, ফিরে আসুক সব নিভৃত

আবার অনাঘ্রাতা করো আমাকে
ওরে বিজন, ওরে কালো ….

চার
………………………..
রক্তবীজ, তুমিই কেবল
দেবীসুধায় মিশেছিলে,
দেখেছো কালো হৃদয়ে
সমুদ্র ও মরুভূমি,

মুন্ডমালা হয়ে তাই,
ছুঁয়ে আছো এখনো তাঁকে,

ঝরবে কোনদিন নোনা বৃষ্টি,
পৃথিবী সেদিন রক্তের স্বাদ ভুলে যাবে…
পাঁচ
……………………….
কালো মেয়ে খোলা চুলে
জিভে শুধু রক্তস্বাদ নিলে
অনিন্দ্যচুম্বন কেড়ে নিয়ে গেলো হৈমবতী ….

ছয়
………………………
হোক দেশ মৃত্যুভূমি
আমার নূপুরে
জ্বেলে দিয়ে যাই আলো
বসন পরি না আমি

সাত
…………………….

যদি হই কালো মেয়ে
থেমে থাকো এ অন্ধকার,

এ শ্মশান, এ মরণ এতো প্রিয় কেন আমার?

বাতাস ধীরে বহো

সমুদ্রঢেউ আছড়ে পড়ে পায়ে
এতো পূজা আর সয় না যে

দেবীচিহ্ন মুছে যা, যাঃ
জুঁইের মালা দিয়ো কাপালিক

সব বলি মুছে দিচ্ছি,
মধুদুগ্ধে ভাসাবো উপচার,

কেনো দেবী বলে ডাকো?

সেই তো একদিন !

ছায়া আমি,

জবার পাত্রে ভুলে যাওয়া
লাল রঙ …

আট
……………………….
মাঝে মাঝে পৃথিবীর পুরুষটির সঙ্গে দেখা হয়
হাঁটু ভেঙে বসে আছে সে, সামনে সেই নারী
দুজনেই চুপচাপ
মধ্যে বয়ে চলা মাখো মাখো যে নদীটি
সেখানে তাদের আসল কথাটি হারিয়ে গেছে ফলন্ত কুয়াশায়…

নয়
…………………….
অমাবস্যার ঘর
ঢেকে দিও নগ্নতা
খুলে ফেলেছে মুন্ডমালা
মায়াবী কালো মেয়ে,
তার আজ বিরহের স্বাদ জেগেছে
দেবতা তারে নদের স্পর্শ দিও….

দশ
………………..
ক্ষরণে উদ্বাস্তু রক্ত নিয়ে এতো অভিমান

বিশ্রামে মেলে দাও শরীর ততদিন মেয়ে,
যতদিন না সব দেবালয় ধুলোয় ঢেকে যায়

অববাহিকা জুরে এখন কেবল
শস্যের ঘ্রাণ, ফসলের সুখ,
ভাসানের ভোর নিয়ে গেছে
সব চিহ্ন, রক্ত, জারিত অশুচি ….

এগারো
…………………….
দেবতাদের বড় স্থলণের ভয়
নিষিদ্ধতায় স্বাদ বেশী বলেই হয়তো
পুজোর থালা তবে
প্রস্তর অঙ্গনে হেলায় থাক পড়ে
তীব্র অ্যাসিড ক্ষরণে পুড়ে যাচ্ছে কত মুখ
আমি তাদের পাশেই
লাল হচ্ছি ক্রমশ, বাড়ছে রক্ত চলাচল…ঢেকে যাচ্ছে ধূসর হেমন্ত
বয়ে যাচ্ছে ঋতুস্রাব, মন্দিরে ঢুকো না এখন মেয়ে …

বারো
…………………………

এ হেমন্তে, হঠাৎ, মৎস্যবাঁকে চকিত হরিণছায়া

হংসিনী গ্রীবায় যদিও মেলে দিয়েছো দিনান্ত

তবুও আশা করো না পদ্মগন্ধ

এতোটা জলজ বোধহয় নই আমি ….

Content Protection by DMCA.com

1 COMMENT

  1. ত্রিপুরার পর্বত দুহিতার মসির নাচন হেমন্তের শিশির পড়া মৃদঙ্গের তালে
    আপ্লুত হয়ে কুর্নিশ করছি তোমার ভাবাবেগ কে।

LEAVE A REPLY