শেষ জীবনে বাবা যেনো আমার মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিলেন। “বাবার খড়ম” লিখেছেন তারুণ্যের কবি হামিদা পারভিন শম্পা ।

278
তারুণ্যের কবি হামিদা পারভিন শম্পা

“বাবার খড়ম”

                 হামিদা পারভিন শম্পা

~~~~~~~~~~~~~~
টুক টুক করে হাটতেন বাবা
খড়ম পায়ে সারা বাড়ি ময়-
মিষ্টি শব্দটা কানে বাঁজতো
নানান ছন্দ তাল লয়।
ঘুম ভাঙতো প্রতিদিন
বাবার পায়ের শব্দে,
খড়মের আওয়াজ শুনতাম
জ্ঞান হওয়া অবধি।
পড়াশুনা করেছি এই
শব্দ শুনে শুনে-
বিরক্ত নয় সস্থি দিতো শব্দটা
সবসময় মনে মনে।
স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে পরবো
বাবার মত খড়ম,
যেই খড়মটা পরতো বাবা
শীত কিংবা গরম।
বড় হয়ে ধরলাম, বাবা
আর সংসারের হাল,
মাতৃহীন  সংসারে ছিলাম
আমি বাবার ঢাল।
অফিস থেকে ফিরে দেখি
বাবার মুখটি ভার।
বুকটা আমার কেঁপে উঠলো
পাশে বসে হাতটি ধরে বললাম,
বাবা কি হয়েছে তোমার?
হাসলেন বাবা বললেন, খোকা
খড়মটা আজ থেকে ছাড়ি?
খড়মের আওয়াজে ক্ষতি বাবুর
লেখাপড়ায় খড়মকে তাই আড়ি।
লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে গেলো
জলে ভরলো চোখ,
খড়মের শব্দে আমার ছেলের ক্ষতি
দেখাই বাবা কে কি করে মুখ!
আমার বাবা আর তার খড়ম
চিরদিন – ই রবে,
এই নিয়ে কোন কথা কোন দিন
এই বাড়িতে না হবে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY