ওপার বাংলার কবি সুনীতি দেবনাথ এর অসাধারন লেখা “অনন্ত প্রবাহ ”

297
ওপার বাংলার কবি সুনীতি দেবনাথ

   অনন্ত প্রবাহ

                     ———————-
                     © সুনীতি দেবনাথ

রাত যখন ক্লান্তির খেয়া বেয়ে ঝিমোয়
নিস্তব্ধ সমাপ্তির কিনারে ঝিমঝিম
একটা লক্ষ্মীপেঁচা তীক্ষ্ণ চোখে তাকায়
রাতজাগা অচেনা পাখি ভয়ে কেঁদে ওঠে
অন্ধকার কেঁপে চলে তিরতিরে জল যেন
ছায়ায় ছায়া হয়ে মাটি শুধু কেঁদে চলে।

যারা বহুদিন আগে মাটির গভীরে শুয়েছিলো
রোমান সভ্যতায়, সুমেরের রুক্ষ বুকে,
চীনের হোয়াংহো – ইয়াংসি কিয়াং অববাহিকায়,
নীলের প্লাবিত ভূমি ইজিপ্টের কঠোর বুকে —
অথবা মহেঞ্জোদরো হরপ্পার প্রকৌশলী ঘেরাটোপে,
আরো সব নরনারী মাটির অন্তর থেকে মুখ তোলে
নিবিড় মায়াবী চোখে নক্ষত্রের কান্নার মতন
অশ্রু নিয়ে রাত্রি শেষের কোমল আঁধারে চেয়ে থাকে।

চেয়েই থাকে বিমূর্ত চেতনায় বলে না কোন কথা —
শেষ রাত্রির ছায়া অভিলাষ হয়ে ঘোরাফেরা করে।
নক্ষত্রের অসীম আকাশে তারা হতে গিয়ে চূর্ণ হয়ে
মাটিতেই মায়ার টানে ফিরে এসে মাটি হয়ে যায়।
এ এক অদ্ভুত খেলা জানে শুধু শেষ রাত আর মাটি,
আর কেউ জানে না দেখে না আঁধারে ঢাকা থাকে সব!

যুগ যুগ ধরে সাগরের ঢেউয়ের মত একটা প্রবাহ চলে
মানুষের প্রবাহ অন্তবিহীন অনিবার সে প্রবাহ।
শুরু আছে এর শেষ আছে কিনা কেউ তো জানে না
আরো মনে হয় রূপ রূপান্তরে পৃথিবীতে থেকে যায় সব
মৃতেরাও মাটির গভীরে প্রশান্তির ঘুমে পড়ে থাকে,
প্রোজ্জ্বল আলোর মত কিছু সারাদিন – রাত শুধু জ্বলে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY