সাপ্তাহিক গল্প প্রতিযোগিতার সেরা অণু গল্প “”ভিন্ন প্রেম!”” লিখেছেন সাহনিন সুলতানা।যেটি প্রতিভা সন্ধান কাব্য পরিষদ ০৭/১২/২০১৮ তারিখের সেরা গল্প নির্বাচিত।

319
সাহনিন সুলতানা

ভিন্ন প্রেম!

                  সাহনিন সুলতানা।

একটা ছেলে আর একটা মেয়ে খুব ভাব তাদের। যদিও অনেক দূরে বাস। কারো সাথে কারো কোনো দিন দেখাও হয়নি তবে কথা হয় মাঝেমাঝে। ছেলেটি সারাদিন কাজে ব্যস্ত, তারপর পড়ালেখা, সমাজ সেবা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা।
খাওয়া নাই, ঘুম নাই, বিশ্রাম নাই
শুধুই কাজের ফাঁকেফাঁকে সিগারেট মানে বিড়ি। বিড়ি ছাড়া তার চলেই না।
বিড়িই নাকি তার স্বর্গের সিড়ি,
নানান অসুস্থতায় ক্লান্ত তবু কোন বিশ্রাম নাই।
মেয়েটা খুব মন খারাপ করে। বারবার তাকে সিগারেট খেতে নিষেধ করে। জিদ করে বলে বিড়ি, বিড়ি খাওয়া ছাড়বেনা?
না, বিড়ি না সিগারেট অনেক দাম, তুমি তাকে এভাবে বলতে পারোনা।
মেয়েটা বার বার বলতেই থাকে বিড়ি বিড়ি বিড়ি মানে পচা জিনিস, নিরব ঘাতক, তার আবার ভাল মন্দ কি? মন্দ তো মন্দই। আমি তাকে বিড়িই বলবো যতোদিন তুমি না ছাড়বে।

তাহলে বিড়ি ছেড়ে বিয়ার খাবো,
মেয়েটা খুব রেগে যায়, না না না,
কিচ্ছুনা , ওসব চলবেনা।

তাহলে হুইস্কি, অথবা অন্য কিছু,
খুব দামী, তোমার ও খেতে ইচ্ছা করবে, খাবে তুমি।
না না না,
ওসব আমি খাইনা, কেউ খেলে তাকে পছন্দও করিনা।

তাহলে, এটা নয় ওটা নয় তবে খাবোটা কি?
কেন? ফল, চকলেট, নইলে চুইংগাম,

অহ! এবার কাজ ছেড়ে বসে বসে চুইংগাম চিবোই খেয়ে আর কাজ নাই।
যত্তসব!

মেয়েটি রাগে দুঃখে কেঁদে ফ্যালে,
তোমার সাথে আর কথা নাই, তোমার যা ইচ্ছা কর মর,

বাবারে তা আমি মরলে তোমার কি? তুমি কি আমার বউ? না।বউ হবে?

বাড়ে বউ ছাড়া বুঝি অন্য কেউ।আপন হতে পারেনা।
তা তুমি যে আমার আপন থাকবে কি করে বুঝি?
না বুঝলে নাই, নিজের ভালো যদি না বুঝো তবে আমার কি,
থাকো তুমি আমি চললাম।
মেয়েটা সারাদিন কথা বলেনা, ছেলেটা সারাদিন কাজ সেরে রাতে ফোন দেয়।
হ্যালো কেমন আছো?
আগে তুমি বল আজ কয়টা বিড়ি খেয়েছ?
আরে বিড়ি না সিগারেট খেয়েছি,
না বিড়ি বিড়ি পঁচা বিড়ি।
আজ অনেক কম খেয়েছি, মাত্র সাতটা।

সাতটা বুঝি কম,
কম নয়, আগে খেতাম পনেরো ষোলটা এখন অর্ধেক, কম না।

ঠিক আছে, কাল কয়টা খাবে?

দেখি কয়টা খাই, তবে কমিয়ে দিবো,
এবার বলো কেমন আছো?
ভালো তবে সেই দিন পুরা ভালো যেদিন তুমি সব নেশা ছাড়বে,

আচ্ছা দেখি চেষ্টা করবো।

মেয়েটি খুশি হয়ে যায়,কি কারণ জানা নাই, কেন তাকে নিষেধ করে তাও জানেনা,
তবে তার কোন অসুস্থতা সে সইতে পারেনা।

হঠাৎ একদিন সে জানতে পারে তার একটা অসুখের কথা, তবু সে পিছপা হয়না, তার দায়িত্ব যেন আরো বেড়ে গেলো, যেকোনো নেশাই তার জন্য খারাপ, নানান কথার ছলে সে বার বার মনে করিয়ে দেয় এটা করা যাবেনা, ওটা করা যাবেনা, যেনো তার বড় গার্জিয়ান,

ছেলেটা ভাবে কেন সে এমন করছে? কি জন্য? কি চায় সে?
নানান কথায় তার মনের কথা জানতে চায়,
কিন্তু! সে শুধু তার মঙ্গল চায় আর কিছু না। কেন তা সে বলতে পারেনা। তাই ছেলেটি ভাবে আচ্ছা যে আমার জন্য এতো ভাবে দেখিনা ছাড়া যায় কিনা।মনেমনে সে ভাবে আর সে সিগারেট খাবেনা। কিন্তু তা মেয়েটাকে বলেও না। প্রথম যেদিন সে সিগারেট ছেড়ে দেয় সারাদিন মেয়েটার সাথে কথা বলেনি। মেয়েটা ভাবে তাকে সিগারেট খেতে বারণ করেছি সেজন্য হয়তো সে কথা বলেনা। মেয়েটার ভীষণ খারাপ লাগে। সেও মনে মনে ভাবে কেন সে কথা বলেনা। কিছু বুঝে উঠতে পারেনা। ভাবে সেও আর তার সাথে কথা বলবে না। কিন্তু সে তা পারেনা, বারবার মেসেস দেয় ফোন করে কিন্তু সে সাড়া দেয় না। মেয়েটার খুব খারাপ লাগে, নিজের মধ্যে সারাদিন যুদ্ধ করে রাতে ঠিকই কথা বলার চেষ্টা করে, আর ভাবে তাকে আর সে কিছু বলবে না। হয়তো তার প্রিয় জিনিস ছাড়তে বলছে বলে কথা বলেনা।
মেয়েটিও মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে আর সে কিছু বলবে না।
এমনি করে চারদিন কেটে যায়, ছেলেটির মনে কি হয় সে জানেনা তবে সে জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে যায়। কেন তার এমন লাগে? নিজেকে প্রশ্ন করে উত্তর পায়না। কি জন্য কেন? তার কাছে তো সে কিছু চায়না তবে কেন এমন লাগছে।
এমনি করে চারদিন কেটে গেলো কেউ কারো সাথে কথা বলেনা।

হঠাৎ রাতে ফোন এলো, মেয়েটা অতি আনন্দিত হয়ে ফোন ধরে, কিন্তু আজ সে কিছুই বলেনা। কথা হয় অনেকক্ষণ,
এক সময় মেয়েটি জিজ্ঞেস করে তুমি ফোন করনি কেন? ফোন ধরোনি কেন?
তবে তাকে আজ খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছে, হেসে হেসে কথা বলছে কিন্তু কেন?
তা মেয়েটি জানেনা। অনেক কথার পর সে বলে তুমি সিগারেট খেতে বারণ করেছিলে তাই ছেড়ে দিয়েছি, এবং এই চারদিন তোমার সাথে না কথা বলে দেখলাম যে যদি আবার না ছাড়তে পারি তাই কথা বলিনি। এখন দেখি ছাড়তে পারবো তাই কথা বলছি।
মেয়েটি শুনে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারেনা।

শুধু বলে সত্যি কি তুমি আর সিগারেট খাবেনা?
ছেলেটি বলে না না না এবং, ,,,,,,,,,,,,,না।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY