ত্রিপুরা,ভারতের কবি সুনীতি দেবনাথ এর সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার পার্বতী কন্যা বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অসাধারন লিখা “বাংলাদেশের পার্বতী কন্যা বান্দরবান ”

324

বাংলাদেশের পার্বতী কন্যা বান্দরবান

         —————————————————-
                          © সুনীতি দেবনাথ

পার্বতী কন্যা বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন । যাঁর মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে আছে তিনি সহজেই ঘুরে আসতে পারেন বান্দরবান। বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম বিভাগে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্তর্গত। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান জেলার দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার এবং বান্দরবান জেলার আয়তন ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার। অঞ্চলের অন্য দুইটি জেলা হল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি। বান্দরবান জেলা- এর নৈসর্গিক বৈচিত্র্যের জন্য এ স্থান বাংলাদেশের একটি গুরূত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বান্দরবান নামটি কেমন অদ্ভুত শোনায়। অথচ নৈসর্গিক বৈচিত্র্য স্থানটিকে বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে একটা গুরুত্বের স্থান দিয়েছে। কিংবদন্তি অনুযায়ী এখানে অনেক আগে বসবাসকারী বানরেরা একে অন্যের হাত ধরাধরি করে দীর্ঘ শিকল বানিয়ে নদী পারাপার করতো। ‘ বানরের বাঁধ’ এর থেকে নাম হলো ‘বান্দরবান ‘।
চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন ১৯০০ দ্বারা এই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে আরাকান রাজ্যের অংশ থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আওতায় আসে।এই অঞ্চলের রাজা, তথা সার্কেল চিফ এখনো কর (নামমাত্র) আদায় করেন। প্রতিবছর ঘটা করে ৩ দিন ব্যাপী বোমাং রাজ পুণ্যাহ -এর মাধ্যমে এই কর বা খাজনা আদায় করেন।


বাংলাদেশে এতো সুন্দর পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন ক্ষেত্র আর নেই বললে অত্যুক্তি হবেনা। পার্বতী কন্যা বান্দরবান তার সৌন্দর্যের পশরা সাজিয়ে পরিদর্শকদের জন্য যেন প্রতীক্ষার প্রহর গুনে।
পান্না সবুজের অবারিত সমুদ্রপ্রতীম ঢেউখেলানো আদিগন্ত বিস্তার বিমুগ্ধ করে তোলে বিস্মিত দর্শককে। আকুল মেঘমালা আকাশ পৃথিবীর বুকে আন্দোলিত হয়েই চলে, যেন দু’হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরে বুকের মাঝে টেনে নেওয়া যায়। পৃথিবীর বুক দাঁড়িয়ে অপার্থিব আনন্দানুভূতিতে আপ্লুত হওয়া! চাট্টিখানি কথা নয়! বান্দরবান জেলায় দেখার মতো স্থান সব হলো : নীলগিরি, স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, শৈল প্রপাত, নীলাচল, মিলনছড়ি, চিম্বুক, সাঙ্গু নদী, তাজিনডং, কেওক্রাডং, জাদিপাই ঝর্ণা, বগালেক, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, প্রান্তিক লেক, ঋজুক জলপ্রপাত, নাফাখুম জলপ্রপাত। এছাড়াও বান্দরবানে রয়েছে কয়েকটি ঝিরি। যেমনঃ চিংড়ি ঝিরি, পাতাং ঝিরি, রুমানাপাড়া ঝিরি।

এতগুলো জায়গা একসাথে দেখা সম্ভব নয়। তবে বান্দরবান শহরে থেকে, আশেপাশের সাতটি এলাকা- স্বর্ণ মন্দির, নীলগিরি, মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, মিলনছড়ি ও চিম্বুক ঘুরে আসতে পারা যায়।
দেশের অন্যান্য যেকোন জায়গা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম, সেখানে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে সোজা বান্দরবান যাওয়া যায়। আর ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবান পর্যন্ত বাস সার্ভিস আছে।
ঢাকা থেকে আরামবাগ হয়ে শ্যামলী, ঈগল, ইউনিক বাস সার্ভিস সরাসরি বান্দরবান যায়।চট্টগ্রাম হয়েও বান্দরবান যাওয়া যায়। বাংলাদেশের যেকোন এলাকা থেকে বান্দরবান যাবার জন্য প্রথমে চট্টগ্রাম যেতে হবে। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে বাসে করে যেতে হয় বান্দরবান।এজন্য বিভিন্ন বাস সার্ভিস আছে।থাকার জন্য বান্দরবান সদরে বেশ কয়েকটি হোটেল আছে। এছাড়াও বান্দরবান বাসস্ট্যান্ডের পাশেও হোটেল আছে। গাড়ি এখানে হোটেলের সামনে থেকে ছাড়ে।

স্বর্ণমন্দির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মন্দির বা প্যাগোডা। যেটার আরেক নাম ‘মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বৌদ্ধধাতু চেতী’। তবে স্বর্ণ মন্দির নামেই এটা পরিচিত বেশি। বান্দরবানের উপশহর বালাঘাটা’র পুল পাড়ায় এর অবস্থান। বান্দরবান জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব চার কিলোমিটার। সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি সুদৃশ্য এই স্বর্ণ মন্দিরটি আসলে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। নামেই বোঝা যায় এটির রঙ সোনালি। দেশ বিদেশ থেকে অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এখানে প্রার্থনা করতে আসেন। গৌতমবুদ্ধের সমসাময়িক কালে নির্মিত বিশ্বের সেরা কয়েকটি বুদ্ধ মূর্তির মধ্যে একটি এখানে রয়েছে। এই বৌদ্ধ মন্দির বা প্যাগোডাটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেরা প্যাগোডাগুলোর মধ্যে অন্যতম। পাহাড়ের উপর একটি পুকুর আছে যা দেবতা পুকুর নামে পরিচিত। এই প্যাগোডা থেকে বান্দরবানের বালাঘাটা উপশহর আর আশপাশের সুন্দর নৈঃসর্গিক দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া বান্দরবান রেডিও স্টেশন, বান্দরবান থেকে চন্দ্রঘোনা যাওয়ার আঁকাবাঁকা পথটাও দেখতে বেশ লাগে। এই প্যাগোডা একটি আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এখানে মেলা বসে। এ প্যাগোডাটি পূজারীদের জন্য সারাদিন খোলা থাকে আর ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থীদের জন্য বিকেল পাঁচ টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয় ।

নীলগিরি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র। এর উচ্চতা প্রায় ৩ হাজার ফুট। এটি বান্দরবান জেলার ‘থানছি’ উপজেলায় অবস্থিত। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে এই পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। এই পর্বতের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত উপজাতি সম্প্রদায় ম্রো পল্লী। যাদের বিচিত্র সংস্কৃতি দেখার মত। বর্ষা মরসুমে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র থেকে মেঘ ছোঁয়ার দুর্লভ সুযোগ রয়েছে। শুষ্ক মরসুমে নীলগিরি থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র এটি। যা সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এর পাশেই রয়েছে একটি সেনাক্যাম্প। বান্দরবান জেলা সদর থেকে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় অধিকাংশ পর্যটক দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসেন। বান্দরবান জিপ স্টেশন থেকে জিপ, ল্যান্ড রোভার, ল্যান্ড ক্রুজারসহ অন্যান্য হালকা গাড়িও ভাড়ায় পাওয়া যায়। নীলগিরি যাবার পথে সেনা চেকপোস্টে পর্যটকদের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হয়। বান্দরবান জেলা সদর থেকে সাধারণত বিকেল পাঁচটার পর নীলগিরির উদ্দেশ্যে কোন গাড়ি যেতে দেয়া হয় না। এছাড়া নিরিবিলিতে সপরিবারে কয়েকটা দিন কাটাতে এটি একটি আদর্শ জায়গা। এরজন্য বান্দরবান সদর সেনা রিজিয়নে বুকিং দেওয়া হয়।

বান্দরবান শহরে ঢুকতে বান্দরবান কেরানীহাট রাস্তার পাশেই পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। পাহাড়ের খাদে বাঁধ নির্মাণ করে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি করা হয়েছে । বান্দরবান শহর থেকে এই কেন্দ্রটির দূরত্ব চার কিলোমিটার। বেড়াতে আসা পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে শিশুপার্ক, নৌকা ভ্রমণের সুবিধা, ঝুলন্ত সেতুর মাধ্যমে চলাচলের ব্যবস্থা এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য একটি রেস্টহাউস। এছাড়া আকর্ষণীয় একটি চিড়িয়াখানা এই কেন্দ্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয়।
নীলাচল ও শুভ্রনীলা পর্যটন কেন্দ্র দু ‘টি বান্দরবান জেলা সদরের প্রবেশমুখ টাইগার পাড়ার কাছাকাছি পাশাপাশি অবস্থিত । নীলাচল জেলা প্রশাসন ও শুভ্রনীলা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই পর্যটন কেন্দ্র দু’ টি পরিচালিত হয় । নীলাচলের উচ্চতা প্রায় ১৭০০ ফুট। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে এটা অবস্থিত। এ পাহাড়ের উপর নির্মিত এ দু’ টি পর্যটন কেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য দেখতে খুবই মনোরম।

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত চিম্বুক সারা দেশের কাছে পরিচিত নাম। বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫০০ শত ফুট। চিম্বুক যাবার রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ী দৃশ্য খুবই মনোরম। যাবার পথে সাঙ্গু নদী চোখে পড়ে। পাহাড়ের মাঝে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক দিয়ে এঁকেবেঁকে যাওয়ার সময় মনে হবে গাড়িতে করে বুঝি চাঁদের বুকে পাড়ি দেওয়া হচ্ছে । ২৫০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে এ অপরূপ বিচিত্র প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাবে চিম্বুকে। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে দেখতে পাওয়া যায় নিচে ভেসে যাচ্ছে মেঘের ভেলা। পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার আর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাগুলোকে দেখা যায় এখান থেকে। বর্ষা মরসুমে পাহাড়ের পাশ দিয়ে ভেসে যাওয়া মেঘ দেখে মনে হয় মেঘের স্বর্গরাজ্য চিম্বুক।

থানছি সড়কের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় চিম্বুক অবস্থিত হওয়ায় এখানে হোটেল বা রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠেনি। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি রেস্টহাউস আছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে রাত্রি যাপনের সুযোগ রয়েছে। চিম্বুকের পাশে সেনাবাহিনীর ক্যান্টিন রয়েছে। এখানে সকালের জলখাবার ও দুপুরে খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া খাবারের জন্য বান্দরবান থেকে চিম্বুক যাওয়ার পথে মিলনছড়ি ও শাকুরা নামে দু’ টি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। তবে বান্দরবান থেকে হালকা খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে রওনা দেওয়াটাই সবচেয়ে ভাল।
চিম্বুক যেতে হলে বান্দরবান শহরের রুমা বাস স্টেশন থেকে চাঁদের গাড়ি হিসেবে পরিচিত জীপ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, পাজেরো এবং বান্দরবান-থানছি পথে যাতায়াত করা বাস ভাড়া নিতে হবে (স্পেশাল বাস যা দুর্গম পাহাড়ী পথে চলাচল করতে সক্ষম)। রাস্তা বেশ দুর্গম হওয়ায় বাসে যাতায়ত করা ঝুঁকিপূর্ণ। চিম্বুক-থানছি পথে বিকেল ৪ টার পরে কোন গাড়ি চলাচল করে না। তাই পর্যটকদের ৪ টার মধ্যে ফিরে আসা উচিত।

বান্দরবান রুমা রাস্তার আট কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি। সারাক্ষণ ঝর্ণার হিমশীতল জল এখানে বয়ে যাচ্ছে। এই ঝর্ণার জল খুবই স্বচ্ছ। বর্ষাকালে এ ঝর্ণার দৃশ্য দেখা গেলেও ঝর্ণাতে নামা বেশ কঠিন। বছরের বেশিরভাগ সময় দেশী বিদেশী পর্যটকে ভরপুর থাকে। রাস্তার পাশেই শৈলপ্রপাতের অবস্থান হওয়ায় এখানে পর্যটকদের ভিড় বেশি দেখা যায়। এখানে দুর্গম পাহাড়ের কোল ঘেঁষা আদিবাসী বম সমপ্রদায়ের সংগ্রামী জীবন প্রত্যক্ষ করা যায়। বান্দরবান শহর থেকে চাঁদের গাড়ি কিংবা গাড়ি ও জিপ ভাড়া করে শৈলপ্রপাতে যাওয়া যায়।

মিলনছড়ি বান্দরবান শহর থেকে ৩ কিঃমিঃ দক্ষিণ পূর্বে শৈলপ্রপাত বা চিম্বুক যাবার পথে পড়ে। এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি আছে। পাহাড়ের বেশ উপরে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পূর্ব প্রান্তে অবারিত সবুজের খেলা এবং সবুজ প্রকৃতির বুক ছিঁড়ে সর্পিল গতিতে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নামের মোহনীয় নদীটি দেখা যাবে।
এই জায়গাগুলো দেখতে যাওয়া-আসা মিলিয়ে হাতে চার থেকে পাঁচ দিনের সময় নিয়ে যেতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় রাতে ভ্রমণ করে ভোরে বান্দরবান পোঁছানো। আর সেখান থেকে বিকালে রওনা দিয়ে ফিরে আসা। এতে করে দুই দিনেই বান্দরবানের এই জায়গাগুলো ঘুরে আসা সম্ভব।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY