তুমি তার জন্য অপেক্ষা করো কিন্তু সে যদি আর ফিরে না আসে ?তবে কি তুমি আইবুড়ো হয়ে থাকবে ?? লন্ডন, যুক্তরাজ্য থেকে লেখক, কবি পম্পি বড়ুয়া লিখেছেন ছোট গল্প ”পৌষের দিনে আনমনে ”

339
লন্ডন, যুক্তরাজ্য থেকে লেখক, কবি পম্পি বড়ুয়া

পৌষের দিনে আনমনে

                                                   পম্পি বড়ুয়া

আজ মিথিলার মন খারাপ। দূর আকাশের দিকে তাঁকিয়ে শুধু আনমনে ভাবছে সারাটা দিন। বাইরে অনেক বৃষ্টি পড়ছে।কিছুক্ষন পর বৃষ্টি থেমে গেছে আকাশে খুব সুন্দর রঙ ধনু উঠেছে। আলোয় ঝলমল করছে চারিদিক ,গাছের ডালে বসে পাখি গান গাইছে। তবুও মিথিলার মন খারাপ। পৌষের দিনে বন্ধুরা সবাই মিলে কত মজা করছে ,পার্টি করছে বাইরে হাসি -আনন্দ ,হৈহুলোর করছে কিন্তু তার কিছুতেই মন বসছেনা। এই দিনে বন্ধু বিনে মন লাগেনা কোনো কাজে। সবাই এত ব্যাস্ত এই দিনে নতুন ধানের পিঠা -পুলি ,পায়েস আর চমচম মিষ্টি ,দধি খাচ্ছে। কিন্তু মিথিলার মনে আনন্দের কোনো রেশ নেই। তার প্রিয় আজ কাছে নেই।

তার প্রিয় বলেছিলো, এই পৌষে এসে তার হাত দুটি চাইবে মিথিলার মা -বাবার কাছে। তাই তো পথপানে চেয়ে নয়ন ভিজে আকুতি ভরা জ্বলে। অপেক্ষায় দিন গুনে, এইতো সে এল বলে। মা বলছেন ,চল আমরা কাল সবাই গ্রামের বাড়ি ঘুরে আসবো। তোর ভালো লাগবে। মিথিলার গ্রামের বাড়ি ঘুরতে গিয়ে তার কিছুটা ভালো লাগে গ্রামের সুন্দর পরিবেশে এসে আত্মীয় -স্বজন সবার ভালোবাসা পেয়ে নিজেকে তখন আর অসহায় লাগছে না। গ্রামে এসে প্রকৃতির সবুজ -শ্যামল অরণ্য দেখে সে মুগ্ধ মনে ফুল ও পাখির ছবি তার ক্যামেরায় বন্দি করছিলো আর সরল সিধে গ্রামের নব বধূর কলসি কাঁকে পানি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তার ক্যামেরায় ধারণ করছিলো এমন সময় গ্রামের নামকরা পেশাদার একজন ঘটকমশাই হটাৎ তাকে দেখে ভালো লাগে। মিথিলার জন্য সে পাত্র এনেছে। মিথিলার মা -বাবা সব শুনে তাদের পাত্র খুবই পছন্দ হয়, কিন্তু মিথিলার মতামত এই বিয়েতে নেই।

মা -বাবা তাকে অনেক বুঝলো বললো যাকে ভালোবেশে এতদিন অপেক্ষা করলি সে তো আর ফিরে এল না। কি হবে আর অপেক্ষা করে ?মা; সে আমায় কথা দিয়েছিলো এই পৌষ মাসে এসে আমাকে রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে করবে। আমি তার আসার অপেক্ষায় আছি। বাবা বলছেন ;কোনো অসুবিধা নেই তুমি তার জন্য অপেক্ষা করো কিন্তু সে যদি আর ফিরে না আসে ?তবে কি তুমি আইবুড়ো হয়ে থাকবে ?আমরা কি মরার আগে কোনোদিন তোমার বিয়ে দেখতে পারবোনা ?তোমার দাদু -ঠাকুরমা বুড়ো হয়েছেন তারাও একটা আশা করেন তোমার প্রতি। আমি বুঝলাম তুমি আরো কিছুটা সময় চাইছো কিন্তু ছেলে পক্ষ তাদের সাথে দেখা করতে তো কোনো অসুবিধা তোমার থাকার কথা নয়।মিথিলা অনেক কান্না-কাটি করে তারপর বলে ঠিক আছে তোমরা যা ভালো মনে করো আমি তাই করবো। তাদের সাথে আমি দেখা করবো কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে। কি শর্ত তোমার ?যদি তাদের আমায় পছন্দ হয় তবে এই পৌষ পার্বনে আমার বিয়ে হবে। আমরা তোমার সব শর্ত মেনে নিবো।

পরের দিন সবাই আবার বাড়ি ফিরে আসে।আজ ছেলে পক্ষ আসবে মেয়ে দেখতে। মিথিলার মন দুরুদুরু কাঁপছে ,হাত পা সব ঠান্ডা হয়ে আসছে।মনে মনে যাকে নিয়ে সুখের ঘর বাঁধবে স্বপ্ন দেখেছিলো তার দেখা এখনো মিলছেনা তাহলে সে কি আমায় ভুলে গেছে ?না তা হতে পারেনা। অনেক কিছুই মনে আসছে মিথিলার এখন।এইতো মেয়ে দেখতে চলে এসেছে ছেলে পক্ষ। কই মেয়েকে ডাকুন আমরা আজকেই আংটিটা পরিয়ে দিতে চাই। মিথিলার বাবা ছেলে পক্ষ আসবে ভেবে অনেক খাবারের আয়োজন করেছেন। ছেলের মা ,বাবা,বোন,পিসি,মামা ,মামী ও কাকা সবাই এসেছেন কন্যা দেখতে। মেয়ের বাবা বললেন ছেলে কোথায় আমরাও ছেলেকে দেখতে চাই। ছেলের কাকা বলছেন ছেলে আসছে একটু পরে।

মেয়েকে ডাকা হলো তাদের মেয়ে খুবই পছন্দ হলো। এর পর ছেলের এন্ট্রি হলো একি! যার জন্য এতদিন অপেক্ষার প্রহর গুনছিল সে বুঝি এই পৌষ মাসে এসে ধরা দিলো। অনেক বড়ো ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো। সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রাজপুত্রের মতো দেখতে। মায়া ভরা দৃষ্টিতে একে ওপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর ছেলে পক্ষ সবাই ছেলের মিথিলাকে সারপ্রাইস দেবার কথাটা বললো। এভাবে তাদের সুন্দর জীবনের পরিণতি ঘটলো পৌষ পার্বনের মাসে বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে। মিথিলার আজ সুখের দিন তাই তার মন খুব ভালো। সবার আশীর্বাদে তাদের জীবনে আবার পৌষের আলোয় নতুন অতিথি এল তাদের ঘর আলোকিত করে । তার নাম রাখলো পৌষালী। এখানেই সমাপ্তি।সকলকে ধন্যবাদ।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY