কবি শামীম আজাদ এর জীবন ঘনিষ্ঠ কবিতা “কালোমেঘ ” যা ফাল্গুনের অসামান্য কিছু কবিতার একটি । প্রকাশে ফাল্গুন দুহিতা রুমকির অনুমতিতে

606

কালোমেঘ

              শামীম আজাদ

অসময়ের কালোমেঘ ঢেকে দেয় চাঁদনীর আকাশ
অবিরত বজ্রের ভয়ানক গর্জনে কেঁপে উঠে ধরিত্রি
থেমে যায় কোলাহল বিশুদ্ধ সমীরণ গতিবেগ
সুখ বিলাসী স্বপ্নগুলো অকালে ঝরে বিজলির চমকিত ভয়ে!
আলো-আঁধারি ছায়ায় শিকার খোঁজে নেকড়ের দল
নরপিশাচের লোভাতুর দংশনে বিক্ষত সোনার যৌবন
ছেঁড়া আঁচলে ঢাকে না দেহের শৈল্পিক ভাঁজ।
লকলকে জিহ্বায় পিয়ে নেয় শরবতী নহর!
অতঃপর তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে, নৃত্যের খেমটা তালে
দাম্ভিক হাসিতে ফেটে পড়ে শুয়োরের দল
যেন মহাযুদ্ধের লড়াই শেষে বিজয়ের আনন্দে বিভোর!

যন্ত্রণায় কাতর বিষন্ন মালতি লুকিয়ে রয় গহীন অরণ্যে।
অপেক্ষার প্রহর গুনে কামিনী, দোলাচালে দোলে সময়ঘড়ি
ভোরের আলোর স্বপ্ন দেখে কিশোরী চন্দ্রমল্লিকা
দুঃসহ যন্ত্রণার ক্ষত সারাতে হাত বাড়ায় আগামীর সকাল!
একচিলতে রোদ কাঁপা ঠোঁটের ভাঁজে হাসির ঝিলিক ছড়ায়
বাঁচার সুতীব্র বাসনা নিয়ে এগিয়ে চলে সময়ের হাত ধরে
উষ্ণশিশিরে ভিজে যায় পায়ের পাতা
উচ্ছ্বাসে দূর্বাগুলো আলতো করে রাঙিয়ে দেয় ভালোবাসার আলতা
স্বপ্নের রঙ্গিন ঘুড়ি হাওয়ায় উড়ে ভাবনার সসীম আকাশে
অবশেষে ফিরে পায় বাতায়িত নীড়
অশরীরী ছায়ারা চুপেচুপে বলে যায়
ধর্ষিতার সাথে প্রেম হয় বুঝি কখনো!

হঠাৎ দানবের হিংস্র রবে ঘুম ভাঙ্গে ফাল্গুনীর
কৃষ্ণচুড়ার তলে বুঝি বসবে না আর বসন্তের মেলা!
কুৎসিত বেহায়া বেওয়ারিশ কাউয়াদের আমন্ত্রণে
অস্থি খেতে ছুটে আসে শকুনের দল
অজানা আতঙ্কে ভয়ার্ত কচি প্রাণ
দু’হাত তোলে ঈশ্বরের কৃপা আহবান!
হে ঈশ্বর! তোমার শিল্পকর্ম মোর শৈল্পিক দেহ
কতোটুকু বিক্ষত হলে সম্ভ্রম হারানোর দায় থেকে মুক্ত হবো?
মানুষের ঈশ্বর অসুরের ভয়ে আজ নির্বাক! অন্ধ!
ভক্ষণের লড়াইয়ে টিকে থাকার কৌশলে ব্যস্ত শকুনের ঠোঁট।

স্বদেশের নীলিমায় গ্রহণের কাল চলছে সর্বত্র!
হতাশার সাগরে নিমজ্জিত আগামীর স্বপ্ন!
ভালো নেই আমি, ভালো নেই তুমি, ভালো নেই প্রিয়ার মুখ!
বেদনার নীলবিষে ঢুকরে কাঁদে লাল-সবুজের সুখ!
অর্ধনগ্ন হয়ে পড়ে রয় নিজস্ব ভূমিটুকু
যেখানে পোঁতা আছে সম্পর্কের নাড়ি
তবুও আশায় বুক বাঁধি আগামীর স্বপ্ন দেখার
যেথায় লালসবুজে মিশে তৈরী হবে স্বর্গীয় মোহনা।

হে আগামীর সূর্য সারথী-
উড়াও তব পাল ধরো হাল ছুটে চলুক তরী
ঝ্বঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ দরিয়ার বুকে,
সোনালি ধানে ভরে যাক জীবনের আঙিনা
স্বপ্নের মশাল জ্বলে উঠুক ঘনকৃষ্ণ নিশিথে।
নবীনের জয়োগান আর তারুণ্যের আহবানে
জেগে উঠুক ঘুমন্ত বিবেক
দ্রোহের ভূকম্পনে কেঁপে উঠুক শোষকের হৃদ!
উবে যাক হায়েনাদের বিভৎস হাসি….!
জননী জন্মভূমি মাগো! আমি যে তোমায় বড় ভালোবাসি!

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY