ওই নগ্ন অন্ধকারে লজ্জায় জড়ানো দহনে দগ্ধ গাঙ্গচিলের মতো কেনো ডাকছো এমন করে! কবি রোজিনা রুমি এর সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার অসাধারন লিখা “হে আমার পারিজাত বিবর্ণ বিষাদ”

420
কবি রোজিনা রুমি

“হে আমার পারিজাত বিবর্ণ বিষাদ”

                                                             রোজিনা রুমি

হে আমার পারিজাত বিবর্ণ বিষাদ
ওভাবে কেন ডাকছো বারবার,
হৃদয়ে আগুন জ্বেলে
মরিচিকা নশ্বর ওই ত্বকের আবরনে রক্তিম রক্তবিন্দু দিয়ে,
তাজা জমাটবাঁধা কষ্ট নিয়ে কেনো ডাকছো বারবার।
একবার শিল্পিত নাগরিক হয়ে
আমার অনিদ্রার কৈশোরের আবেগ আর ইচ্ছাহীন ঘুমজাগা স্বপ্ন হয়ে
একবার মর্মমূল ছিড়ে ডেকে দেখোনা।
প্রত্যাখ্যানের সিলেবাসের ইতি টেনে
বিষাদের চেতনাকে অগ্রাহ্য করে
হৃদয়ের ভাঙ্গন প্রতিহত করে
তোমার সম্মুখে প্রত্যাশার স্রোত হয়ে দাঁড়াবে নিষ্ঠুর।
বলো–এভাবে কেনো ডাকছো বারবার??
মাংসের বুক ছুঁয়ে ঘ্রান নিলে যখন
নিঃশ্বাসের ঘ্রানে মাতাল হয়ে
বিষন্ন প্রাপ্তিতে শব্দহীন অন্ধকার,
ওই নগ্ন অন্ধকারে লজ্জায় জড়ানো
দহনে দগ্ধ গাঙ্গচিলের মতো
কেনো ডাকছো এমন করে।
হে আমার নীলাভ ভালোবাসার রঙ্গিন বিষাদ,
প্রবল অসম্ভবের কাঁচের দেয়াল ভেঙ্গে
প্রথম প্রভাতে মোয়াজ্জিনের মধুর ধ্বনির মতো সুমধুর আহ্বান হয়ে,
সূর্য ঝরা সোনালী রোদ্দুর হয়ে,
একঝাঁক শুভ্র বক পালকের উড়াল ভঙ্গিতে শ্রেণিহীন পৃথিবির বাঁধা পেরিয়ে
ছুটে চলা চঞ্চল কিশোরের মতো করে
কেনো ডাকলেনা একবার।।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY