ভারত থেকে কলমযোদ্ধা-অগ্নিমিতা দাসের ভিন্নধর্মী গল্প“প্রতিচ্ছবি”

97
কলমযোদ্ধা-অগ্নিমিতা দাসের ভিন্নধর্মী গল্প“প্রতিচ্ছবি ”

প্রতিচ্ছবি
কলমে _ অগ্নিমিতা দাস

” ফাগুয়া মে গলে লগ যা বালমা”
মহল্লার ওপাশ থেকে হোলির গান ভেসে আসছে। ঝুমরি আগুনের সামনে বসে রুটি সেঁকছে। আগুনের সামনে বসে ওর মুখে লাল আভা পরে কেমন একটা রহস্যময় লাগছে। ঝুমরির মা রোশনি একটু পরে ওই মহল্লার পান্ডেদের বাড়িতে রান্না করে আসবে। ততক্ষণে ঝুমরির রুটি আর আলুর চোখা তৈরি। পেছনে পায়ের আওয়াজে ঝুমরি ফিরে তাকালো। চাঁদের আলোয় বস্তি, পেছনের মাঠ সব যেন সাদা কালো টিভির পর্দার মতো ধবধবে লাগছে। একটা অস্পষ্ট ছায়া মূর্তি পায়ে পায়ে এসে ঝুমরিক জাপটে ধরলো
ঝুমরি চেঁচিয়ে উঠতে গিয়ে ও চেনা স্পর্শ পেয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলো।
” চাঁদ কা মিজাজ ভী তেরে য্যায়সা হে
ফরজ জব দেখনে কি তামান্না হোতী হে
নজর নেহী আতা” গমগমে গলায় পুরুষকন্ঠের শায়রি শুনে ঝুমরি এবার আরো জোরে হেসে উঠলো। চাঁদের আলো ঝুমরির ছোট্ট কপাল, চুল , ওই বাঁকা ভুরু আর পাতলা ঠোঁট সব কিছু যেন শুষে নিচ্ছে।
_ এতনা দের লগা দি! ম্যায় তো তেরি রহা দেখতে দেখতে থক গয়ী! ঝুমরি ঠোঁট ফুলিয়ে কিছু বলতে গেলেই পুরুষটি ওর ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। তারপর আস্তে আস্তে বলে ওঠে মুম্বাই সে আনা ক্যায়া মু কি বাত হে। ছুট্টি মঞ্জুর হলো, তারপর তো এলাম। শোন, ঝুমরি আমি তো লম্বা ছুটি নিয়ে এসেছি। খোলি ভী ভাড়াতে দেখে আসলাম। এবার শাদী করেই তোকে নিয়ে চলে যাবো। আজ বাদ পরশু আমার আম্মী তোদের বাড়ি আসবে। ঝুমরি মুখ আবীরের মতো লাল হয়ে গেলো। ঝুমরিকে রাকেশ পছন্দ করতো অনেকদিন ধরে কিন্তু বলতে পারতো না। রাকেশ মুম্বাইয়ে জরির কাজ করে, ভালো কামাই হয়। ছুটিতে বাড়ি এসে একদিন ঝুমরিকে একা পেয়ে মনের কথা বলাতে ও সাফ জানিয়েছিলো পিতাজী চলে যাওয়ার পর ওর মাই সব কুছ। মাকে না জানিয়ে ও ছুপকে প্যায়ার মোহাব্বত করতে নারাজ। রোশনি প্রথমে দোনোমনো করলে ও রাকেশের সুন্দর চেহারা, অল্প বয়স, সুন্দর ব্যাবহারে রাজি হয়ে গেলো। রাকেশদের ঘরবাড়ি সব কিছুই রোশনিদের থেকে অনেক ভালো। রোশনির ওই মেয়ে ছাড়া কেও নেই, ওকে এত তাড়াতাড়ি ছাড়তে মন চাইছিলো না। কিন্তু রাকেশ যখন বললো ও শাদীর পর ঝুমরিকে নিয়ে মুম্বাই চলে যাবে, তখন ঝুমরি আর না করলো না। জীবনটা তার কাঠফাটা রোদ্দুরের মতো , সেখানে মেয়েটা যদি আস্ত টলটলে দিঘী পায় , ক্ষতি কি। গত শীতে রাকেশের মা নিজে এসে ঝুমরিকে সোনার বালা পড়িয়ে দিয়ে গেছে। এখন থেকে ঝুমরি রাকেশের আমানত। হোলির সময় এসে ঝুমরিকে রাকেশ শাদী করবে।
রাকেশকে পিতলের গ্লাসে দইয়ের শরবত দিতে গিয়ে দেখলো, ওর হাতে একটা প্যাকেট।
এক হপ্তা বাদই তো হাম তোমরি ঘরওয়ালি ! ফির রোজ রোজ কা মিলনা কথা শেষ না হতেই রাকেশ ঝট করে ওর গায়ে কি একটা জড়িয়ে দিতেই ঝুমরি অবাক হয়ে গেলো। একটা জরদৌসি ওড়না মেরুন আর ঘন সবুজের কাজ করা। হোলি কা তোফা! তু তো চমক রহী হে।
আমি নিজে বানিয়েছি । হোলির দিন সগুন নিয়ে আসবো। তুই নিজে হাতে বাদামের শরবত বানাবি,আর তোর সাথে সেদিন আসল হোলি খেলবো। বলার মধ্যে এমন কিছু ছিলো তাতে ঝুমরি মুখ লুকালো।
_
কি রে ঝুমরি কোথা গেলি? রোশনির ডাকে ঝুমরি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখলো মা কৌটা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। পান্ডেদের বাড়িতে জরুর কিছু ভালো মন্দ হয়েছে তাই মায়ের গলা দিয়ে নামে নি। ঝুমরিকে দেখে ওর মা হাঁ হয়ে গেলো। তার এতটুকু নাননা ষোলা সাল কি বাচ্চীকে জরির দোপাট্টায় পুরো দুলহানিয়া লাগছে। আজ বাদ কাল বেটির বিদায়। বুকটা মুচড়ে উঠলো।
_ রাকেশ এসেছিলো, বরা জবরদস্ত তোফা দিয়েছে, সারা জিন্দেগী এইরকম রাখবে তো বুঝবো মরদ আছে। বেটির দেওয়া ঘড়ার জল মুখে চোখে দিয়ে গলায় ঢাললো। রোদের তেজ বাড়ছে, তারপর দিনভর চারটে বাড়িতে চুলার সামনে বসে বসে কাজ করতে করতে ফর্সা ধবধবে রঙ কখন তামাটে হয়ে গেছে। রোশনির প্রতিচ্ছবি ঝুমরি। রঙ, নাক, চোখ, গালের নীচে তিল এমনকি দাঁড়ানোর ভঙ্গী, হাঁটাচলা,পেছন থেকে যে কেও ভুল করবে। এখন থেকেই তোকে চেনা যাচ্ছে না। শাদীর পর মুম্বাই যেয়ে তো আমায় ভুলে যাবি।
_ তাহলে তুমি না করে দাও। আমি বিয়া রচাবো না। মা বলতে বলতেই ঝুমরির চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল পড়তে লাগলো। বাপ ছেড়ে দিয়ে চলে গেছিলো তখন ও বয়স দুই কি আড়াই। তখন থেকে মা বুকে আগলে রেখে মানুষ করেছে, কখনো ইট ভাটায় মজুদুরি, কখনো আয়ার কাজ, রাতে সেলাই করতো। কিন্তু কখনো রোশনি কারোর কাছে হাত পাতে নি, কতজন বলেছে দুসরি শাদী করতে, করে নি। রান্নার হাত ভালো বলে রান্নার কাজ ধরেছে, মেয়েকে স্কুলে পড়িয়ছে । এত কিছু করতে করতে রোশনির কখন যে চুলে রূপালী পাক দিয়ে দিয়েছে, শরীর ভেঙেছে নিজেই জানে না। ঝুমরি মাকে জড়িয়ে আদর করতে করতে বললো সে _ বুড়ি তুমি? একবার আয়নায় নিজেকে দেখো।বলেই চট করে নিজের ওড়নাটা মায়ের মাথায় দিয়ে দিলো।রোশনি না করতে গিয়ে ও জোরে হেসে উঠলো।
অনেক রাত, রোশনির ঘুম আসছে না।গরম গরম লাগছে। ছোট্ট ঘর, ফ্যানটা ঘটঘট করে চলছে। ঝুমরি অঘোরে ঘুমাচ্ছে। ওর মাথাটা বালিশে ঠিক করে ঝুমরি উঠে দাঁড়ালো। সামনে আয়নায় নিজের মুখটা বাইরে দেখলো। চাঁদের আলো এখানে ও ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘর আলো করেছে, সেই আলোয় দেখলো চোখের নীচে কালি, বলিরেখা অস্পষ্ট , চুল পাতলা হয়ে গেছে তবুও সে কম খুবসুরত নয়। একালে কতজন দিওয়ানা ছিলো। সে তো কাউকে পাত্তা দিতো না। শুধু একজনকেই, দূরে একটা রাতজাগা পাখি ডেকে উঠলো। শব্দ করে ঝুমরি পাশ ফিরে শুলো। রোশনি ট্রাঙ্কের ওপরে রাখা ঝুমরির ওড়নাটা মাথায় নিলো। চাঁদের আলোয় ওটা ঝকমক করছে। আয়নার সামনে নিজেকে দেখতে লাগলো। তারপর দরজা ভেজিয়ে ভূতে পাওয়ার মতো ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
উঠোন পেরিয়ে মাঠে এসে দাঁড়ালো। আজ থেকে কতবছর আগে পাশের গ্রামের দীনেশকে সে ভালোবাসতো। দুজনের আশনাই ভেঙে গেলো যেদিন ওর বাপ জানতে পেরে তিনদিনের মধ্যে এক মাতালের সাথে ওর বিয়ে দিয়ে দিলো। দীনেশ ওদের জাতের নয়, নীচু জাত তাই বিয়ে দিলো না। দীনেশদের অবস্থা ভালো ছিলো , পড়ালিখার জন্য শহর চলে গেলো। আবার এসেছিলো, তখন রোশনির বর ওকে দুবছরের মেয়ে ভেট দিয়ে ভেগে গিয়েছিলো অন্য মেয়ের সাথে। রোশনির তখন মাথায় ভূত চেপেছিলো, কিছুতেই দীনেশ ওকে বুঝিয়ে নিয়ে যেতে পারলো না। রোশনির তখন এক গোঁ, ও একাই মেয়ে মানুষ করবে, কারোর মদতের জরুরত নেই। দীনেশ তখন ও চাকরি পায় নি, বেশি জোর করতে পারে নি। চারবছর পর আবার এসে রোশনির ঘরে ধর্না দিয়েছিলো। রোশনি তখন মেয়েকে ইস্কুলে দিয়েছে, পাড়ায় সবাই রোশনির লড়াইয়ের জন্য ইজ্জত দেয়। এই ইজ্জতটাকে খোয়াতে চায় না বলে না ঝুমরির কাছে ছোট হবে না বলে , নিজেই জানে না। রোশনি সেদিন ও বুকে পাথর রেখে দীনেশকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো। দীনেশ যাওয়ার সময় ওর হাতে একটা কাগজ গুঁজে দিয়েছিলো ছলছল চোখে। অনেক পরে ঝুমরি সেই কাগজটা খুলে দেখেছিলো একটা নম্বর লেখা আছে। ট্রাঙ্কের ভেতরে একটা বাক্সে যেখানে দীনেশের মেলায় কিনে দেওয়া চুড়ি, গন্ধমাখানো গোলাপী কাগজে চিঠি রাখা আছে যত্নে সেখানে রেখে দিয়েছিলো। ঝুমরির বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যাওয়ার পর এই কাগজটা নিয়ে ভয়ে ভয়ে পান্ডেজির ছোট মেয়েকে দিয়েছিলো। এতদিনে নম্বর নিশ্চয়ই বদলে গেছে।তবে ওর মাসির মেয়ে লতিকা ঝুমরির সহেলী, ও বলেছে দীনেশ এখন ও বিয়ে করে নি, ওর জন্য ইন্তেজার করছে। সেই থেকে গ্রামে ও আসেনি। রোশনি না ডাকলে আসবে ও না।
ও প্রান্তে হ্যালো বলাতে কাঁপা কাঁপা গলায় রোশনি মেয়ের বিয়ের জন্য আসতে বলে। ওপ্রান্ত থেকে চাপা গলায় আওয়াজ আসে_ হামরি শাদী কি দিন কানাহাইয়া কা মন্দির মে রাত কো ইন্তজার করনা । আমি ছু্ট্টি নিয়ে আসছি। তারপর তোর কোন কথা শুনবো না। আমার লড়কির ডোলি তুলবো নিজে হাতে। রোশনী ভূত গ্রস্তের মতো চাঁদনী রাতে মাঠ পেরোচ্ছে। দূর থেকে ঢোল আর হোলির গান শোনা যাচ্ছে। মন্দিরের চাতালে এসে রোশনি হাঁফাতে লাগলো। ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে নিলো,এখন বাতাসে ঠান্ডা ভাব। এই মন্দিরে আজ থেকে কতবছর আগে সে আর দীনেশ কিষণজীকে সাক্ষী মেনে শাদী করেছিলো। অন্ধের মতো দুজন দুজনকে ভালোবাসতো, সেই ভালোবাসায় ছিলো না কোন শরীর, ছিলো কেবল মন। কত সাঁঝ, কত দিন এই মন্দিরের পেছনের পুকুরে পা ডুবিয়ে বাতচিত করতো। রোশনি কতদিন পরে এই মন্দিরে পা দিলো, পা দেওয়ার সাথে সাথে সব ইয়াদ ফিরে ফিরে আসছে। ওই তো টর্চের আলো নাচতে নাচতে আসছে। রোশনি জানে দীনেশ আসবে। আত্মা জানে দীনেশ ওর পতি, ঝুমরির বাবাকে কোনদিন ও ঘরলাওয়ালা ভাবতে পারে নি। বিছানায় শরীর দিতে দিতে দীনেশকে ভাবতো। সেই ঝুমরির বিয়েতে ওর আসল পতি থাকবে না, নাই বা হলো ঝুমরি দীনেশের মেয়ে। সগুনের দিন ঝুমরিদের রিস্তাদার হয়ে দীনেশ থাকবে। তবে দীনেশের সাথে ও যেতে পারবে না,কারন মেয়েকে কথা শুনতে হবে শ্বশুর বাড়িতে এমন কাজ সে করবে না। দীনেশকে দেখে রোশনি বিহ্বল হয়ে গেলো। দুজনে ওই চাঁদনি রাতে কত কথা বললো, আজ ওদের বিয়ের দিন। দীনেশ ওর দোপাট্টা সরিয়ে মুখটা কাছে এনে কপালে চুমু দিলো। ঝুমরির কতবছর পরে শুকনো মাটিতে কে যেন জল দিলো। সে দীনেশকে জড়িয়ে ধরলো। এতদিনের আবেগ, ভালোবাসা, অভিমান, সংযম সব এক লহমায় কোথায় হারিয়ে গেলো। দুটো শরীর দুটো মন চাঁদের আলোর মতো গলতে গলতে এক হয়ে গেলো। রোশনির না না বলা আসতে আসতে শীৎকারে পরিণত হলো। কুহু কুহু_ ডাকে রোশনি চোখ খোলে, দেখে সে দীনেশের বাহুবন্ধনে ঘাসের ওপর শুয়ে আছে, প্রায় বিবস্ত্র হয়ে। সে তাড়াতাড়ি সব ঠিক করতে করতে সাবধানে দোপাট্টাটা দীনেশের পিঠ থেকে টান দিতেই ফ্যাঁস করে ছিড়ে গেলো।ও চটপট বাকি অংশটুকু মাথায় ভালো করে জড়িয়ে ওঠে দাঁড়ালো। দীনেশকে না জাগিয়ে ও বাড়ি ফেরার পথ ধরলো। সদ্য ভোরের আলো ফুটছে। গ্রামের মানুষ মাঠে আসতে শুরু করেছে গাড়ু হাতে। বেশ কিছুজনের নজরে উপেক্ষা করে রোশনি ওড়নাটা ভালো করে মুড়ি দিয়ে ঘরের দিকে এগোলো।
ঝুমরি হতভম্বের মতো তক্তোপোষে বসে। একটু আগে ঝড়ের মতো ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সাজানোর চেষ্টা করছিলো। মা সকাল সকাল পান্ডেদের বাড়িতে যাওয়ার পর, ঝুমরি ঘর দোর গুছোছিলো, কাল সগুন আসবে। বিকেলে ওদের উঠোনে সব সহেলীরা আর পাড়ার ঔরাতরা আসবে। ঢোল বাজিয়ে গানা, মেহেদী লাগানো হবে। দরজায় জোরে জোরে আওয়াজ শুনে ঝুমরি খুলে দেখে রাকেশের মা, চাচী আর বোনেরা দাঁড়িয়ে। ঝুমরিকে দেখেই অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে লাগলো। সে নাকি বাজারের মেয়েছেলে। কাল রাতে ওপাড়ার মিশ্রজী নিজের চোখে ওকে পোড়া মন্দির থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছে। কাল সারারাত নাকি সে সরকারি বাবু দীনেশের সাথে মস্তি করেছে।
_ আমার ভাই তোকে গতরে সুখ দিতে পারবে না বলে না টাকা হাতানোর জন্য ওই নোকরিওয়ালা বাবুর সাথে শুয়েছিস। তোর মা নিজে ইজ্জতওয়ালী সেজে মেয়েকে নাঙ ধরতে শেখাচ্ছে।আমরা রিস্তা তোড়তে এসেছি। তোর মা কই, এমন কালমুহী লড়কী জিনদা রহেনে সে তো মর যা না আচ্ছা হে। ঝুমরি হাউমাউ করে সবার পায়ে পড়ে কাঁদতে লাগলো। হঠাৎ একটা মেয়ে ঝুমরির দোপাট্টার দিকে তাকিয়ে হিস্টিরিয়া রোগীর মতো চেঁচিয়ে উঠলো ইস দোপাট্ট কো ওড় কে ভাবি তো আজ সুভে মে গলি সে নিকল রহী থী।
_
কোই ভাবী নেহী বলেই রাকেশের মা জোর করে ঝুমরির হাত থেকে বালা খুলতে গেলো। চিল্লামিল্লিতে পাড়ার সবাই হাজির, কেও বিশ্বাস করতে পারছে না, কে কে ও বলছে এই দোপাট্টা পড়ে ঝুমরিকে একেবারে ভোরে ঘরে ঢুকতে দেখছে। ঝুমরির অসহায় চোখ তখন রাকেশকে খুঁজছিলো। রাকেশ ওদের দেওয়ালে পিঠ দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলো। চোখ দিয়ে দরদর করে জল পড়ছে তবু ও যেন আগুন ঠিকরে বেরোছে।
ঝুমরি ওকে দেখতে পেয়ে ছুটে ওকে জড়িয়ে ধরে যাবে তখনই এক ঝটকায় ওকে সরিয়ে রাকেশ কেটে কেটে বললো_ ম্যায়নে তো সোচা ভী না থা তু ইতনা বড়ী রন্ডী হে ! একদলা থু মাটিতে ছিটিয়ে বললো_ আমি এত মোহাব্বত করে নিজের হাতে দোপাট্টা তোকে দিয়েছিলাম সেটা শোয়ার সময় ছিঁড়ে আশীকের কাছে ফেলে এসেছিস।রাকেশের হাতে ধরা দোপাট্টার একটা ছেঁড়া অংশ।

বাড়ি এখন শুনশান, সবাই চলে গেছে, ঝুমরির জীবনে নোংরা নর্দমার কাদা ছিটিয়ে।
ঝুমরি এই দোপাট্টার রহস্য কিছুতেই মেলাতে পারছে না। কে দীনেশ? কাল রাতে সে তো ঘরে ছিলো। তবে আজ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দেখে মা নেই। কুয়োয় জল তুলছিলো তখন মা দরজা ঠেলে ঢুকলো। মায়ের মাথায় তো দোপাট্টা, বিদ্যুৎ চমকের কি একটা মাথায় খেলে যেতেই শরীর শক্ত হয়ে গেলো। ঝুমরি আর রোশনিকে পেছন থেকে দেখলে সবাই ভুল করে। মা বলেছিলো বহুতদিন আগে একটা ছেলেকে প্যায়ার করতো, সে এখন শহরে আছে।
বাজে খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। রান্নার বাড়িতেই মেয়ের বিয়ে ভাঙার খবর পেয়ে রোশনি ছুটতে ছুটতে বাড়ি ঢোকে। হে ভগবান! এ কি করলে তুমি! দরজাটা দুবার আওয়াজ করে ও ভেতর থেকে যখন কেও খুললো না তখন রোশনি শরীরের সব শক্তি দিয়ে দরজায় চাপ দিলো, শেকলে জং ধরেছিলো। আওয়াজ করে খুলে গেলো। জানলা বন্ধ, আধো অন্ধকারে রোশনি দেখলো ঝুমরির পা দুটো ঝুলছে। কড়িকাঠ থেকে ঝুমরির জোরদৌসি ওড়না ব্যাঙ্গের মতো হাসি হেসে ঝকমক করছে, মাথাটা ওর হেলানো।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY