পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে ড. ইউনূসের হাত ছিল : প্রধানমন্ত্রী

371

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের নির্দেশে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে হাত ছিল ইউনূসের। তাঁর প্ররোচণায় বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দেয়।

রবিবার (১৪ই অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন, সেতুর ৬০ ভাগ কাজের অগ্রগতির ফলক স্থাপন, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ এবং মাওয়া-কান্দিপাড়া-যশলদিয়া এলাকার ১৩০ মিটার নদী তীররক্ষা প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে মাওয়া গোলচত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তৃতাকালে সেতুটির নির্মাণকালে দেশকে ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যক্তিস্বার্থে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে বাধাদানকারীদের সমালোচনা করেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘(যুক্তরাষ্ট্রের) স্টেট ডিপার্টমেন্টের অনেকেই এসে হুমকি দিত, ইউনূসকে (ড. মুহম্মদ ইউনূস) গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে সরালে পদ্মা সেতু হবে না। পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমি বললাম, ইউনূসের সঙ্গে পদ্মা সেতুর কী সম্পর্ক? একজন লোক নোবেল পুরস্কার পেয়ে গেছেন, অথচ একটি ব্যাংকের এমডির পদের লোভ ছাড়তে পারেন না কেন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের একটি স্বনামধন্য পত্রিকার সম্পাদক এবং ইউনূস স্টেট ডিপার্টমেন্টে গিয়ে ঘোরাঘুরি করেন। হিলারি ক্লিনটনকে বলেন এবং পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করতে অনুরোধ জানান। হিলারি বিশ্বব্যাংকের প্রধান জোয়েলিককে ফোন করে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের কথা বলেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোনো অনুমোদন ছাড়াই ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে ছিলেন। আইনি বাধ্যবাধকতায় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরে যেতে হয়েছে ড. ইউনূসকে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য থেকে বলা হয়েছে ড. ইউনূসকে রাখার ওপর পদ্মা সেতুর নির্মাণ নির্ভর করছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধে ষড়যন্ত্র করায় শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা গরিবের সুদের টাকায় বড়লোক হয়, তাদের আবার কিসের দেশপ্রেম? তাদের দেশপ্রেম থাকতে পারে না। দেশপ্রেম থাকলে দেশের উন্নয়নবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পারত না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। ২১ বছর পর যখন আমরা ক্ষমতায় আসি, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এ দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করি। আমরা যমুনা নদীর ওপর সেতুসহ আরো অনেক সেতু করেছি। এর মধ্যো পদ্মা সেতু অন্যতম।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়। আমরা আবার ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুর কাজ হাতে নিই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সেতু নিয়ে আমাদের আগেই ভাবনা ছিল, এই সেতুটি নিয়ে আমাদের চিন্তা ছিল নতুন কিছু করার। শুধু সড়ক সেতু না, সঙ্গে রেল সংযোগ যাতে থাকে, সেভাবে চিন্তা করি। আমার কাছে দুটি ডিজাইন আনা হয়, সেখান থেকে যে ডিজাইনে নিচে রেল সংযোগ ও ওপরে সড়কপথ রয়েছে, সেইটা আমার পছন্দ ছিল। সেইসঙ্গে অনেকেই এগিয়ে আসেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজে। অনেক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে এবং আমি তা গ্রহণও করি। সেইসঙ্গে কাজ শুরু করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলো আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে, যারা দেশের স্বার্থ দেখে না শুধু ব্যক্তিস্বার্থই দেখে। পদ্মা সেতুর সব কাজ যখন শুরু হলো, তখন একটা ঘটনা ঘটল। যা আপনাদের সবার জানা। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে হাত ছিল ইউনূসের। তিনি দেশের চিন্তা করেন নাই। তিনি তাঁর নিজের চিন্তা করে বিভিন্নজনকে দিয়ে ফোন করিয়েছেন আমাকে। সব ষড়যন্ত্র শেষে ঘোষণা করি, আমরা আমাদের নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করব। কারো সাহায্য ছাড়াই নির্মাণ হবে এই পদ্মা সেতু। আজ বাংলাদেশের মানুষের সহযোগিতায় ১৫০ মিটার পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি যে আমরাও পারি।’

এর আগে আজ বেলা ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে মাওয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে মাদারীপুরের শিবচরে একটি দলীয় জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY