১ নভেম্বর সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছে ইসি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরই তফসিল

325

  দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আগামী ১ নভেম্বর সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনাররা। সাক্ষাতের পরই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সভা করে কমিশন তফসিল ঘোষণা করতে পারে। এটি হলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষদিকে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে রোববার পর্যন্ত নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

নির্বাচনী আইন সংস্কারে ইসি তোড়জোড় দেখালেও ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায়’ ছোটখাটো সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এতে নির্বাচনী প্রচারে কাপড়ের পোস্টার ও জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান যুক্ত হচ্ছে।

তবে নির্বাচনের সময় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে এমপিদের প্রভাব কমিয়ে আনার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই ইসির। ইসির হিসাব অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হবে। আগামী ২৮ জানুয়ারির আগে সংসদ নির্বাচন করতে হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে রোববার ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে ইসির সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করেছি। তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইসির সভায় তফসিল নিয়ে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে আমরা তফসিল ঘোষণা করব।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সভাপতিত্বে কমিশনের ৩৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের কারণে এ সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার উপস্থিত ছিলেন না। বাকি নির্বাচন কমিশনাররা ও ইসি সচিবসহ ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, আচরণ বিধিমালায় দুটি সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে নতুন বিধান যুক্ত করে নির্বাচনী প্রচারে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না- এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পোস্টারের সংজ্ঞা থেকে কাপড় শব্দটি তুলে দেয়া হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, আচরণ বিধিমালা সংশোধন নিয়ে কয়েক দফা ইসির আইন সংস্কার কমিটি বৈঠক করে প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত করে। ওই খসড়া খতিয়ে দেখতে একজন আইন পরামর্শকও নিয়োগ দেয়া হয়। চূড়ান্ত খসড়ায় তফসিলের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের থাকা এবং সভার অনুমতি সংক্রান্ত ধারায় সংশোধনী আনার প্রস্তাব থাকলেও কমিশন সভায় তা নিয়ে আলোচনা হয়নি।

ফলে আইন সংস্কার নিয়ে ইসির বড় আয়োজন থাকলেও ছোটখাটো সংশোধনীতে সীমাবদ্ধ থাকছে ইসি। সচিব জানান, বিদেশি পর্যবেক্ষক নীতিমালা আরও পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, বর্তমান বিধিমালায় তফসিলের পর সভা করার জন্য ২৪ ঘণ্টা আগে লিখিত অনুমতি চাওয়ার বিধান আছে। ইসির আইন সংস্কার কমিটি সূত্র জানায়, এক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত দেয়া না হলে অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে- এমন একটি বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়।

এছাড়া বর্তমান বিধিমালায় বলা আছে, কোনো প্রার্থী বা তার মনোনীত কোনো প্রতিনিধি আগে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকলে নির্বাচনের সময় তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো সভায় বা প্রতিষ্ঠানের কাজে অংশ নিতে পারবেন না।

এ বিধানের সঙ্গে নিবন্ধিত দলের কমিটির পদধারী ব্যক্তি ও নেতাকর্মী পরিচালনা পরিষদে থাকতে পারবেন না, এ বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। সভার যে কার্যপত্র ইসির কর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে, সেখানেও এসব বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু কমিশন সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

নির্বাচন করতে দল ও ইসির দূরত্ব কমাতে হবে : নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে (ইসি) দূরত্ব কমিয়ে আনতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল নয়, ভোটারদের স্বার্থ রক্ষা করে ভোটকক্ষ স্থাপন করতে বলেছেন তিনি। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে (ইটিআই) নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সিইসি এ নির্দেশ দেন।

সিইসি নুরুল হুদা আরও বলেন, নির্বাচন সংস্কৃতিতে একটা জিনিস নতুন যোগ হয়েছে। সেটা হল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। এটা একটা ভালো দিক। আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা (নির্বাচনী কর্মকর্তা) রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থা ও পরিস্থিতি বোঝাবেন। তাদের সঙ্গে একটা সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করবেন। ভোটকক্ষ স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে বুথ বসানো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধ থাকে। এর কিছু যৌক্তিক। তবে আমাদের রাজনৈতিক দলের কথায় নয়, বরং ভোটারের স্বার্থরক্ষা করে কাজ করতে হবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদর্শনের পর ইতিবাচক মূল্যায়ন পাওয়া গেছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, আগের ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। ব্যালট বাক্স রাত থেকে পাহারা দিতে হয়, ইভিএমে তা লাগে না। বরং ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল দিনের মধ্যে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রকাশ করা যায়।

রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, সরকারের আইনকানুন পোলিং এজেন্টদের কাছে পরিষ্কার থাকলে ভোটগ্রহণে সুবিধা হয়। নির্বাচন কর্মকর্তাদের কী দায়িত্ব এবং পোলিং অফিসারের কতখানি অধিকার ও কী কী তাদের কাজ- এ দুটো জিনিস জানা থাকলে নির্বাচন পরিচালনা করতে সুবিধা হয়। প্রার্থীদের স্বার্থরক্ষার জন্য আইনগত দিক দেখা ও বোঝা এজেন্টদের সহজ হয়।

আমরা এ বছর চেষ্টা করব, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়ার। রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত থাকলে তাদের এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এতে পোলিং এজেন্টরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন এবং নির্বাচনে তাদের দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে।

সভায় বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও ইটিআই মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY