শুধু দুর্নীতি নয় অপচয়ও ভয়ংকর অপরাধ পরিকল্পনামন্ত্রী

57

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক: পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, শুধু দুর্নীতি নয় অপচয়ও ভয়ংকর অপরাধ। জনগণের টাকা নষ্ট হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করতে হবে। বাংলাদেশকে নতুন করে সাজাতে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সব কাজের মূল নায়ক জনগণ। এমন প্রকল্প নিতে হবে যাতে জনগণ সরাসরি উপকার পায়। জনকল্যাণকর যে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হবে। শনিবার বিকালে সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী সভা পরিচালনা করেন। এতে সিসিক কাউন্সিলর রেজুওয়ান আহমদ, শান্তনু দত্ত, তৌফিক বক্স লিপন, সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজসহ সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান আরও বলেন, মন্ত্রী হিসেবে আমরা যখন প্রতি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকল্পগুলো নিয়ে যাই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তখন জানতে চান- এগুলো বাস্তবায়িত হলে জনগণের কী ধরনের লাভ হবে। জনগণের উপকারের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে পারলে কোনো প্রকল্পই তিনি ফিরিয়ে দেন না। এমএ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ একটি টাকাও যেন অপচয় না হয়। বিফলে না যায়। সিলেটের উন্নয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী খোঁজখবর রাখছেন। সিসিক কাউন্সিলরদের বিভিন্ন দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর উপহার হিসেবে সিলেট নগরবাসীর জন্য হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধু মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স’ প্রকল্পের কাজ শুরু করার ঘোষণা দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। কাউন্সিলর শান্তনু দত্তের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর চালিবন্দর শ্মশান নির্মাণ প্রকল্প তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এর আগে সভায় সিসিকের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের চিত্র ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বাজেটের অভাবসহ নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা কাউন্সিলররা তুলে ধরেন।

দুপুরে দক্ষিণ সুরমার কদমতলীতে সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের টাকার মালিক দেশের জনগণ। এসব টাকার হিসাব জনগণকে দিতে হবে। উন্নয়নের বরাদ্দ টাকার যথাযথ ব্যবহার দেখতে চাই। বালিশ, পর্দা ও বদনা দুর্নীতির মতো কলঙ্ক নিতে চাই না। তিনি বলেন, জনগণ এখন খুবই সচেতন। তারা দুর্নীতি ধরার জন্য আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, যারা প্রকল্প বানাবেন তারা সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করে নেবেন। এতে দুর্নীতি কমে আসবে। ট্রাক ও বাস চালকরা যাতে বিশ্রাম নিয়ে কাজে বের হতে পারেন সেজন্য টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY