অভিভাবকহীন-অসহায়দের সেবায় ‘মানবিক পুলিশ ইউনিট’

27

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্কঃ পথের ধারে পড়ে থাকা অভিভাবকহীন এবং প্রতিবন্ধী অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ‘মানবিক পুলিশ ইউনিট’ যাত্রা শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপিতে। বিষয়টি এতোদিন অজানা থাকলেও সম্প্রতি সিএমপি মানবিক পুলিশ ইউনিট গঠনের ঘোষণার পর এসব সদস্যদের কর্মকাণ্ড জনসম্মুখে আসে।

এই উদ্যোগটি মূলত চট্টগ্রামের দামপাড়া বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের কনস্টেবল নার্সিং ও প্যারামেডিক ডিপ্লোমাধারী মো. শওকত হোসেনের। ২০০৫ সালে কনস্টেবল হিসেবে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন শওকত। পাঁচ বছর পর ঢাকা থেকে বদলি হন চট্টগ্রামে।

শওকতের সাথে এ কাজে শামিল হয়েছেন কনস্টেবল মো. মাহবুবুল আলম, মো. হান্নান, মো. ইয়াছিন আরাফাত, মো. মাঈনুদ্দীন, মো. এমরান হোসেন, মো. রবিউল হোসেন। এতোদিন পরিচয় গোপন করে নিজেদের টাকায় তারা এ সেবা দিতেন। প্রায় ৪০ জন অসহায়কে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে এই টিম।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল জরুরি বিভাগের পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন তারা। প্রচারের আড়ালে থেকেই প্রায় ৯ বছর অসহায়দের এভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছেন সিএমপির এই সদস্যরা।

সিএমপির মানবিক পুলিশ ইউনিট। ছবি: সংগৃহীত

সিএমপির মানবিক পুলিশ ইউনিট। ছবি: সংগৃহীত

উদ্যোগতা পুলিশ সদস্য মো. শওকত হোসেন বলেন, অসুস্থ পুলিশ সদস্যদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আনা নেওয়া মাঝে থাকি। এর সুবাদে হাসপাতাল এলাকায় অনেক অসহায় মানুষকে পথের ধারে পড়ে থাকতে দেখতেন যাদের বেশিরভাগই অভিভাবকহীন এবং প্রতিবন্ধী।

তিনি বলেন, কাজ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জনকে আমরা সেবা দিয়েছি। এদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের ছোটখাটো অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, তাদের কাজে পুলিশ কর্মকর্তারা অভিভূত। এজন্য ‘মানবিক পুলিশ ইউনিট’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তা খুব শিগগিরই করা হবে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY