মানুষ ক্রমে নাগরিক বোধ হারিয়ে ফেলছে: সুলতানা কামাল

184

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ দেশের মানুষ ক্রমেই নাগরিক বোধ হারিয়ে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল।

তিনি বলেন, ‘নাগরিক বোধের এই অনুষ্ঠানে মানুষের ভিড় ক্ষীণ। যেসব অনুষ্ঠানে দলীয় আনুগত্যের ব্যাপার আছে, সেখানে কিন্তু শয়ে শয়ে, হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হবে। যেখানে শুধু ক্ষমতার কাছে আনুগত্য থাকে, সেখানে আমরা থাকি। আর যেখানে নিজস্ব ধ্যানধারণা প্রকাশের ব্যাপার থাকে, সেখানে উপস্থিতি কম থাকে।’

রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে রোববার বিকেলে এক নাগরিক স্মরণসভায় সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক অজয় রায়কে স্মরণে এই সভার আয়োজন করে অধ্যাপক ড. অজয় রায় স্মরণ নাগরিক কমিটি।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘এতে আমি বিস্মিত নই। এ ধরনের নাগরিক স্মরণসভায় মানুষের সমাগম বেশি থাকে না। যেহেতু আমরা নাগরিক বোধ হারিয়ে ফেলছি, তাই নাগরিক কোনো অনুষ্ঠানে নাগরিকদের উপস্থিতি কম থাকবে। আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বলে ক্ষমতায় আছেন, সপক্ষে কথা বলে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেশ ভালো জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন, তারা কিন্তু অনবরত আপস করছেন। সেই জায়গায় অজয় রায় একজন অনন্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত আছেন, থাকবেন।’

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেন, ‘এই রাজনৈতিক সময়ে আমরা মৌনতা অবলম্বন করছি, যা দুঃখজনক। রাজনৈতিক এই পরিবেশে আমরা শুধু আপস করতেই দেখছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্রমে বিসর্জনের পথে চলেছে। এই জায়গা থেকে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

অজয় রায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের প্রায় সব গণতান্ত্রিক ও নাগরিক আন্দোলনে সামনের কাতারের মানুষ ছিলেন। ২০১২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে একুশে পদক পান তিনি। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে মারা যান এই অধ্যাপক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকসহ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, অজয় রায়ের ছেলে অনুজিৎ রায়, অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, অধ্যাপক এ এন রাশেদা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY