চাল চোরের পক্ষ নেয়া আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার করলেন ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

223

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্কঃ ত্রাণের চাল চুরির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী সরদারকে বাঁচানোর চেষ্টা করায় দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালের নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মেয়র আব্দুল বাতেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি’র ছোট ভাই এবং মেয়র এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাবস)-এর নির্বাচিত সভাপতি।

বেড়ার ঢালারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোরবান আলী সোমবার ত্রাণের চালসহ র‌্যাবের হাতে আটকের পর আব্দুল বাতেন তার পক্ষ নেন এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধাচরণ করেন। চাল চোরকে মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত হয়ে এ অভিযানকে প্রশাসনের ষড়যন্ত্র আখ্যা দেন। এতে দলের শীর্ষ মহল থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশনা আসে।

লিখিত বিবৃতিতে জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, সোমবার রাতে বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কোরবান আলী সরদার কালো বাজারে ভিজিডি ত্রাণের ২২৯ বস্তা চাল বিক্রির সময় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় কেন্দ্রের নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ দলীয় সকল পদ থেকে কোরবান সরদারকে বহিষ্কার করে। গ্রেপ্তারের ঘটনাকে প্রশাসনের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে তাকে নিঃশর্ত মুক্ত করতে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপির ভাই আব্দুল বাতেন তদবির শুরু করেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বিষয়টি অবগত হয়ে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালে নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ সিদ্ধান্ত ১৪ এপ্রিল ২০২০ তারিখ হতেই কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, আব্দুল বাতেন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করে বিভিন্ন বিতর্কিত কাজ করে আসছিলেন। সরকারী নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অবৈধ নৌবন্দর পরিচালনা, জামাত ও বিএনপির লোকজনকে প্রশ্রয় দেয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন দূর্ণীতির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। আব্দুল বাতেনের কারণে দল বার বার বিব্রত হয়েছে। সর্বশেষ ত্রাণের চাল চুরি করে গ্রেপ্তার হওয়া চেয়ারম্যানের পক্ষে তদবির করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY