সমন্বয়হীনতায় হচ্ছে না হুমায়ূন স্মৃতি জাদুঘর: শাওন

274

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক : নন্দিত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী রোববার যথাযোগ্য মর্যাদায় গাজীপুরে পালিত হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এ দিবসটি এবার স্বল্প পরিসরে পিরুজালী গ্রামের নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা ও ভালবাসার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রয়াত এ লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং তার দুই ছেলে নিশাদ ও নিনিত, শ্বশুর প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীসহ পরিবারের ক’জন সদস্য রোববার সকালে গাজীপুরে আসেন। বেলা ১২টার দিকে তারা নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবর জিয়ারত করেন। এ সময় প্রয়াত লেখকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে অনন্য প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম, কাকলী প্রকাশনীর সেলিম আহমেদ, অন্বেষা প্রকাশনীর শাহাদাৎ হোসেন, কাঠপেন্সিল প্রকাশনীর এসকে চৌধুরী, অভিনেতা সিরাজুল কবির কমল, হিমু পরিবহনের চার সদস্যের প্রতিনিধি, নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ হুমায়ূন ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের সমাধির পাশেই নির্মাণ করা হবে হুমায়ূন স্মৃতি জাদুঘর। যেহেতু নুহাশপল্লী একটি পারিবারিক সম্পদ। পারিবারিক সম্পত্তির মধ্যে এ রকম কিছু একটা করতে হলে পরিবারের সবার মতামত নিতে হবে। ওই জায়গাটিতে এখনও আমি অপারগ হয়ে আছি। আমি এখনও সবাইকে একত্র করতে পারিনি। পারিবারিক সমন্বয়হীনতার কারণে জাদুঘরটির নির্মাণ কাজ এখনও শুরু করা যাচ্ছে না। আমি চেষ্টা করছি পরিবারে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে জাদুঘরটি নির্মাণ করার জন্য। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাদুঘর নুহাশপল্লীতেই হবে, এটা নিশ্চিত করে বলছি।

হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ করে শাওন বলেন, বর্ষাকে তিনি উদ্যাপন করতেন। আমরা বৃষ্টিতে ভিজি, আর তিনি বর্ষা উদ্যাপন করতেন। যা তার ভক্তরাও জানে।

মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিবছর বিভিন্ন এতিমখানার এতিমদের নিয়ে কোরানখানির ব্যবস্থা করা হতো। এবার তা সীমিত আকারে হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের এদিনটিতে দুপুরে এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার এতিম শিশু ছাড়াও অতিথিদের খাওয়ার আয়োজন করা হতো। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে খাওয়ার আয়োজন করা হয়নি। কোরানখানি ও আপ্যায়ন করতে যে টাকা ব্যয় হতো সে টাকা করোনাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত, অসহায় দু’শ’ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় একমাস ধরে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে খুঁজে এসব পরিবারকে নির্বাচন করা হয়।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, লেখক, ভক্ত-অনুরাগীর উপস্থিতি ছিল সীমিত। দর্শনার্থীদেরও অংশগ্রহণ ছিল অনেক কম। ছিল না অন্যান্যবারের মতো বড় পরিসরে মানুষ খাওয়ানো ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। লোক সমাগম কম থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন ভক্তদের আগমন অব্যাহত ছিল। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে নেত্রকোনায় হুমায়ূন আহমেদের শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমায়ূন আহমেদ আমেরিকার নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়ার কুতুবপুর গ্রামে হুমায়ূন আহমেদের নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শহীদস্মৃতি বিদ্যাপীঠের উদ্যোগে রবিবার তার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সীমিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল কালোব্যাজ ধারণ, কোরানখানি, শোক র‌্যালি ও হুমায়ূন আহমেদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ।

এদিকে জেলা শহরের প্রেসক্লাবে হিমু পাঠক আড্ডার উদ্যোগে সামাজিক দূরত্ব মেনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিমু পাঠক আড্ডার সমন্বয়ক আলপনা বেগমের পরিচালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন: প্রেসক্লাব সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সভাপতি কামরুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY