উখিয়ার সেই রোহিঙ্গা রাজা বখতিয়ার সহযোগীসহ নিহত

192
দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক : দেশের সীমান্ত জনপদ কক্সবাজারের উখিয়ার সেই রোহিঙ্গা রাজা বখতিয়ার তার সহযোগীসহ  বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে টেকনাফ থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে তারা নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের সদস্য বখতিয়ার ছিলেন টেকনাফ-উখিয়ার প্রথম সারির গডফাদার। বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা এবং মাদক ব্যবসার ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে। উল্লেখ্য, বখতিয়ার সম্পর্কে প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ প্রতিদিনে। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘উখিয়ায় আছে বখতিয়ার’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর তার অপরাধ জগতের নানা কাহিনি জনসম্মুখে আসে।এদিকে রাজধানী ঢাকা ও ফেনীতে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন আরও তিন মাদক ব্যবসায়ী। র‌্যাব-পুলিশ বলছে, নিহতরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

অভিযানকারী দলের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় তারা। এতে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলিবিদ্ধ হন। তাদের প্রত্যেককে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা  করেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে টেকনাফের হ্নীলা ওর্য়াবাং-এ সৌদি প্রবাসী নুর হোসেনের আকাশী গাছের বাগানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন বখতিয়ার এবং তার সহযোগী রোহিঙ্গা মো. তাহের (২৭)। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এ ঘটনায় ৫টি দেশীয় তৈরি এলজি, ইয়াবা বিক্রির ১০ লাখ নগদ টাকা, ১৭ রাউন্ড কার্তুজ, ১৩ রাউন্ড কার্তুজের খোসা এবং ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।জানা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ার গডফাদার মৌলভী বখতিয়ার আহমেদ এক সময় ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রোকন। আওয়ামী লীগে যোগদান করেই হয়ে ওঠেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা। তাকে ‘রোহিঙ্গা রাজা’ বলেই চেনেন সবাই। সরকারের আইন-কানুনের ধার ধারতেন না তিনি। নিজের তৈরি আইনেই চলতেন এবং চালাতেন। তার দুটি ‘স্পেশাল লাঠি’ ছিল। তা দিয়েই চলত তার শাসন-শোষণ। উখিয়ার পাহাড় গাছ ভূমি-বাদ রাখেননি। সবই গেছে তার পেটে। রয়েছে তার ‘মাঝি কমিটি’। চেনা শহরে তিনি গড়ে তুলেছেন এক ভিন্ন জগৎ। উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এই বখতিয়ার ছিলেন উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। পুলিশ জানায়, বখতিয়ারের হাত ছড়িয়ে আছে উখিয়াজুড়েই। অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা ব্যবসা আর মানব পাচারÑ সব অপরাধের শিরোমণিও তিনি। স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠজন বখতিয়ার রাজনৈতিকভাবেও ছিলেন ক্ষমতাধর। সহায়-সম্পদ তার পাহাড়সম। তার ইশারাতে চলত শরণার্থী শিবিরগুলো। দেশ-বিদেশের সাহায্য সহযোগিতা এলেও যেতে হতো তার হাত ধরে। পাশাপাশি জঙ্গি তৎপরতা থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধও তার ইচ্ছাতেই হতো। উখিয়ায় একের পর এক পাহাড় আর হাজার হাজার গাছ বিনাশ করে রোহিঙ্গাদের যেসব শিবির নির্মাণ করা হয়, তার সবই করেছেন এই বখতিয়ার। এরই মধ্যে পাহাড়ে গাছ কেটে কয়েক হাজার বস্তিঘর তৈরি করা হয়েছে। এদিকে রাজধানীর তুরাগ থানার দিয়াবাড়ীর বন্দুকযুদ্ধের বর্ণণা দিয়ে র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গতকাল ভোরে দিয়াবাড়ীতে চেকপোস্টে র‌্যাবের সিগন্যাল অমান্য করে উল্টো র‌্যাবকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মোটরসাইকেল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করে। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে তারা গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে শহীদ  সোহরাওয়ার্দী  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। র‌্যাব জানায়, অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি, তিনটি মোবাইল ও মোটরসাইকেল, ৩ হাজার ৯০টি ইয়াবা, ১০ হাজার টাকা পাওয়ার দাবি করেছে র‌্যাব। কামরুজ্জামান আরও বলেন, সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নিহতরা হলেন ইব্রাহিম খলিল (৪৬) ও ওমর ফারুক (৩৫)। এরা সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী। ঢাকা থেকে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা করতেন।

ফেনী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের দুইপক্ষের গোলাগুলিতে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ও  মাদক ব্যবসায়ী নজরুল নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ছাগলনাইয়ার শুভপুরে এ ঘটনা ঘটে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY