মেয়াদ বাড়ল সড়কের গতিহীন ৭১ প্রকল্পের

28

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক : বাস্তবায়নে গতিহীনতার কারণে প্রতি বছরই শত শত প্রকল্প টেনে নেয়া হচ্ছে পরের বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) তালিকায়। পুরনো প্রকল্পের চাপে নতুন প্রকল্প বরাদ্দ ঠিক মতো পাচ্ছে না। বিআরটি, জয়দেবপুর-এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, চারটি মহাসড়কের সমীক্ষা প্রকল্প, ২০১৫ সালে নেয়া ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প, বিআরটি লাইন-৭ এর সমীক্ষা প্রকল্পসহ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৭১টি প্রকল্পের মেয়াদ আবারো বাড়ছে। নির্ধারিত মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়েও সড়কের অনেক প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ। পাশাপাশি গত অর্থবছরের এডিপি থেকে জুনে সমাপ্ত না হওয়া ৪২২টি প্রকল্প চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে যুক্ত করা হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রে বলা হয়, অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বা সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী চলতি বছরের জুনে ৪২২টি প্রকল্প মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এসব গত অর্থবছরের জুনেই সমাপ্ত করার কথা ছিল। সমাপ্ত না হওয়ায় চলতি অর্থবছরের এডিপিতে আবারো তা যুক্ত করা হয়েছে। আর্থিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধি ব্যতীত এসব প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও ব্যয় করা যাবে না। সে প্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছর এডিপি অনুমোদনের সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় নির্দেশনা দিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এনইসি সভার সিদ্ধান্ত হলো, অনুমোদিত ডিপিপি বা আরডিপিপি অনুযায়ী ২০২০ সালের জুনে মেয়াদোত্তীর্ণ ৪২২টি প্রকল্প ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করা হলো। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সরকার ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর একনেক সভায় গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) অনুমোদন দেয়। দুই হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত করার অনুমোদিত মেয়াদ। ডিপিপির প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্প মেয়াদ পরিবর্তন না করে শুধু প্রকল্প সাহায্য ও স্থানীয় মুদ্রার সমন্বয় করা হয়। তবে প্রকল্প ব্যয়ের কোনো সংশোধনী করা হয়নি। এরপর ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারিতে মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়িয়ে চার হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়। এখানে প্রকল্প সাহায্য ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত নেয়া হয়। অর্থায়নকারী সংস্থা হলো, এডিবি, ফরাসী উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (ডিইএফ)। দুঃখজনক হলো প্রকল্প সাহায্য বৃদ্ধি পেলেও অতিরিক্ত এক হাজার ৩১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা বৈদেশিক সাহায্যের অর্থ এখনো পর্যন্ত প্রদান করা হয়নি। প্রকল্পটির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

এদিকে ২০১৩ সালে শুরু হওয়া জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল টু এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। দুই হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের মার্চের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। শেষ বার ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৯৩ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। আর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু তাতেও প্রকল্পটি শেষ হয়নি। কারণ হিসেবে করোনাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। এখন সময় বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

সড়কের সময় বাড়ানো ৭৫টি প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, রানীগঞ্জ কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতু, খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন সড়কে পিসি গার্ডার সেতু প্রকল্প, ২০১৫ সাল থেকে চলমান ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ি কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ (সওজ অংশ), সাপোর্ট টু জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা মদনপুর (ঢাকা বাইপাস ) সড়ক, ২০১৬ সাল থেকে চলমান সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক, জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭) মাগুরা শহর অংশের রামনগর মোড় থেকে আবালপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ, সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মানে প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, গোপালগঞ্জ জোন, ময়মনসিংহ জোন, সিলেট জোন, চট্টগ্রাম জোন। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া জামালপুর শহরের গেইটপাড় এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ, ফেরি ও পল্টুন নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়), ২০১৮ সালে শুরু হওয়া জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ বরিশাল জোন, ঢাকা জোন, কুমিল্লা জোন, সিলেট জোন, খুলনা জোন, রংপুর জোন, রাজশাহী জোন, ময়মনসিংহ জোন, উল্লাপাড়া রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে ঢাকা মাগুরা মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাগুরা মহাসড়ক থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংযোগ স্থাপনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প। এ ছাড়া ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টার সেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত এবং পাচ্চা-ভাঙ্গা অংশ ধীরগতি যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ চার লেন করা, যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ।

আইএমইডি ও পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিকভাবে সমীক্ষা না করে প্রকল্প প্রণয়ন করার কারণে এবং প্রকল্প প্রণয়নে অদূরদর্শিতার কারণেই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ হয় না। বছরের পর বছর এসব প্রকল্পকে এডিপিতে বরাদ্দ দিয়ে টানতে হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছরের বেশি হবে না। কিন্তু তিন বছরের অনুমোদন নিয়ে সেটা করা হচ্ছে ৫ থেকে ১০ বছরে। অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে যেসব নীতিমালা আছে তা সিকি পরিমাণও মানা হয় না।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY