‘মিয়ানমার সেনা অভ্যুত্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশকে’

51

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক : রোহিঙ্গা নিয়ে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। জনঘনত্বপূর্ণ দেশ হওয়ার পরেও জোরপূর্বক নির্বাসিত মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমান্ত খুলে দিয়েছিলাম বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ কয়েকবার আলোচনা করে ব্যর্থ হয়। ফলে চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছিল।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেছিলেন, আগামী মার্চ-এপ্রিলের দিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে। ভেরিফাইড হাওয়া ৪১ হাজারের বেশি নাগরিককে চীনের মধ্যস্ততায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং চীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সব বিষয়ে পজিটিভ আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারও রিয়ালাইজ করেছে যে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া দরকার, বাংলাদেশও ফিল করে তারা সম্মানের সঙ্গে নাগরিকত্ব নিয়ে ফিরে যাক। চীন সরকারও চায় যে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে ফিরে যাওয়া উচিত। কিন্তু হঠাৎ মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। এতে নতুন করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চিন্তা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

এদিকে আজ শনিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘মুজিব শতবর্ষে এক্সিম ব্যাংক’অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সামরিক অভ্যুত্থান কেন ঘটানো হলো সে বিষয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে একটি ব্যাখ্যামূলক চিঠি দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গুরুতর ভোট জালিয়াতির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নতুন সরকার বলেছেন, ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে তারা রোহিঙ্গাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে। মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে একটি চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কী কারণে তারা টেকওভারটা করেছে। তারা বলছেন, ১০ দশমিক ৪ মিলিয়ন (১ কোটি ৪ লাখ) ভুয়া ভোট হয়েছে। এই ভুয়া ভোটের কারণে তারা এমনটা করেছে।

আমাদের কাছে খবর এসেছে, মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর নতুন কমান্ডাররা সেখানকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের মুরুব্বিদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। রোহিঙ্গারা সেখানে অভিযোগ করেছে, তারা চলাফেরা করতে পারে না। মিয়ানমারের আর্মি সরকার তাদের বলেছেন, আস্তে আস্তে আমরা তোমাদের অবস্থার পরিবর্তন করব। এসব কথা শুনে আমাদের দিকে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে খুব উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তারা খুব খুশি, আর্মি তাদের অভয় দিয়েছে। এটি ভালো খবর বলে জানান ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY