‘কে নারী কে পুরুষ- এই প্রশ্নটা আসবে কেন?’

96
দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:  বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের বাদ রাখতে বলার যে সুপারিশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, তাতে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারী নেত্রীরা।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাওয়ার সাফল্যের দাবিদার, তখন এই ধরনের সুপারিশে তারা বলছেন, কর্মকর্তাদের নারী-পুরুষ বিভেদ টানার এই সুপারিশ পশ্চাৎপদই শুধু নয়, সংবিধানবিরোধীও।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা প্রশাসন। ডিসি বা ইউএনও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে থাকেন। কফিনে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

অনেক স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে নারী কর্মকর্তারা রয়েছেন, আর সেখানেই আপত্তি তুলেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

রোববার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এনিয়ে আলোচনা উঠার পর সরকারের কাছে সুপারিশ রাখা হয়েছে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী ইউএনওদের বিকল্প খুঁজতে।

কোন যুক্তিতে এই সুপারিশ- জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মহিলা ইউএনও গার্ড অব অনার দিতে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন।

“মহিলারা তো জানাজায় থাকতে পারেন না। সেক্ষেত্রে মহিলা গার্ড অব অনার দেন, এরকম একটি ব্যাপার আর কী…”

অধিকারকর্মী খুশি কবির সংসদীয় কমিটির সুপারিশকে ‘সংবিধানবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা কোন লিঙ্গের সেটা বিবেচ্য নয়। তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে এরকম সুপারিশ আসা সংবিধান বিরোধী।”

মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করে বলেন এই সুপারিশ ‘অগ্রণযোগ্য’।

“এই সুপারিশ সরকারের উন্নয়ন নীতির বিরোধী তো বটেই, সাথে সাথে সংবিধানবিরোধী। কীভাবে করতে পারে এরকম সুপারিশ! আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। নারীর ক্ষমতায়নবিরোধী এই প্রস্তাব কোনোভাবেই মানা যায় না।”

বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত বলেন, “এ ধরনের সুপারিশ নারী উন্নয়নের প্রতি এক ধরনের ধৃষ্টতা দেখানো। কোনভাবেই এটা মেনে নেওয়া যায় না।

“রাষ্ট্র একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাবে, সেখানে কে নারী কে পুরুষ এই প্রশ্নটাই আসবে কেন? আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশকে ‘পশ্চাৎপদ’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “একটি অবান্তর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

“রাষ্ট্র একটা নিয়ম করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের উপযুক্ত কর্মকর্তা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে নারী বা পুরুষ এই প্রশ্নটা আসবে কেন?”

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আকতার বলেন, “কোনোভাবেই ভাবতে পারছি না, এরকম একটি সুপারিশ আসতে পারে। এই সুপারিশ পশ্চাৎপদ মানসিকতার প্রকাশ।”

“আমি আশা করব, সংসদীয় কমিটি এই সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করবে,” বলেন এই সংসদ সদস্য।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY