নারীর সমান অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে -জাতীয় সম্মেলন ২০২১–এ বক্তারা।

30
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলন

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্কঃ নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আজও সমান অধিকারের সমাজ তৈরি করা যায়নি। স্বাধীনতার ৫০ বছরে ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে নারীর অগ্রগতি হয়েছে। তবে সমাজে নারীর সমান অবস্থান নিশ্চিত হয়নি। সমান অবস্থানের পথে বাধা হয়ে আছে বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন।

২৭.১১.২০২১ শনিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলন ২০২১–এ এসব কথা বলেন বক্তারা।
‘নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও একসাথে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট (উই ক্যান)

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশের নারীরা তুলনামূলক কম শক্তিধর বলে তারা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাল্যবিবাহ নিয়ে বিব্রত হতে হয়। দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে যেভাবে সরকার কাজ করছে সেভাবে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। এই কাজে নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী, বেসরকারি সংস্থা সবাইকে এক হতে হবে। আবেগে ভেঙে না পড়ে শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের পতাকা গেড়ে রাখার ঘটনাকে টেনে এনে বলেন, ‘অনেকে আজব কিসিমের কাজ করছে। এটা লজ্জার লজ্জার লজ্জার।’

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন আমরাই পারি জোট-এর চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তারা অসাম্প্রদায়িক, মানবিক, সবাইকে গ্রহণ এবং বৈচিত্র্যকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে বড় হয়। তিনি বলেন,সমাজে নারীর সমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পারিবারিক আইন পরিবর্তনের বিষয়ে সবাই এক হতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, নারীর অধিকার রক্ষায় সমাজের সব মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে না পারলে এ লড়াইয়ে জয়ী হওয়া যাবে না।

সাংসদ আরমা দত্ত বলেন, নারীর অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার। নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে দেশে অনেক ভালো ভালো আইন আছে। সমাজ সংবেদনশীল না হলে পরিবর্তন আসে না। এত কিছুর পরও দেশের নারীরা এগিয়ে চলেছেন।

আমরাই পারি জোট-এর কো-চেয়ার শাহীন আনাম বলেন, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে নারী নির্যাতন প্রতিরোধকে দায়িত্ব মনে করতে হবে প্রত্যেকের। বাড়িতে ও সমাজে নারীর প্রতি মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে নারী নির্যাতন বন্ধ হবে না।


বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ও জ্যেষ্ঠ জেলা জজ মো. গোলাম কিবরিয়া তাঁর বিচারকার্যের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো শুরুতে গোপন করার একধরনের প্রবণতা দেখা যায় পরিবার ও সমাজে। গোপন সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। এটা করতে গিয়ে তারা বিচার চাইতে দেরি করে ফেলে। নির্যাতনের ঘটনার পরপর মেডিকেল পরীক্ষা করা হলে, থানায় অভিযোগ জানালে বিচারকাজ সহজ হয়।

নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখায় প্রথমবারের মতো পাঁচ নারী-পুরুষকে দেওয়া হয় ‘চেঞ্জমেকার পদক ২০২১’। পদকপ্রাপ্তরা হলেন রংপুরের তানজিলা তাসনিম, রংপুরের মো. দেলোয়ার হোসেন, ঢাকার হুমায়রা বেগম, দিনাজপুরের রূপালী রানী দাস ও নোয়াখালীর পারুল আক্তার।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY