আটঘরিয়ার বীরমুক্তিযোদ্ধা পয়গাম হোসেন পাঁচু মৃত্যু শয্যায়

215
চেয়ারম্যান মো পয়গাম হোসেন
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মো: পয়গাম হোসেন পাঁচু। ছবি: দৈনিক আলাপ

আটঘরিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মো: পয়গাম হোসেন পাঁচু বর্তমান জীবন মৃত্যু সন্ধিক্ষনে তিনি এখন ঢাকার ধানমন্ডি জেনারেল এ্যান্ড কিডনী হাসপাতালে আইসিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তার গেজেট নং- ১৮৮৭।

তিনি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রথমে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থা অবনতি হলে ২ মার্চ তাকে ধানমন্ডি ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বীরমুক্তিযোদ্ধা পয়গাম হোসেন পাঁচু আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে মুসলিম পরিবারে তার তার জন্ম। তার বাবা জনু প্রামানিক। ১৯৭২ সালে এসএসসি পাশ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি কোনো একটি কলেজ থেকে বিএপাশ করেন।

তবে তিনি একজন দু:সাহসিক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুখ্যাতি ছিলেন এই উপজেলায়। অসীম সাহসিকতার পরিচয়ে দিয়ে ছিলো মহান মুক্তিযোদ্ধে। পয়গাম হোসেন পাঁচু সেই সময়ে ৫জন রাজাকারকে ঝাঁপটে (পাঁজা করে) ধরে মেরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে যুদ্ধকালিন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন রেনুর কাছে জমা দেন। সে সময়ে তিনি ভাড় উত্তোলনে পারদর্শিতা ব্যাপক দেখিয়ে ছিলেন। শারীরিক কসরত করতেন তিনি প্রতি নিয়মিত। ভার উত্তোলন সহ এ্যাথলেটে নানা ধরণের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

সদালাপ এই মুক্তিযোদ্ধা পঁয়গাম হোসেন পাঁচু দীর্ঘদিন যাবত দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি পাবনা শহরের রাধানগন ঈদগাহ রোডের পাশে তার বাড়ী। সেখানে তিনি বর্তমানে বসবাস করেন। স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে সহ নাতি নাতনীসহ পরিবার নিয়ে তিনি রাধানগন মহল্লায় বসবাস করেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা পঁয়গান হোসেন পাঁচু‘র পরিবারের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল হক বলেন, মো: পয়গাম হোসেন পাঁচু একজন দু:সাহসিক নেতা ছিলেন। সে এক জন বডি ফিল্ডারও ছিলেন। ১৯৭১ সালে সে আমার কাছে এসে মুক্তিযোদ্ধায় শরিক হন। এবং বারইপাড়া ব্রীজ এর নিচে ৫জন রাজাকার সব সময় অবস্থান নিতেন। পাঁচু সোরাব হোসেন নামক একজনকে সাথে নিয়ে রাজাকারদের ধরার জন্য কৌশলে মিশে যেতেন। তাদের সাথে কৌশল অবলম্বণ করে ৫ জন রাজাকার অস্ত্র সহ ধরে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে তাদেরকে আত্মসর্মপন করান। এবং অস্ত্র গুলো যুদ্ধকালিন কজমান্ডার আনোয়ার হোসেন রেনুর কাছে জমা দেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY