ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে পেঁয়াজের দাম কমছে

82
পেঁয়াজ
ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি: ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন কমতির দিকে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ৩০ টাকা।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর ২, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা যায় আমদানি করা (চায়না ও পাকিস্তানি) পেঁয়াজের কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রায় ছয় মাস পর এই নিষেধাজ্ঞা তুললো ভারত। তবে এই খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশের পেঁয়াজ চাষিরা। ভালো দাম পাওয়ার আশায় অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন তারা। অনেকের পেঁযাজ এখনও মাঠে রয়েছে, আবার অনেকের পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে। তাদের আশঙ্কা, ভারত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে এখন ব্যাপক পরিমাণ পেঁয়াজ দেশের বাজারে প্রবেশ করবে। ফলে তারা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যয্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন। লোকসানের মুখোমুখি হবেন তারা। এ কারণে অন্তত আরও ২/৩ মাস পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দেওয়ার দাবি তাদের। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক পেঁয়াজ চাষীর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজের রফতানি মূল্য দ্বিগুণ করে প্রতি টন ৮৫০ ডলার করায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে পেঁয়াজের দাম ২৬০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ‘কোনোভাবেই দেশের কৃষকদের লোকসানের কবলে পড়তে দেওয়া যাবে না। কৃষক যাতে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে আরও বেশি আগ্রহী হয় সে বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।’

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, ‘ভবিষ্যতে ভারতের ওপর পেঁয়াজ নিয়ে নির্ভর করা ঠিক হবে না। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একটাই পথ, সেটা হলো পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া। সরকার সেভাবেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে সরকার সেই পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি করার স্বপ্ন দেখছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন জানিয়েছেন, ‘এখনও সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।’

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY