কান থেকে ৯০০ কিলোমিটার দূরে সাদ-বাঁধন

43
ফ্রান্সের প্যারিসের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির কলাকুশলীরা (ছবি: আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ)

দৈনিক আলাপ বিনোদন ডেস্ক: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে উপকূলীয় শহর কানের দূরত্ব সড়ক ও রেলপথে ৯০০ কিলোমিটারের বেশি। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যাধুনিক হওয়ায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘুচে যায় সেই দূরত্ব। তাই কানে যাওয়ার আগে প্যারিসে আয়েশ করছেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির সাত কলাকুশলী। ভালোবাসার শহরে ২৫ জুন পা রেখেছেন তারা।

ভিসা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ, ইমিগ্রেশনের ঝক্কি, ট্রানজিটসহ ঢাকা থেকে লম্বা ভ্রমণের ধকল এখনো যায়নি। তবুও আজ (২৬ জুন) সকালে উঠে নাশতা সেরেই সবাই মিলে ইত্তেফাকের অনুরোধে একসঙ্গে ছবি তুলেছেন। নিজেকে বরাবরের মতো আড়াল রাখতে ক্যামেরায় ক্লিক করেছেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। ফ্রেমে আছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, চিত্রগ্রাহক তুহিন নাজমুল, প্রোডাকশন ডিজাইনার আলী আফজাল উজ্জল, শব্দ প্রকৌশলী শৈব তালুকদার, কালারিস্ট চিন্ময় রয় এবং নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু।

* আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ

৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের আঁ সার্তে রিগা বিভাগে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে। এটাই হতে যাচ্ছে পৃথিবী গ্রহে এর প্রথম প্রদর্শনী। সম্মানজনক এই আয়োজনের অফিসিয়াল সিলেকশনে ঢুকে ইতিহাস গড়েছে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ছবিটি। কানসৈকতে লাল-সবুজ পতাকা এবারই প্রথম এমন মর্যাদা নিয়ে উড়বে।

* দৃশ্য: ‘রেহানা মরিয়ম নূর’

সাধারণত প্রতিবছরের মে মাসে দেখা যায় কানের জৌলুস। করোনা মহামারির কারণে দক্ষিণ ফ্রান্সের সাগরপাড়ের শহর কানের প্রাণকেন্দ্র পালে দে ফেস্টিভাল ভবনে এবারের উৎসব শুরু হবে আগামী ৬ জুলাই। করোনার কারণেই ১১ দিন আগেই যেতে হয়েছে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ বাহিনীকে। কারণ ফ্রান্স সরকারের লাল তালিকার কারণে বাংলাদেশিদের কেউ টিকা না নিয়ে দেশটিতে ঢুকলে ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। টিকার দুই ডোজ নিলেও কমপক্ষে সাতদিন কোয়ারেন্টিন।

করোনার বিধিনিষেধের প্রক্রিয়া শেষে সাদের নেতৃত্বে আগামী ৫ জুলাই কানের পথে রওনা দেবেন বাঁধনসহ অন্যরা। সেই হিসাবে কানে তাদের পা পড়তে আরও একসপ্তাহের বেশি বাকি। আপাতত একসঙ্গে আড্ডা, রান্নাবান্না, খাওয়া, খেলা আর দৃশ্যধারণের দিনগুলো স্মৃতি রোমন্থন করে সময় কাটছে সবার।

প্যারিসেই গত ৩ জুন সংবাদ সম্মেলনে অফিসিয়াল সিলেকশন ঘোষণা করেন কান উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো। তার মুখেই শোনা গেছে, ‘আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ, রেহানা মরিয়ম নূর, বাংলাদেশ!’

আঁ সার্তে রিগা বিভাগে নির্বাচিত আরও ১৭টি ছবির নাম জানানো হয় ৩ জুন। এগুলো হলো— মানিবয়েস (সি.বি ই, প্রথম ছবি; অস্ট্রিয়া), ব্লু বায়ো (জাস্টিন চন, যুক্তরাষ্ট্র), ফ্রেডা (জেসিকা জেনেয়ুস, প্রথম ছবি; হাইতি), হাউস অ্যারেস্ট (আলেক্সেই জার্মান জুনিয়র, রাশিয়া), গুড মাদার (আফসিয়া আর্জি, ফ্রান্স), ফায়ার নাইট (তাতিয়ানা হয়েসো, মেক্সিকো), ল্যাম্ব (ভালদিমার ইওহানসন, প্রথম ছবি; আইসল্যান্ড), কমিটমেন্ট হাসান (সেমি কাপলানোলু, তুরস্ক), আফটার ইয়েং (কোগোনাডা, যুক্তরাষ্ট্র), লেট দেয়ার বি মর্নিং (এরান কোলিরিন, ইসরায়েল), আনক্লেনসিং দ্য ফিস্টস (কিরা কোভালেনকা, রাশিয়া), উইমেন ডু ক্রাই (মিনা মিলেভা ও ভ্যাসেল কাজাকোভা, বুলগেরিয়া), গ্রেট ফ্রিডম (সেবাস্টিয়ান মায়েস, অস্ট্রিয়া), লা সিভিল (তেওদোরা আনা মিহাই, প্রথম ছবি; রোমানিয়া/বেলজিয়াম), গাই ওয়ার (না জিয়াজো, প্রথম ছবি; চীন), দ্য ইনোসেন্টস (এসকিল ফুক্ট, নরওয়ে) এবং অ্যা ওয়ার্ল্ড (লরা বন্দেল, প্রথম ছবি; বেলজিয়াম)।

একসপ্তাহ পর ১০ জুন আঁ সার্তে রিগা বিভাগে স্থান পায় ফ্রান্সের ‘মাই ব্রাদারস অ্যান্ড আই’। এটি ফরাসি পরিচালক ইওয়ান মাঙ্কার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র। এরপর ১৪ জুন আয়োজকরা একই বিভাগে যোগ করে ফরাসি নির্মাতা আর্থার হারারির দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘ওনোদা-টেন থাউজেন্ড নাইটস ইন দ্য জঙ্গল’। এটাই ৭ জুলাই শুরু হতে যাওয়া আঁ সার্তে রিগার উদ্বোধনী ছবি।

সব মিলিয়ে আঁ সার্তে রিগায় এবার রয়েছে ২০টি ছবি। এগুলো দেখে কয়েকটি বিভাগে বিজয়ী তালিকা নির্বাচন করবেন বিচারকরা। আগামী ১৬ জুলাই আঁ সার্তে রিগা বিভাগের পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল সিলেকশনের একটি বিভাগ ‘আঁ সার্তে রিগা’। এর অর্থ ‘অন্য দৃষ্টিকোণ’। ১৯৭৮ সালে কান উৎসবে এটি চালু করেন জিল জ্যাকব। ফ্রান্সের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিতে সহায়তার জন্য অনুদানসহ তরুণ প্রতিভাবান নির্মাতাদের অভিনব ও সাহসী কাজে উৎসাহ দিতে ১৯৯৮ সাল থেকে আঁ সার্তে রিগায় পুরস্কার চালু হয়। ২০০৫ সাল থেকে ৩০ হাজার ইউরোর পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে এই বিভাগে।

এবার আঁ সার্তে রিগায় বিচারকদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্রিটিশ নারী নির্মাতা আন্ড্রেয়া আর্নল্ড। তার নেতৃত্বে বিচারকের আসনে থাকবেন আলজেরিয়ার পরিচালক মুনিয়া মেদু, ফরাসি অভিনেত্রী এলজা জিলবারস্তাইন, আর্জেন্টাইন পরিচালক দানিয়েল বরমান এবং মার্কিন পরিচালক মাইকেল অ্যাঞ্জেলো কোভিনো। তাদের মন জয় করে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কোনো পুরস্কার পেয়ে যায় কিনা সেদিকে তাকিয়ে বাংলাদেশিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবিটির অফিসিয়াল পেজে ‘উইশ আস বাংলাদেশ’ লিখে প্যারিসের পথ ধরেছিলেন সাদ-বাঁধনরা। কানের অফিসিয়াল সিলেকশনে যুক্ত হয়েই দেশকে গর্বে ভরে দিয়েছেন তারা। তাদের হাতে পুরস্কার দেখার জন্য নিশ্চয়ই শুভকামনা আছে সারাদেশের!

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY