মেয়ে কোলে ইন্ডাস্ট্রিতে,সম্পর্কের ওঠানামা, শেষ কথা বলল অভিনয়,শুভ জন্মদিন স্বস্তিকা

32
শুভ জন্মদিন স্বস্তিকা

দৈনিক আলাপ বিনোদন ডেস্ক: ৪১-এ পা। জীবনের মাঝপথে এসে বাকিদের থেকে নিজেকে আলাদা করে নিয়েছেন তিনি। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, টলিউডে আজ এই নাম ভিন্ন ভার বহন করে। বহু চর্চিত এই নায়িকা নিজের প্রতিভায় ভর করে কলকাতা থেকে মুম্বই পৌঁছে গিয়েছেন।
১৯৮০ সালে কলকাতায় জন্ম। একাধিক ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলে পড়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন।
বাংলা ধারাবাহিক ‘দেবদাসী’ দিয়ে ছোটপর্দায় পা রেখেছিলেন স্বস্তিকা। ২০০২ সালে ‘হেমন্তের পাখি’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় নামেন তিনি।
১৯৯৮ সালে ১৮ বছর বয়সে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী প্রয়াত সাগর সেনের ছেলে প্রমিত সেনের সঙ্গে চার হাত এক হয় সন্তু মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে স্বস্তিকার। তাঁর বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না বলেই জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। বিয়ের দু’বছরের মাথায় স্বামীর বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন তিনি। প্রমিত তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগও করেছিলেন নায়িকা।


সেই সম্পর্ক আজও আইনের খাতায় তোলা আছে। বিবাহবিচ্ছেদের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান প্রমিত। এর পরে স্বস্তিকা আর কোনও দিন বিয়ে করেননি। মা (গোপা মুখোপাধ্যায়), বাবা (সন্তু মুখোপাধ্যায়), বোন (অজপা মুখোপাধ্যায়), মেয়ে (অন্বেষা)-কে নিয়েই তিনি সংসার গুছিয়ে নিয়েছিলেন। প্রমিত এবং স্বস্তিকার একমাত্র সন্তান অন্বেষা আজ তাঁর মায়ের বড় সম্বল।
তবে সম্পর্ক হয়েছে। জীবনে পুরুষ এসেছে, গিয়েছে। বার বার কষ্টও পেয়েছেন স্বস্তিকা। কিন্তু প্রেমের মতো স্বাভাবিক ও সহজ বিষয়কে কোনও দিন লুকিয়ে রাখেননি তিনি। সকলের সামনেই ভালবেসেছেন।
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, সুমন মুখোপাধ্যায়, জিৎ, দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায়, মীর আফসার আলি— টলিউডের একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। যদিও মীরের সঙ্গে স্বস্তিকার সম্পর্ক গুজব কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে।
পর্দায় তিনি জুটি বেঁধেছেন অনেক নায়কের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর পাশে যিনি সব সময়ে ছিলেন, আছেন, থাকবেন, তিনি অন্বেষা। স্বস্তিকার মেয়ে। ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলেন কোলে মেয়ে নিয়ে। যে সময়ের কথা হচ্ছে, সেই সময়ের সমাজে নায়িকাদের নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব ছিল। অভিনেত্রীদের বিয়ে যাওয়া মানে বয়স বেড়ে যাওয়া। সন্তান হয়ে গেলে তো আর কথাই নেই!
স্বস্তিকা চিরকালই ছক ভাঙা। তাই এই তত্ত্বের ধার ধারেননি তিনি। সকলের সামনে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। মেয়ের সঙ্গেই বড় হয়েছেন যেন।


আজ মেয়ের বয়স ২১ বছর। মা ৪১। অসমবয়সি দুই বন্ধুর বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি বার বার নেটমাধ্যমে ভেসে ওঠে।
কাজের বিষয় ছাড়া নিজের প্রচারে বিশ্বাসী নন স্বস্তিকা। নেটমাধ্যমে ব্যবহার করেন ছবি, ওয়েবসিরিজ প্রচারের জন্য। মাঝে মধ্যে পরিবার বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ছবি দেন।


কিন্তু অতিমারি গ্রাস করার পর থেকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার মানুষকে সেবা করার অস্ত্র হয়ে উঠল তাঁর কাছে। শুধু মানুষ নন, কুকুর-বিড়ালকে বাঁচানোর জন্য বার বার সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন স্বস্তিকা।


রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে রাজনীতি করতে হয়নি তাঁকে। ব্যক্তিগত রাজনীতিই তাঁকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ডাক কম পাননি তিনি। রাজনৈতিক মঞ্চে মুখ দেখালে ছবির সুযোগ পাওয়া যাবে, এই ধরনের হাতছানি এড়িয়ে গিয়েছেন বার বার। শর্ত সাপেক্ষে সুযোগ দেওয়ার প্রবণতাকে সযত্নে এবং দাপটের সঙ্গে এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।
বাণিজ্যিক ছবিতে নাচ-গান করেই তিনি বিখ্যাত হয়েছেন বটে। কিন্তু ধীরে ধীরে চিত্রনাট্য বেছে নেওয়ার দিকে খুঁতখুঁতে হলেন স্বস্তিকা। এক দিকে যেমন তাঁর ঝুলিতে রয়েছে, ‘মস্তান’, ‘ক্রান্তি’, ‘সাথিহারা’-র মতো ছবি, অন্য দিকে রয়েছে, ‘০৩৩’, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস’, ‘জাতিস্মর’, ‘তবে তাই হোক’-ও।
অভিনয় ক্ষমতার জেরে আরব সাগরের পাড়ে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। মুম্বইয়ের টিনসেল নগরীতে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের সঙ্গে ‘ডিটেক্টিভ ব্যোমকেশ বক্সী’, ‘দিল বেচারা’ থেকে শুরু করে হিন্দি ওয়েব সিরিজ ‘ব্ল্যাক উইডো’, ‘পাতাললোক’-এ কাজ করে বিশেষ নজর কেড়েছেন।
বিতর্ক তাঁর ছায়াসঙ্গী। কিন্তু অভিনয় ক্ষমতা এবং ব্যক্তিজীবনে তাঁর আত্মবিশ্বাসের জন্য দর্শকের অফুরান ভালবাসা পেয়েছেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY