খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করল সৌদি আরব

293

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  সৌদি আরব সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায় তুর্কি শহর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুটের ভেতরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সরকারি এসপিএ প্রেস এজেন্সি শনিবার জানায়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভবনের ভেতরে সংঘর্ষের পরপরই খাসোগি মারা যান।

রাষ্ট্রীয় টিভি আরো জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সৌদি আরবের উপ গোয়েন্দা প্রধান আহমাদ আল-আসিরি এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র সহকারী সৌদ আল-কাহতানিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় টিভির নিউজ বুলেটিনে আরো বলা হয়েছে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে ১৮ সৌদি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এই প্রথম সৌদি রাজতন্ত্রের পক্ষ থেকে জামাল খাশোগির নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করা হলো।

মেজর জেনারেল আহমাদ আল-আসিরি ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে রাজতান্ত্রিক দেশটির শীর্ষ মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন
সৌদি রাজা সালমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার কিছুক্ষণ পর রাষ্ট্রীয় টিভির নিউজ বুলেটিনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগির সঙ্গে কয়েক ব্যক্তির ‘সংঘর্ষ’ হয় এবং এর জের ধরে তার মৃত্যু হয়েছে।
কলামিস্ট খাসোগি ছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট। তিনি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরোধী ছিলেন। গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে তিনি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন। এ সময় তার বাগদত্তা ছিলেন বাইরে।
খাশোগি হত্যার দায়ে বরখাস্ত হওয়া সৌদ আল-কাহতানি সৌদি রাজপ্রাসাদের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র উপদেষ্টা। এ ছাড়া, মেজর জেনারেল আহমাদ আল-আসিরি ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে রাজতান্ত্রিক দেশটির শীর্ষ মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সৌদ আল-কাহতানি সৌদি রাজপ্রাসাদের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র উপদেষ্টা
জেনারেল আসিরি ২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনের ওপর সৌদি বর্বরতা সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তুর্কি তদন্ত কর্মকর্তারা শুরু থেকে এই দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলে আসলেও রিয়াদ সেসব অভিযোগ বেমালুম অস্বীকার করে আসছিল।

গত ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করে গুম হয়ে যাওয়ার পর থেকে সৌদি রাজা সালমান, যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানসহ দেশটির সরকার দাবি করে আসছিল, খাশোগি তার কাজ শেষ করে কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন। রাজা এবং যুবরাজ খাশোগিকে হত্যা বা এ হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি কসম কেটে অস্বীকার করে আসছিলেন।

যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের নির্দেশেই জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারনা করা হচ্ছে
শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে আরো বলা হয়েছে, সৌদি রাজা সালমান দেশটির গোয়েন্দা বিভাগকে ঢেলে সাজানোর জন্য খাশোগি হত্যার মূল হোতা যুবরাজ সালমানকে প্রধান করে একটি মন্ত্রিপরিষদীয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY