বিক্রমাসিঙ্গে বরখাস্ত, শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে

264

 

রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন সিরিসেনা। ২০১৫ সালে রনিল বিক্রমাসিঙ্গের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি)-র সমর্থনেই প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরেই রনিল বিক্রামাসিঙ্গের সঙ্গে তিক্ততা চলছিল তার। শুক্রবার আচমকাই শাসক জোট থেকে সরে দাঁড়ায় সিরিসেনার ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ে শপথ নেন রাজাপাকসে।

গত ফেব্রুয়ারির স্থানীয় নির্বাচনে নতুন মঞ্চ ‘শ্রীলঙ্কা পিপলস ফ্রন্ট’ গড়ে বেশ ভালো ফল করেন রাজাপাকসে। এ দিকে, গত সপ্তাহে সিরিসেনা অভিযোগ করেন, তাকে এবং মাহিন্দার ভাই গোতাভায়া রাজাপাকসেকে খুনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে জেনেও গুরুত্ব দেয়নি ইউএনপি। সিরিসেনাকে খুনের ছক কষার অভিযোগে বৃহস্পতিবার নালাকা ডি’সিলভা নামে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিরিসেনাকে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ঘিরে ভারতের সঙ্গেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। ভারতীয় এক সংবাদপত্রে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ তাকে হত্যা করতে চাইছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন সিরিসেনা। দিল্লি এই অভিযোগ অস্বীকার করে।

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে সিরিসেনা-রাজাপাকসের দলের মিলিত আসনের চেয়ে এখনও ১১টি বেশি আসন রয়েছে রনিল বিক্রমাসিঙ্গের। আরো সাতটি আসন পেলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তাই রনিল বিক্রমাসিঙ্গের শিবির দাবি করে চলেছে, দেশের রাশ এখনো তাদেরই হাতে।

সাম্প্রতিক সময়ে রনিল বিক্রমাসিঙ্গের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করা হচ্ছিল রাজাপাকসের পক্ষ থেকে। সিরিসেনা ও রাজাপাকসে নিজেদের মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে একসাথে কাজ করার প্রয়াসও চালিয়ে আসছিলেন।
রনিল বিক্রমাসিঙ্গে ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত। আর ক্ষমতায় থাকার সময় রাজাপাকসে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উভয়েই ভারতের সমর্থন লাভের দিকে জোর দিয়েছিলেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। উভয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সফর করেছেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY