প্রকাশ্য দিবালোকে ইংল্যান্ডে মুসলিম তরুণীকে গুলি করে হত্যা

174

দৈনিক আলাপ আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লকডাউনে আটকা পরিবারের জন্য বাজার সদাই করতে গিয়েছিলেন ১৯ বছরের এক তরুণী। তার নাম আয়া হাশেম ।তিনি আইনের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন এক দাতব্য সংস্থায়। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই তাকে গুলি করে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। তিনি থাকেন ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকবার্ন শহরে। বলা হচ্ছে, তিনি ‘ভুল সময়ে ভুল জায়গায়’ গিয়েছিলেন তিনি। আর শিকার হন এক নৃশংস হামলার।

ইংল্যান্ডের ব্লাকবার্ন এলাকায় শপিং সেন্টারের বাইরে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক মুসলিম তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার স্থানীয় লিডল সুপার মার্কেটের বাইরে একটি সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি ওই তরুণীকে গুলি করা হয়। তবে দুর্বৃত্তরা তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি করেনি বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়া স্থানীয় সলফোর্ড ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের আইন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাজার করতে এসেছিল। লেবানিস বংশোদ্ভুত ওই তরুণীকে লিডল সুপার মার্কেটের সামনে বিকেল তিনটার দিকে গুলি করা হয়। ওই সুপার মার্কেটটি তার ঘর থেকে এক মাইলেরও কম দূরে অবস্থিত।

পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের ধারণা ওয়েলিংটন রোডে তাকে গুলি করতে একটি টয়োটা অ্যাভেনসিস গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। গাড়িটি পরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের সহযোগিতা কামনা করেছে।

আয়া হাসেম চিলড্রেনস সোসাইটির একজন তরুণ ট্রাস্টি ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী মার্ক রাসেল বিবিসিকে বলেন, তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণমূলক কণ্ঠ।

ব্ল্যাকবার্ন ও ডারউইন অঞ্চলে আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা দ্যা এসাইলাম অ্যান্ড রিফিউজি কমিউনিটি বলেছে, সে কান্ডজ্ঞানহীন একটি আক্রমণের শিকার।

ময়নাতদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে একটি গুলিতে তার মৃত্যু হয়।

আয়ার বাবা ইসমাইল ফেসবুকে মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘হে আল্লাহ আমাদের ধৈর্য ও সান্ত্বনা দাও।

আয়ার বন্ধু ব্লিন আজিজ বলেন, ‘আমি কীইবা বলতে পারি। আমরা এখনও স্তব্ধ হয়ে আছি। আয়া ছিল এমন এক মেয়ে যে সবার কথা শুনতো, যে-ই সাহায্য চাইতো তাদের জন্য চেষ্টা করতো। আমাদের সবার জন্য থাকতো সে। সে সত্যিকার অর্থেই ফেরেস্তার মতো, যে কিনা মর্ত্যে বসবাস করতো, কিন্তু তাকে নিয়ে নেওয়া হলো। তার এত এত স্বপ্ন ছিল। আন্তর্জাতিক আইনজীবী হতে চেয়েছিল।

আজিজ আরও বলেন, ‘আমি আয়াকে চিনি আমাদের স্নাতক শুরুর পর থেকেই। আমার একেবারে প্রথম দিককার বন্ধু ছিল। সে ছিল বুদ্ধিমতি, আত্মবিশ্বাসী, অপরের জন্য বিলিয়ে দেওয়া এক মেয়ে।

ব্ল্যাকবার্নের অ্যাসাইলাম অ্যান্ড রিফিউজি কমিউনিটি (এআরসি) প্রজেক্ট থেকেও হাশেমের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকে প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে জানাচ্ছি যে, আমরা আয়াকে হারিয়েছি। লেবানন থেকে আসা সামার ও ইসমাইলের মেয়ে ছিলেন তিনি।

২০১৭ সালের মার্চে হাশেম ও আরও ৩ জন মেয়ে জিতেছিলেন চিলড্রেন’স সোসাইটির স্টার অ্যাওয়ার্ড। ইয়ং রিপোর্টার্স শীর্ষক এক ফিল্ম প্রজেক্টের জন্য।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY