প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো ইরান, নিহত ১৯

184
ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো ইরান
ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ প্রচণ্ড ভয়াবহ বিস্ফোরনে কেঁপে উঠেছে ইরানের রাজধানী তেহরান। মঙ্গলবার উত্তর তেহরানের একটি ক্লিনিকে ওই শক্তিশালী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মঙ্গলবার এই বিস্ফোরণের খবর প্রচারিত হয়েছে। প্রাথমিক খবরে ১৩ জন নিহত হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল। পরে তেহরানের দমকল বিভাগের মুখপাত্র জালাল মালেকির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, বিস্ফোরণে মোট ১৯ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ১৫ জনই নারী।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে তেহরানের সিনা আতাহার স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ১৯ জন নিহত হওয়া ছাড়াও আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

বিস্ফোরণের সময় হতাহতদের কেউ কেউ ক্লিনিকের উপর তলার অপারেশন রুমে অবস্থান করছিলেন।

তেহরানের দমকল বিভাগের মুখপাত্র জালাল মালেকির জানান, হতাহতদের মধ্যে কয়েকজন ‘উপরের তলায়, অপারেশন কক্ষে ছিলেন – ‘তারা সম্ভবত রোগী কিংবা যাদের অপারেশন করা হয়েছিল বা তাদের সাথে ছিলেন।’ বিস্ফোরণের সময় হালকা সার্জিক্যাল ও মেডিকেল ইমেজিং চালিত এই ক্লিনিকটির অভ্যন্তরে ২৫ জন এমপ্লয়ি কাজ করছিলেন।

তিনি আরও জানান, ঘন ধোঁয়া ও তাপের কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এতগুলো মানুষ মারা গেছে। তবে দমকল কর্মীরা ক্লিনিকের ভিতর থেকে ২০ জনকে জীবিত বের করতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ক্লিনিকে একাধিক বিস্ফারণ হয়েছে এবং আগুন থেকে ঘন কালো ধূঁয়া বের হয়ে গোটা আকাশ আচ্ছাদিত হয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ধরে চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছে দমকল কর্মীরা।

এই বিস্ফোরণের কারণ হিসাবে গ্যাস লিকের কথা বলছে তেহরান কর্তৃপক্ষ। তেহরানের গভর্নরের হামিদরেজা গৌদারজি নামক একজন ডেপুটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাঙ্ক থেকে গ্যাস লিক হওয়ার কারণে ওই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই গোটা ক্লিনিকে আগুন ধরে যায়।

এসময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে তেহরানের ওই অগ্নিদগ্ধ ক্লিনিকের বাইরে প্রচুর লোক সমাগম দেখা গেছে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY