বছরে আয় ৪৬ কোটি ডলার, তালেবানরা অর্থ পায় কোথা, সমর্থন দিচ্ছে কে? ভয়েস অব আমেরিকার রিপোর্ট

64

দৈনিক আলাপ আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আকস্মিকভাবে পুরো আফগানিস্তানে ছড়িয়ে পড়েছে তালেবান। তারা দেশটির অর্ধেকের মতো দখল করে নিয়েছে। এতে অনেক বড় বড় কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকরা বিস্মিত হতে পারেন। এ কয়েকদিনে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, তাহলো তালেবানরা এই লড়াই করার অর্থ ও অস্ত্র পেল কোথা থেকে? পিছন থেকে কে তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে? এর জবাবে অনলাইন ভয়েস অব আমেরিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, তালেবানরা ব্যাপকভিত্তিতে অর্থ সংগ্রহ করেছে। এর ফলে মিলিয়ন মিলিয়ন এমনকি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তহবিলের মালিক তারা। গোয়েন্দা বিষয়ক এজেন্সিগুলো বলছে, তালেবানরা এ পর্যন্ত কি পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে তা যথাযথভাবে বলা সম্ভব নয়। আন্দাজও করা যায় না। তবে নতুন এক তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে তারা ৩০ কোটি ডলার থেকে ১৬০ কোটি ডলার সংগ্রহ করছে প্রতি বছর ।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ২০২১ সালের জুনে জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, তালেবানদের বেশির ভাগ অর্থ সংগ্রহ হয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। যেমন আফিম উৎপাদন, মাদক পাচার, চাঁদা দাবি, মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ থেকে। একটি গোয়েন্দা এজেন্সি বলেছে, শুধু মাদক পাচার থেকেই তালেবানরা আয় করেছে ৪৬ কোটি ডলার।
জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে বাড়তি অর্থ সংগ্রহ করেছে তালেবানরা। যেমন গত বছর তারা খনিজ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে দান করা অর্থে বড় সুবিধা পাচ্ছেন তালেবান নেতারা। জাতিসংঘ বলছে, এর মধ্যে বেসরকারি দাতব্য সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ পায় তারা। এ ছাড়া তাদের সম্পদশালী সমর্থকদের কাছ থেকেও অর্থ সহায়তা পায়। তবে আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অনেক বছর ধরে বলে আসছেন যে, তালেবানরা অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ পাচ্ছে রাশিয়ার কাছ থেকে।
২০১৮ সালের আগস্টে ভয়েস অব আমেরিকায় পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার কমান্ডার জেনারেল জন নিকোলসন তালেবানদের সমর্থন দেয়ার জন্য মস্কোকে দায়ী করেন। তিনি বলেছেন, এ জন্য আফগানিস্তানে যে সামরিক অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তা খর্ব করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ডে অংশীদারদের স্থিতিশীলতা পড়েছে প্রশ্নের মুখে। তিনি আরো বলেছেন, আফগানিস্তানকে অস্থিতিশীল করে তোলার প্রচেষ্টা থেকে বিরত হয়নি রাশিয়া। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং তার জোটের অংশীদারদের মধ্যে বিভক্তি বাড়াচ্ছে।
অন্য বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে অর্থ পাচ্ছে তালেবানরা। তবে তার চেয়ে কিছু কম অর্থ তারা পাচ্ছে ইরানের কাছ থেকে। তবে তালেবানরা শক্তি প্রয়োগ করে দেশের ক্ষমতা দখলের জন্য দৃশ্যত প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে মনে করা হয়। আফগানিস্তানকে তাদের মতো করে শাসন করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তাদের নেই বলে মনে করা হয়। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ডাটা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আফগানিস্তান সরকার খরচ করেছে ১১০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই এসেছে বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে। গত মাসে আফগানিস্তান পুনর্গঠন বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল জন সোপকো বলেছেন, তালেবানরাও বুঝতে পারে যে আফগানিস্তানের জন্য বৈদেশিক সহায়তা প্রয়োজন।
এ মাসের শুরুর দিকে আফগানিস্তান পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জালমে খলিলজাদ ভার্চুয়াল অ্যাসপেন সিকিউরিটি ফোরামে বলেছেন, তালেবানদের ওপর এখনও যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে আছে। তারা (তালেবান) বলেছে যে, তারা একটি নিচু মানের রাষ্ট্র হতে চায় না। তারা সহায়তা চায়। কিন্তু এ বিষয়ে সন্দিহান ওয়াশিংটনভিত্তিক ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজ-এর বিল রোজিও। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক বৈধতার পরোয়া করে না তালেবানরা। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো দেশ শাসন করা। উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, তালেবানরা জোরপূর্বক আফগানিস্তান দখল করে নিতে চায়। এতে কিছু সময়ের প্রয়োজন। অন্য মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর মতোই যখন তারা দেশ দখল করে নেবে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট তাদের হাতে। সরকারের একাউন্ট তাদের হাতে। এসব তথ্য দিয়েছেন ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসুচির পরিচালক ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ম্যাথিউ লেভিট। তিনি বলেন, বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা হারালেও তালেবানরা টিকে থাকবে। তবে সেটা তালেবানদের গোলপোস্ট নয়।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY