মমতার জয়ে এখনও চুপ মোদী-শাহ, কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও প্রতিক্রিয়াহীন দু’জনেই

35

দৈনিক আলাপ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ভবানীপুর উপনির্বাচনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরাট জয়ের পর বিভিন্ন মহল থেকেই প্রতিক্রিয়া এসেছে। মমতাকে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল ও বিজেপি-র অধুনা রাজ্যসভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। কিন্তু চুপ বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদই মমতার জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। তার পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়াই দিলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় সাফল্যের পর তৃতীয় বার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণের দিন অবশ্য মমতাকে টুইটে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছিলেন মোদী। মমতাও অনুযোগের সুরে বলেছিলেন, ‘‘এই প্রথম দেখলাম কোনও প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করলেন না।’’ যদিও গত বিধানসভায় নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে হেরেছিলেন মমতা। প্রতিপক্ষ ছিলেন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে রাজ্যে ২১৩টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল। সেই জয়ের পরও বাংলার তৃতীয় বারের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন করে শুভেচ্ছা না জানানো স্বাভাবিক ভাবেই নজর কেড়েছিল রাজনৈতিক মহলের।

নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পরও মমতা মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ায় তাঁকে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক পদে জিততেই হত। সে দিক দিয়ে ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতার এই বিরাট জয় যে তৃণমূলের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট। প্রিয়ঙ্কা এবং সুকান্ত মমতাকে শুভেচ্ছা জানালেও বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বা শুভেন্দু কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

শুধু মোদী-শাহই নন, গাঁধী পরিবারের তরফেও মমতার উদ্দেশে কোনও শুভেচ্ছা বার্তা সামনে আসেনি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত। গত বিধানসভার পর তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে গত জুলাই মাসে দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন মমতা। সেই সময়ে সনিয়া গাঁধী ও রাহুল গাঁধীর সঙ্গে ১০, জনপথে বৈঠকও করেছিলেন তিনি। আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে নজরে রেখে ওই বৈঠক বিজেপি বিরোধী জোটের জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছিল।

কিন্তু এই ভবানীপুর উপনির্বাচনের প্রচারে লাগাতার কংগ্রেসকে তৃণমূল নেতৃত্বের আক্রমণ সেই জল্পনায় জল ঢেলেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের দাবি। তার প্রেক্ষিতে মমতার জয়ে সনিয়া গাঁধী বা রাহুল গাঁধীর চুপ থাকাও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রবিবার সকালেই ভোট গণনা চলাকালীন সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব টুইটে লিখেছেন, ‘এই জয় মমতা দিদির জয়। এই জয় সত্যের জয়।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY