১১ জন বিধায়ককে নিয়ে দল ছেড়ে বৃহস্পতিবার তৃণমূলে যোগ দিলেন মেঘালয়ের কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা।

6
দৈনিক আলাপ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মেঘালয়ে (Meghalaya) তৃণমূলের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। ত্রিপুরার পুরভোটের আগের রাতেই উত্তর-পূর্বের এই পাহাড়ি রাজ্যে সংগঠন খুলে ফেলল ঘাসফুল শিবির। পরিণত হল মেঘালয়ের প্রধান বিরোধী দলে। কারণ, সে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা-সহ ১২ বিধায়ক যোগ দিলেন তৃণমূলে। যা কংগ্রেসের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।

উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে মেঘালয়ে মোট ১৮ জন কংগ্রেস (Congress) বিধায়ক রয়েছেন । এর মধ্যে ১২ জনই দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবারই মেঘালয়ে তৃণমূলের নতুন পথচলা শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যে দলবদলের সিদ্ধান্ত সেই রাজ্যের স্পিকারকে জানানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, মেঘালয়ে কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছিল। বিশেষ করে সে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা এবং কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি ভিনসেন্ট এইচ পালার সম্পর্ক বহুদিন ধরেই অম্লমধুর। সাংমার অভিযোগ ছিল, পালাকে প্রদেশ সভাপতির পদে বসানোর আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলেনি দলীয় নেতৃত্ব। ক্ষোভের সূত্রপাত সেই থেকেই। এর পর বিভিন্ন ইস্যুতে দু’ জনের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। সম্প্রতি দু’ জনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড রাহুল গান্ধী। মনে করা হচ্ছিল, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে।

এদিকে এর মাঝেই কলকাতায় এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুকুল সাংমা। তখনই দলবদলের জল্পনা দানা বাঁধছিল। এবার রাতারাতি দলের ১১ জন বিধায়ককে নিয়ে তৃণমূলে চলে এলেন তিনি। যা নিঃসন্দেহে কংগ্রেসের কাছে বড় ধাক্কা। 
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল। তার পর থেকেই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নিজেদের মাটি শক্ত করতে ঝাঁপিয়েছে ঘাসফুল শিবির। আর এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের বাইরে তৃণমূল নেত্রীর সফর মানেই নতুন কিছু প্রাপ্তি। এবারের দিল্লি সফরেও একের পর এক সর্বভারতীয়স্তরের নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। এবারের দিল্লি সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত আরও শক্ত করতে যোগ দিলেন ভারতের জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা কীর্তি আজাদ, হরিয়ানার প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অশোক তানওয়ার এবং প্রাক্তন জেডিইউ সাংসদ পবন বর্মা।  এবার কংগ্রেসকে দুর্বল করে তৃণমূলের হাত ধরলেন মেঘালয়ের ১২ বিধায়য়ক।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন হরিয়ানা কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অশোক তানওয়ার। প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কংগ্রেস নেতা কীর্তি আজাদও তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। কীর্তি বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন ২০১৯-এ। কিন্তু লোকসভা ভোটে তিনি পরাজিত হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরে তৃণমূলের কাছাকাছি এসেছেন জাভেদ আখতার, সুধীন্দ্র কুলকার্নি ও পবন বর্মারাও। এবার ১২ বিধায়ক নিয়ে মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চলে এলেন তৃণমূলে।

কিন্তু মুকুল হঠাৎ কেন কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? সূত্রের খবর, তাঁর বিরোধী বলে পরিচিত লোকসভার কংগ্রেস সাংসদ ভিনসেন্ট পালাকে মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। এরপরই তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে সাংমার। অবশেষে আজ আনুষ্ঠানিক দলবদল।
Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY