ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কারাগারে

506

বিশেষ প্রতিনিধি: সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির ঘটনায় গ্রেফতার ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টাকে রংপুরে দায়ের হওয়া একটি মামলায় সোমবার রাতে গ্রেফতার করে ঢাকার পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার তাকে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়।

মইনুলের জামিন শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার। তারা বলেন, মামলাটি জামিনযোগ্য ধারায় করা হয়েছে। এ ঘটনায় সারা দেশে একাধিক মামলা করা হয়েছে। রংপুরের যে মামলাটি করা হয়েছে সেটি অন্য একজন করেছেন। অপরদিকে ঢাকায় মাসুদা ভাট্টি নিজেই মামলা করেছেন। একই ঘটনায় একাধিক মামলা চলতে পারে না।

অপরদিকে মাসুদা ভাট্টির আইনজীবী নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, মইনুল যে বক্তব্য দিয়েছেন তার দ্বারা পুরো নারী জাতি কলঙ্কিত হয়েছে। মামলাটি জামিনযোগ্য ধারায় হলেও সার্বিক বিবেচনায় তার জামিন নামঞ্জুর করা হোক।

পরে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কিছু সময় পর পুলিশ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে কারাগারে নিয়ে যায়।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে নেওয়া হয়।

গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শো ‘একাত্তরের জার্নাল’ এ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন করেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন- আপনি বলেছেন আপনি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে সেখানে উপস্থিত থাকেন।’

মাসুদা ভাট্টির এই প্রশ্নে রেগে গিয়ে মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নেই। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।’

এ ঘটনায় গত রোববার ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে একটি মানহানির মামলা করেন মাসুদা ভাট্টি। একই অভিযোগ এনে জামালপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আরেকটি মামলা হয়। যদিও মামলা দু’টিতে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন ব্যারিস্টার মইনুল। তবে সোমবারও তার বিরুদ্ধে রংপুরসহ চার জেলায় মামলা হয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে যা বলেছেন তাতে শুধু তার মানহানি হয়েছে তা নয়। এতে বাংলাদেশের নারী সমাজ মনে করে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাটি পুরো নারী সমাজকে অপমানিত করেছে।

তিনি বলেন, এই মামলা করার পর আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কোন পদক্ষেপ না নিলে নারী সমাজ ক্ষুব্ধ হতো। সে জন্যই আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY