বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতার লাশ মিললো বুড়িগঙ্গায়

191

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবুর লাশ মিলেছে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে। তিনি বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দিতে ঢাকায় এসেছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের ফেসবুক পেজে এ বিষয়টি দেখে আবু বকর আবুর লাশ সনাক্ত করেন তার ভাতিজা হুমায়ূন কবির।

নিহত আবু বকর আবু যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। মঙ্গলবার রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে।

এর আগে রোববার রাত ৮টার পর রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে তার পরিবার থেকে দাবি করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য আবু বকর আবু গত ১২ নভেম্বর ঢাকায় যান। পল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলের চতুর্থতলায় ৪১৩নং রুমে থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে ও জমা দিয়ে সোমবার সাক্ষাৎকার বোর্ডে অংশ নেয়ার জন্য ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন।

রোববার রাত ৮টার দিকে তার সঙ্গী মজিদপুর ইউপি মেম্বার সাইফুল ইসলাম ওষুধ কিনে ফিরে এসে তাকে আর রুমে পায়নি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে কেশবপুরে অবস্থানরত তার এক ভাগ্নের মোবাইলে কয়েকবার মিসকল আসে। প্রত্যেকবার ব্যাক কলে শুধু হ্যালো হ্যালো ছাড়া কোনো কথা হয়নি। এরপর ০৯৬৩৮৮৮৮২০২ নম্বর মোবাইল থেকে ওই ভাগ্নের কাছে ফোন দিয়ে তার মামার জন্য দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ জন্য ওই রাতে কয়েকটি বিকাশ নম্বরও সরবরাহ করেন তারা। কিন্তু রাত ১২টার পর বিকাশের ট্রানজিট বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার সকালে অপহরণকারীরা ০১৭৪৮১১০৫৭৭ নম্বর মোবাইল থেকে পুনরায় যোগাযোগ করে।

এরপর তাদের দেয়া বিভিন্ন নম্বরে দেড় লাখ টাকা বিকাশ করা হয়। পরবর্তীতে সকাল ৯টার দিকে অপহরণকারীরা দেড় লাখ টাকার প্রাপ্তি স্বীকার করে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। বহু অনুরোধের পর অপহরণকারীরা ২০ হাজার টাকা বিকাশ করার জন্য দুটি নম্বর সরবরাহ করে বলেন, ওই টাকা পাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে আবু বকর আবুকে ওই হোটেলের সামনে ছেড়ে আসা হবে। সাড়ে ১০টার দিকে ২০ হাজার টাকা বিকাশ করার পরও তাকে ছাড়া হয়নি এবং তারা আর মোবাইল রিসিভ করেনি। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে অপহরণকারীদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

অবিবাহিত আবু বকর আবুর ছোট বোন আঞ্জুমানারা বলেন, আমার ভাই কেশবপুরের বিএনপি নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ছিল।

কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, আবু বকর সিদ্দিক বিএনপির শুরু থেকেই দলের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি ২০০১ সাল পর্যন্ত কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে যশোর জেলার সহ-সভাপতি। তিনি একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY