মা তানিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ গুম করেন!!

294

নোয়াখালী প্রতিনিধি :  নোয়াখালীর মাইজদী শহরে কলেজছাত্রী তাবাসসু তানিয়া চমককে (২২) তার মা শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ছোট বোন তাসনিম তাহসিন চাঁদনী। জেলা পুলিশের এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

শনিবার পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ নিজ সভাকক্ষে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, গত ১২ নভেম্বর মাইজদী শহরের জয়কৃষ্ণপুর এলাকার শাহজাদা এনামুল হক হিমেলের স্ত্রী সাজেদা আক্তার নিপু তার মেয়ে তানিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না উল্লেখ করে সুধারাম মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। এরপর ১৫ নভেম্বর তাদের বসত ঘরের পাশে ডোবা থেকে পুলিশ তানিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।এর পর তানিয়ার ছোট বোন তাসনিম তাহসিন চাঁদনী পুলিশকে জানায়, তার মা তানিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ গুম করেন।

শুক্রবার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. শয়েব উদ্দিন খাঁন এই ঘটনায় চাঁদনীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। চাঁদনীকে কারাগারে পাঠানো হয়। পাশাপাশি মা সাজেদা আক্তার নিপু ও মামা জাহিদুল ইসলাম সোহেলের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।প্রেসব্রিফিংয়ে মো. ইলিয়াছ শরীফ জানান, অনার্সে পড়া অবস্থায় তাপস নামের এক হিন্দু সহপাঠীর সঙ্গে প্রেমে জড়ান তানিয়া। পরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। হত্যাকাণ্ডের ছয়দিন আগে তানিয়া ও তার ছোট বোন চাঁদনীকে বাসায় রেখে তানিয়ার বাবা শাহজাদা এনামুল হক ও মা সাজেদা আক্তার নিপু ডাক্তার দেখানোর জন্য ঢাকায় যান।১১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ফেরেন তানিয়ার মা নিপু। মায়ের অনুপস্থিতিতে তানিয়া প্রেমিক তাপসের সঙ্গে সারাক্ষণ ফোনে কথা বলেছেন জানিয়ে অভিযোগ করেন ছোট বোন চাঁদনী।

হিন্দু ছেলে হওয়ায় বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি মা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সাড়ে ১০টার তানিয়াকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তানিয়া মেঝেতে পড়ে গেলে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তানিয়াকে হত্যা করেন মা।তিনি আরও জানান, পরে মা নিপু তার ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম সোহেলের সহযোগিতায় ঘরের পাশের একটি ডোবার তানিয়ার মরদেহ ফেলে দেয়। তিনদিন পর তাদের বাসার পাশের ডোবা থেকে তানিয়ার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন রাতে তানিয়ার প্রেমিক তাপসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ বলেন, এ ঘটনায় তানিয়ার বাবা শাহজাদা এনামুল হক হিমেল বাদী হয়ে মামলা করেছেন বলেও জানান পুলিশ সুপার।

মা ও মামাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজতে (রিমান্ড) নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এসপি জানান।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY