দুলুসহ বিএনপির অর্ধশত নেতা কারাগারে

225
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে বুধবার ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়াও এদিন বিভিন্ন মামলায় দলের অর্ধশত নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে দেড় ডজন নেতাকর্মীর বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

দুলু গ্রেফতার : দুলুর সহকারী শামসুল আলম রনি বলেন, ‘ডিবির লোকজন এসে বাসা থেকে তাকে (দুলু) নিয়ে গেছে।’ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘শেরেবাংলা নগর থানার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। মামলা নং ১৯। ওই মামলায় দুলু চার্জশিটভুক্ত আসামি।’

সূত্র জানায়, বেলা ১১টায় গ্রেফতারের পর দুলুকে প্রথমে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় পুলিশ। তবে দুলুর আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান দুলুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আইনজীবীরা তার ডিভিশন চাইলে আজ এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। সেই সঙ্গে মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন ২৩ ডিসেম্বর।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী দুলু হাইকোর্টে রিট করে নাটোর-২ আসনের জন্য প্রার্থিতা ফেরত পান। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে মঙ্গলবার চেম্বার আদালত ওই আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। ওই বেঞ্চ বুধবার সিদ্ধান্ত দেন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।

ধরপাকড়ের অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে শাহজাহান আটক : ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুস সালাম দুপুরে শাহজাহানকে নিয়ে ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ধরপাকড়ের অভিযোগ দেন। বেরিয়ে যাওয়ার আধাঘণ্টা পরে আবার ফেরত এলে সাংবাদিকরা কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, ইসি থেকে বেরিয়ে পথে শাহজাহানকে নামিয়ে দিই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে যখন যাই, তখন ফোন আসে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন শাহজাহানকে ধরে নিয়ে গেছে।

আইডিবি ভবনের সামনে থেকে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ জানিয়েছে তারা এমন কোনো ব্যক্তিকে আটক করেনি। বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, বিষয়টি মর্মান্তিক ও দুর্ভাগ্যজনক। নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিভাবে নির্বাচন হবে? অভিযোগ জানিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন ভবনের কয়েকশ’ গজের মধ্যে বিএনপি নেতাকে আটকের ঘটনা বিস্ময়কর।

আবদুস সালাম বলেন, আমি ইসি সচিবকে জানিয়েছি, আপনাদের কাছে অভিযোগ দেয়ার কিছুক্ষণ পরই কিভাবে আমার একজন কর্মী আটক হয়? আমরা কোথায় যাব, আমরা কি নির্বাচন করব না?

বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, আটক ওসমান গণি শাহজাহানের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই। সব মামলায় জামিন থাকা সত্ত্বেও এভাবে আটক করে নিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন করা অসাধ্য হয়ে যাবে। কেননা, ধরপাকড়ের ভয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে পারছেন না। আমরা এখনও পোস্টারই টানাতে পারছি না।

অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর, বুধবার বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

অর্ধশত নেতাকর্মী কারাগারে : রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা নাশকতার মামলায় দুলু ছাড়াও বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম। এদের মধ্যে রয়েছেন- রামপুরা থানার হানিফ উদ্দিন আহমেদ হিমু, বংশাল থানার আরিফুল ইসলাম নাদিম ও জাহিদ হাসান, বিমানবন্দর থানার শাকিল হাসান, উত্তরা দক্ষিণ থানার কাজী মাহবুব হাসান ও রফিকুল হাসান, তুরাগ থানার আবু জায়েদ, মো. রবিউল ইসলাম ও মো. শাহিদ, উত্তর পশ্চিম থানা আবদুল মান্না জুয়েল, কদমতলী থানার শহিদুজ্জামান, বনানী থানার উসমান গণি খোকন ও হুমাউন কবীর, বাড্ডা থানার মাসুম গাজী ও জাহিদুর ইসলাম জাকির প্রমুখ।

নাশকতার বিভিন্ন মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড ও জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে দেড় ডজন নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে রয়েছেন- মিরপুর থানার আবদুল মতিন, মির্জা হেদায়েত উল্লাহ, গাজী ফেরদোস ও দায়েম হোসেন, শেরেবাংলা নগর থানার দলিলুর রহমান দুলাল, ইলিয়াস হোসেন ও কামরুল ইসলাম, তেজগাঁও থানার জাকির হোসেন পলাশ প্রমুখ।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY