প্রথম ধাপে মুক্ত ৫৫৫ বন্দি, মুক্তির অপেক্ষায় আরও ২৩২৯ জন

190

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্কঃ দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কারাবন্দি থাকায় বেড়ে গেছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি। এ পরিস্থিতি প্রথম ধাপে জামিনযোগ্য অপরাধে আটক ৫৫৫ জন কারাবন্দি মুক্তি পেয়েছেন। চলতি সপ্তাহে আরও দুই ধাপে মুক্তি পাবে ২৩২৯ কারাবন্দি।

কারগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, করোনা ঝুঁকিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার তিন ধাপে তিন ধাপে ২ হাজার ৮৮৪ বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনি ও রোববার ৫৫৫ বন্দি ছাড়া পেয়েছেন। চলতি সপ্তাহেই বাকিরাও মুক্তি পাবেন।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা গণমাধ্যমকে বলেন, তিন ধাপে সাজাপ্রাপ্ত প্রায় তিন হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তাদের সবার লঘুদণ্ড হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

দেশে ৬৮টি কারাগারে ৯০ হাজারের মতো বন্দি রয়েছে, যা কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি। কোভিড-১৯ অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে বলে কারাগারগুলোতে ঝুঁকির মাত্রা থাকে অনেক বেশি। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারের স্টাফ কোয়ার্টারে থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে বন্দিদের ডিউটি করা ১২ জন কারারক্ষী এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে একাধিক দেশ এরই মধ্যে কারাগার থেকে অনেক বন্দি মুক্তি দিয়েছে। বাংলাদেশও কারাগারগুলোর চাপ কমাতে চায়। সম্প্রতি সারাদেশের ৬৮টি কারগারে লঘুদণ্ড পাওয়া বন্দির তালিকা তৈরি করে কারা অধিদপ্তর। ২ হাজার ৮৮৪ জনের ওই তালিকা থেকে শনিবার ১৭০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। আর রোববার আরও মুক্তি দেওয়া হয় ৩৮৫ জনকে।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, যাদের সর্বোচ্চ এক বছর সাজা হয়েছিল তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তালিকা করা বন্দীদের ছয় মাস থেকে এক বছর, তিন মাস থেকে ছয় মাস এবং শূন্য থেকে তিন মাস- এই তিনটি ভাগে ভাগ করে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। যারা মুক্তি পাচ্ছেন তাদের কেউ এক মাস আবার কেউ ৯ মাস জেল খেটেছেন। শিশু অপহরণ, ধর্ষণ বা হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কেউ মুক্তি পাচ্ছেন না। বিচারাধীন কোনো মামলার আসামিকেও মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY